ঠিকানা সিনেমাকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েনে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা শরিফুল রাজ। প্রযোজকপক্ষের পাঠানো আইনি নোটিশের পর এতদিন তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কিন্তু ১ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর একটাই, পেশাগত আলোচনার পথ ছেড়ে নোটিশ পাঠানো হলে তিনিও আইনি পথেই জবাব দেবেন।
বিতর্কের শুরুটা চুক্তি আর শিডিউল নিয়ে। রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের প্রযোজক শাহরিন আক্তারের অভিযোগ, ঠিকানা সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েও রাজ যথাসময়ে শুটিংয়ের শিডিউল দিচ্ছেন না, আর একই ঈদে অন্য ছবির কাজের ঘোষণা দিয়েছেন। এই অভিযোগে ২৮ অক্টোবর তাঁর পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার সজিব মাহমুদ আলম। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিডিউল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়, না হলে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
রাজের পাল্টা প্রশ্ন, প্রযোজকপক্ষ আসলে কী চায়, সেটাই পরিষ্কার নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একবার টাকার কথা বলা হচ্ছে, আবার শিডিউলের কথা বলা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, টাকা চাইলে তা নিয়ে যাওয়া যাক, আর শিডিউল চাইলে তা তিনি অবশ্যই দেবেন। অভিনয়ের জন্যই তিনি সিনেমায় এসেছেন, আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দেননি, এমন অভিযোগ কেউ করতে পারবে না বলে দাবি তাঁর।
মুক্তির সময় নিয়েও দুই পক্ষের ব্যাখ্যায় ফারাক স্পষ্ট। রাজের দাবি, চুক্তির ৪.১১ ধারা আর আইনি নোটিশের দ্বিতীয় ধারায় সিনেমাটির মুক্তি বা মুক্তির শিডিউলের বিষয়টি উল্লেখ আছে, কিন্তু সেখানে বলা হয়েছে ছবিটি ঈদে অথবা ঈদের পরে মুক্তি পাবে। তাঁর যুক্তি, চুক্তিতে কোথাও লেখা নেই যে অন্য কোনো সিনেমা করা যাবে না, কিংবা ছবিটি কেবল ঈদেই আসতে হবে। এমনকি নোটিশেও ঈদের পরে মুক্তির কথা উল্লেখ আছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রযোজকপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। তাদের নোটিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে রাজ অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়েছেন, আর চুক্তির শর্তে ঠিকানা মুক্তির সময়ে তাঁর প্রধান বা উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনীত অন্য কোনো প্রজেক্ট মুক্তি পাবে না বলে উল্লেখ আছে। তাদের আরও অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ফেসবুকে রাজ জানান তিনি কানাভুলা প্যারাডক্স নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যেটিও একই ঈদে মুক্তির কথা। এর পর ঠিকানার স্পনসর ও অংশীজনেরা সরে যেতে চাইছেন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে আরও একটি পুরোনো ধাপ আছে। নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার নোটিশ পাঠিয়ে চারটি দাবি জানানো হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী ছবির প্রচার বন্ধ করা, ফেসবুক পোস্ট সরানো, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং চুক্তি মেনে চলার লিখিত নিশ্চয়তা। তখন শিল্পী ও তাঁর ব্যবস্থাপক সরাসরি যোগাযোগ করে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মেটানোর কথা বললেও শুটিংয়ের কোনো সময়সূচি দেওয়া হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন নোটিশে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত শুটিংয়ের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঠিকানা সিনেমাটি পরিচালনা করছেন জুবায়ের ইবনে বকর, আর এটি ২০২৭ সালের ঈদুল আজহা বা তার পরে মুক্তির পরিকল্পনায় আছে বলে নোটিশের তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। রাজ অবশ্য বলেছেন, সিনেমাটি ঈদেই আসবে, এটা যেমন নিশ্চিত নয়, তেমনি অন্য সিনেমা করা যাবে না, এমন শর্তও চুক্তিতে নেই বলে তাঁর ধারণা। তাঁর কথায়, পেশাগত জায়গায় শিডিউল নিয়ে এমন অভিযোগ আর আইনি নোটিশ তাঁকে হতবাক করেছে, কারণ তিনি কাজ নিয়েই ভাবতে চান।
এরপর কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একদিকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা, অন্যদিকে অভিনেতার আইনি পথে যাওয়ার ঘোষণা, দুটো মিলে ঠিকানার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। রাজ অবশ্য প্রযোজক ও পরিচালকের প্রতি সম্মান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। তবে সমঝোতা হবে, নাকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েকদিনের আলোচনার ওপর। এই বিতর্কের পরবর্তী মোড় এলে সেই খবরও জানিয়ে দেওয়া হবে।
