একসঙ্গে ১০ বছর পরে দেখা। মুহূর্তেই জমে উঠল আড্ডা। ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ‘আইসক্রিম’ সিনেমা। সেই মুক্তি আর সিনেমাটির পরিচালক, চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনির জন্মদিন উপলক্ষে এক হয়েছিলেন তারকা ও কলাকুশলীরা। ছিলেন সিনেমার প্রধান তিন মুখ শরীফুল রাজ, কুমার উদয় ও নাজিফা তুষি। এ ছাড়া রায়হান রাফী, শাহরিয়ার শাকিলসহ অনেকেই এসেছিলেন আড্ডায়।
আড্ডার মাঝেই মন খারাপ করে দিলেন প্রয়াত অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান, পারভিন সুলতানা দিতি আর সায়েম। কারণ, তাঁরাও ছিলেন এই সিনেমার অভিনয়শিল্পী। ১০ বছর আগের শুটিংয়ের স্মৃতি মনে পড়তেই প্রিয় মানুষগুলোর চলে যাওয়া আবার ব্যথিত করল সবাইকে।
অভিনেতা শরীফুল রাজ জানিয়েছেন, সেই আড্ডায় ১০ বছর আগের সেই সময়কে খুবই মিস করেছেন তিনি। তখন সিনেমায় তিনি নতুন, তেমন কোনো পরিচিতি ছিল না। অনেক মজা করে তাঁরা সিনেমার শুটিং করেছিলেন। শুটিংয়ে প্রথম তাঁর এটিএম শামসুজ্জামানের সঙ্গে দেখা হয়, একসঙ্গে শুটিং হয়। তাঁর অনেক স্নেহ পেয়েছিলেন রাজ। একই সঙ্গে দিতির সঙ্গে অনেক বিষয়ে কথা হতো। তাঁরা অভিজ্ঞতা থেকে অভিনয় ও ক্যারিয়ার নিয়ে পরামর্শ দিতেন। সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁদের চলে যাওয়া ব্যথিত করেছে সবাইকে।
অভিনেতা উদয় বলেছেন, সিনেমায় এটিএম শামসুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর বেশ কিছু দৃশ্য ছিল। কীভাবে ডায়ালগ দিতে হবে, এক্সপ্রেশন দিতে হবে, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে স্যার বলতেন। সব সময় বলতেন, সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে। তাঁরা অনেক গুণী শিল্পী ছিলেন, সিনেমায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ মানেই অনেক বড় কিছু ছিল। আবার সায়েম ছিলেন তাঁদের বন্ধুর মতো। তাঁর প্রয়াণও সবাইকে ব্যথিত করেছে।
উদয় আরও বলেছেন, ‘মন খারাপ হলো একসঙ্গে, এই মনে হয় সেদিন শুটিং করলাম। এখন তাঁরা দুনিয়ায় নাই। আড্ডায় কিছু সময়ের জন্য আমাদের মন খারাপ হয়ে গেল।’ এই একটি লাইনেই ধরা পড়েছে ১০ বছরের দূরত্ব আর হঠাৎ ফিরে আসা স্মৃতির ভার।
প্রয়াত শিল্পীদের কথা মনে করিয়ে দেয় ‘আইসক্রিম’-এর ইতিহাস। অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সূত্রাপুরে নিজ বাসায় মারা যান। অন্যদিকে সিনেমাটি মুক্তির আগেই মারা যান পারভীন সুলতানা দিতি। এই সিনেমায় অভিনয় করেন তরুণ মেধাবী অভিনেতা সায়েম সাদাত। তিনিও সিনেমা মুক্তির এক বছর আগে ২০১৫ সালের ১১ মে রাতে মারা যান। দিতি ও সায়েমকে সিনেমাটি উৎসর্গ করা হয়েছিল। ‘আইসক্রিম’ সিনেমায় তুষির দাদার চরিত্রে অভিনয় করেন এটিএম শামসুজ্জামান। অন্যদিকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন দিতি।
রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘আইসক্রিম’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এক প্রজন্মের অভিনেতাদের শুরুর দিকের কাজ। রাজ, উদয়, তুষির ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের ছবি এটি। তাই চরকিতে মুক্তির পর আবার সবাই এক হওয়া মানে শুধু একটি সিনেমার উদযাপন নয়, একসঙ্গে পথচলার স্মৃতিচারণও।
আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক রায়হান রাফী ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিলসহ আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতি আড্ডাটিকে শুধু ‘আইসক্রিম’ টিমের পুনর্মিলনীতে আটকে রাখেনি, বরং বর্তমান সময়ের বাংলা সিনেমার মানুষদের এক মিলনমেলায় পরিণত করেছে।
যাঁরা এতদিন ‘আইসক্রিম’ দেখেননি, তাঁরা এখন চরকিতে সিনেমাটি দেখতে পারবেন। আর যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের জন্য এই আড্ডার খবরটি সিনেমাটিকে নতুন করে মনে করিয়ে দিল। ১০ বছর পর এক হওয়া তিন মুখ, আর যাঁরা নেই, তাঁদের স্মৃতি, সব মিলিয়ে এই পুনর্মিলনী বাংলা সিনেমার একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকল।
