বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

দেশের প্রথম এআই চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’ পেল মুক্তির অনুমতি: কাটছাঁট ছাড়াই ছাড়পত্র দিল সার্টিফিকেশন বোর্ড

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩০ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
দেশের প্রথম এআই চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’-এর মুক্তির অনুমতির খবরের নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত দেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’ এখন মুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে সিনেমাটি কর্তন ছাড়াই, অর্থাৎ আনকাট মুক্তির অনুমতি পেয়েছে। ৩০ অক্টোবর এই খবর জানা গেছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যরা সিনেমাটি দেখে তার প্রশংসা করেছেন এবং কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। একটি এআই দিয়ে বানানো সিনেমার জন্য এই ছাড়পত্রকে নির্মাতারা বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। কারণ, সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো সিনেমা আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া যায় না, আর আনকাট ছাড়পত্র মানে নির্মাতার সংস্করণটিই দর্শকের সামনে যাবে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। ‘গ্যাপ’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এআই ভিজুয়াল আর্টিস্ট আর্ক শিহাব, পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ নিজে, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাফি ও জাহাঙ্গীর আলম। এখানে ‘অভিনয়’ শব্দটির অর্থ প্রচলিত শুটিংয়ের মতো নয়। চরিত্রগুলো এআই টুলসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, আর সেই ডিজিটাল চরিত্রগুলোর পেছনে আছেন এই শিল্পীরা।

পরিচালক বান্নাহ বলেছেন, ‘গ্যাপ’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি সাহসী পরীক্ষা। তাঁর ভাষায়, সম্পূর্ণ এআই চালিত একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনেকেই বিষয়টিকে অসম্ভব ভেবেছিলেন। কিন্তু দলটি হাল ছাড়েনি। আন্তর্জাতিক মানের এআই টুলস ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিটি ফ্রেম নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

বান্নাহর মতে, সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো দৃশ্য কর্তন ছাড়াই আনকাট ছাড়পত্র পাওয়া তাঁদের জন্য বিশাল স্বীকৃতি। এটি প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে তৈরি কনটেন্টও দর্শকের মন ছুঁতে পারে। কম বাজেট আর সীমিত জনবল নিয়েও যে বিশ্বমানের কাজ করা সম্ভব, ‘গ্যাপ’ তার অন্যতম উদাহরণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এখন প্রযুক্তির জয়জয়কার চলছে। বড় বাজেটের সিনেমায় ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, ডি-এজিং, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন অনেক দিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু পুরো সিনেমাটাই এআই দিয়ে বানানো, এই ধারণাটি এখনো নতুন। সেই জায়গায় বাংলাদেশের মতো দেশের একটি দল এই চেষ্টা করল এবং সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেল, এটাই খবরটিকে আলাদা করে তুলেছে।

এখন প্রশ্ন, ‘গ্যাপ’ দর্শক কবে, কোথায় দেখতে পাবেন। ছাড়পত্র পাওয়ার খবর এলেও এখনো পর্যন্ত মুক্তির তারিখ বা প্রদর্শনের মাধ্যম নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিনেমাটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ক্যাটাগরিতে ছাড়পত্র পেয়েছে, তাই উৎসব প্রদর্শনী, বিশেষ স্ক্রিনিং বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেকোনো পথেই তার যাত্রা শুরু হতে পারে। নির্মাতাদের পরবর্তী ঘোষণার দিকে চোখ থাকবে দর্শকদের।

বাংলা সিনেমার জন্য ‘গ্যাপ’-এর তাৎপর্য শুধু একটি ছবির মুক্তি নয়। এটি একটি দরজা খোলার মতো ঘটনা। এআই দিয়ে সিনেমা বানানো যায় কি না, বোর্ড তা মেনে নেবে কি না, দর্শক তা গ্রহণ করবে কি না, এই প্রশ্নগুলোর প্রথম উত্তর এখন হাতে এসেছে। পরের উত্তরগুলো মিলবে ছবিটি দর্শকের সামনে আসার পর।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন