বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

ঐশ্বরিয়ার জন্মদিনে ফিরে দেখা: সালমানের সঙ্গে প্রেম, বিচ্ছেদ আর দুই পথের গল্প

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬6 মিনিটে পড়ুন
সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেম-বিচ্ছেদ নিয়ে তৈরি গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

আজ ১ নভেম্বর ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ৫৩তম জন্মদিন। এই দিনে ফিরে দেখা যাক তার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়টি, সালমান খানের সঙ্গে প্রেম আর বিচ্ছেদের গল্প। একসময় বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমিক যুগল ছিলেন তারা। হাম দিল দে চুকে সানাম ছবির সেটে শুরু হওয়া সেই প্রেম নিয়ে ছিল বিয়ের জল্পনাও। কিন্তু ভালোবাসার সেই গল্প শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় তিক্ত বিচ্ছেদে।

সালমান ও ঐশ্বরিয়ার ঘনিষ্ঠতার খবর আলোচনায় আসে সঞ্জয় লীলা বানসালির হাম দিল দে চুকে সানাম ছবির সময়। ১৯৯৯ সালে ছবিটির শুটিং শুরুর পর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন বাড়তে থাকে। পর্দায় প্রেমিক-প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে বাস্তব জীবনেও কাছাকাছি আসেন তারা। ছবিতে তাদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পেয়েছিল, ছবিটি মুক্তির পর সেই আলোচনায় আরও ঘি পড়ে।

তখন সালমান বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা। ম্যায়নে পেয়ার কিয়া, হাম আপকে হ্যায় কৌন, করণ অর্জুনসহ একাধিক সফল ছবি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর ঐশ্বরিয়া ধীরে ধীরে হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন। দুজনের বয়স, তারকাখ্যাতি কিংবা ক্যারিয়ারের অবস্থান, সব দিক থেকেই তারা ছিলেন আলোচিত জুটি। একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি, পরস্পরের প্রতি ঘনিষ্ঠতা আর শুটিংয়ের বাইরেও দেখা হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে জায়গা পেত।

সালমান ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক যে কেবল সাময়িক আকর্ষণ ছিল না, সে কথা বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদন ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। সম্পর্কটি নিয়ে দুজনই নাকি বেশ সিরিয়াস ছিলেন, এমনকি বিয়ের সম্ভাবনা নিয়েও তখন আলোচনা চলছিল। তবে ঐশ্বরিয়ার পরিবারের সঙ্গে সালমানের সম্পর্ক খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সালমানের আগের প্রেমের সম্পর্ক, বিশেষ করে সোমি আলী ও সংগীতা বিজলানির সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতিহাস নিয়ে ঐশ্বরিয়ার পরিবারের আপত্তি ছিল বলে পরবর্তী সময়ে দাবি করেন সাংবাদিক হানিফ জাভেরি।

২০২৫ সালে মেরি সহেলি পডকাস্টে বলিউডের আলোচিত প্রেম ও বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হানিফ দাবি করেন, সালমান ও ঐশ্বরিয়া দুজনই সম্পর্কটিকে পরবর্তী ধাপে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সালমানের নাম অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় ঐশ্বরিয়ার পরিবার তাকে নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেনি। অবশ্য এটি সাংবাদিকের পরবর্তী সময়ের বক্তব্য। ঐশ্বরিয়া নিজে তাদের সম্পর্ক ভাঙার একমাত্র কারণ হিসেবে পরিবারের আপত্তির কথা বলেননি। বরং তার প্রকাশ্য বক্তব্যে সম্পর্কের ভেতরের আচরণ, সন্দেহ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রেমের শুরুতে যে সম্পর্ক নিয়ে এত উচ্ছ্বাস ছিল, সময়ের সঙ্গে তাতে তৈরি হয় টানাপোড়েন। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে অন্য অভিনেতাদের নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সালমান তা সহজভাবে নিতে পারতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পরও সালমান বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি ফোন করে নানা ধরনের কথা বলতেন, তার সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতেন। ঐশ্বরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরুখ খান থেকে শুরু করে অভিষেক বচ্চন, বিভিন্ন সহ-অভিনেতার সঙ্গে তার নাম জড়ানো হয়েছিল, আর এসব নিয়ে সালমানের সন্দেহ ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছিল।

ঐশ্বরিয়া ওই সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর অভিযোগ করেন। তার দাবি, সম্পর্কের সময় সালমান কখনো কখনো তার সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করতেন। এমন পরিস্থিতির পরও তাকে কাজে যেতে হতো স্বাভাবিকভাবে। বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কঠিন সময় পার করছিলেন। এখানে মনে রাখা জরুরি, এগুলো ঐশ্বরিয়ার নিজের অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত বক্তব্য, আদালতের কোনো রায় নয়।

সালমান অবশ্য শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে মিড-ডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ঐশ্বরিয়াকে তিনি কখনো মারধর করেননি। তার দাবি, আবেগের বশে তিনি কখনো নিজের ক্ষতি করতেন, দেয়ালে মাথা ঠুকতেন, কিন্তু অন্য কাউকে আঘাত করতেন না। পরবর্তী সময়েও এ অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালমান তা অস্বীকার করেছেন। ২০২৫ সালে এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার পুরোনো বক্তব্য আবার সামনে আসে, সেখানে সালমান বলেন, ঐশ্বরিয়াকে আঘাত করার অভিযোগ সত্য নয়।

সালমান ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ২০০১ সালের নভেম্বরের। সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এক রাতে সালমান ঐশ্বরিয়ার মুম্বাইয়ের বাসায় গিয়ে দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ধাক্কাধাক্কি করেন। ২০১৬ সালে রেডিফে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সালমানের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের কথাও তুলে ধরা হয়। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে সালমান ঘটনাটি ঘটেছিল বলে স্বীকার করেছিলেন। তবে তার দাবি ছিল, সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করা হয়েছিল। সালমান তখন বলেছিলেন, সম্পর্কে ঝগড়া হতেই পারে, আর ঐশ্বরিয়ার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কথাও তিনি স্বীকার করেছিলেন।

সম্পর্ক ভাঙার পরও সালমান ও ঐশ্বরিয়াকে ঘিরে বিতর্ক থামেনি। বিশেষ করে শাহরুখ খানের চলতে চলতে ছবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ছবিটিতে শাহরুখের বিপরীতে অভিনয়ের কথা ছিল ঐশ্বরিয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর দেখা যায়নি, তার জায়গায় অভিনয় করেন রানি মুখার্জি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শুটিংয়ের সময় সালমান সেখানে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত আচরণ করেছিলেন, আর ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ছবির কাজেও পড়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়।

অবশেষে ২০০৩ সালের ৬ এপ্রিল এক বিবৃতিতে ঐশ্বরিয়া সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি পেশাগত সম্পর্কও শেষ করার কথা জানান। দুই পৃষ্ঠার ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিজের ভালো থাকা, মানসিক শান্তি, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানের কথা ভেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সালমান-অধ্যায়কে নিজের জীবনের দুঃস্বপ্ন বলেও উল্লেখ করেন ঐশ্বরিয়া। জানান, প্রায় দুই বছর আগেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করেছিলেন, কিন্তু এরপরও ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তাকে নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

বিচ্ছেদের পর দুজনের জীবন এগিয়েছে দুই ভিন্ন পথে। ঐশ্বরিয়া পরবর্তী সময়ে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। ২০০৭ সালের এপ্রিলে তাদের বিয়ে হয়, বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকা দম্পতি হয়ে ওঠেন তারা। ২০১১ সালে তাদের কন্যা আরাধ্যার জন্ম হয়। অন্যদিকে সালমান খান নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। তেরে নাম, ওয়ান্টেড, দাবাং, বজরঙ্গি ভাইজান, সুলতানসহ একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে বক্স অফিসে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তার জীবনে একাধিক সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও বিয়ে করেননি তিনি।

২০১২ সালে সিমি গারেওয়ালের টেলিভিশন অনুষ্ঠান রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়ালে অংশ নিয়ে সালমানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান ঐশ্বরিয়া। সিমি তাকে অতীতের সেই সম্পর্ক নিয়ে নিরপেক্ষভাবে ভাবতে বলেন। উত্তরে ঐশ্বরিয়া জানান, তিনি বিষয়টি নিজের জীবন থেকে সরিয়ে ফেলেছেন, অতীতকে অতীতেই রাখতে চান। তার ভাষায়, সেই অধ্যায়ের সঙ্গে নিজের সব নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ইতি টেনেছেন তিনি। প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে চান না, কারণ তার জীবনের সঙ্গে পরিবার ও কাছের মানুষদের জীবনও জড়িয়ে আছে।

ঐশ্বরিয়ার জন্মদিনে এই ফিরে দেখা তাই শুধু পুরোনো প্রেমের গল্প নয়, দুই তারকার দুই পথের গল্পও। একদিকে মিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিশ্বতারকা হয়ে ওঠা এক অভিনেত্রী, যিনি অতীতকে পেছনে ফেলে পরিবার আর ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়েছেন। অন্যদিকে বলিউডের ভাইজান, যিনি ক্যারিয়ারের শীর্ষেই থেকে গেছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের পথে হাঁটেননি। আর এই দুই পথের মাঝখানে থেকে গেছে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পটি, যা আজও দর্শকের মনে সমান কৌতূহল জাগায়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন