দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও ক্যাটনিস এভারডিনের চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। দ্য হাঙ্গার গেমস ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সিনেমা দ্য হাঙ্গার গেমস: সানরাইজ অন দ্য রিপিংয়ে দেখা যাবে তাকে। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিনেমায় ফিরে আসার অভিজ্ঞতাকে আবেগঘন ও অসাধারণ বলে বর্ণনা করেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি কল হার ড্যাডি পডকাস্টে হাজির হয়ে তিনি জানান, নতুন সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে পুরোনো সহকর্মীদের ফিরে পাওয়ার অনুভূতি ছিল অন্যরকম।
পডকাস্টে পুরোনো সেটে ফেরার স্মৃতি বলতে গিয়ে লরেন্স জানিয়েছেন, ক্যামেরা টিম থেকে শুরু করে সহকারী পরিচালক পর্যন্ত অনেকেই ছিলেন আগের সিনেমাগুলোর পরিচিত মুখ। সাবেক সহ অভিনেতা জশ হাচারসন ও উডি হ্যারেলসনের সঙ্গে পুনর্মিলনও হচ্ছে তার এই সিনেমায়। জশের সঙ্গে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে তিনি মজা করে বলেছেন, তারা একে অপরকে জড়িয়ে না ধরে বাথরুমেও যেতেন না। আর উডি হ্যারেলসনের একটি কাণ্ডের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, উডি তার হোটেলকক্ষে জানালা দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। মজা করে লরেন্স বলেছেন, উডি যদি ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতেন, তাহলে আর আগের মতো মনে হতো না।
নতুন সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৬ বছর বয়সী হেইমিচ অ্যাবারনাথিকে ঘিরে। মূল ট্রিলজির ঘটনার ২৪ বছর আগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে আসবে ৫০তম হাঙ্গার গেমসের কাহিনি। সেকেন্ড কোয়ার্টার কোয়েল নামে পরিচিত এই প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিকের দ্বিগুণ সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিকূল পরিস্থিতি, ক্যাপিটলের ষড়যন্ত্র এবং জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে হেইমিচের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট স্নোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথেও এগিয়ে যায় সে। এই প্রেক্ষাপটই নতুন সিনেমাকে আগের গল্পের সঙ্গে যুক্ত করছে, আবার একই সঙ্গে একদম নতুন এক তরুণ নায়কের গল্প বলছে।
সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে সুজান কলিন্সের ২০২৫ সালে প্রকাশিত একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে। এতে আরও অভিনয় করেছেন জোসেফ জাডা, জেসি প্লেমন্স, রালফ ফাইনস, গ্লেন ক্লোজ, কিয়েরান কালকিন, এল ফ্যানিং, ম্যাকেনা গ্রেস ও মায়া হক। পরিচালনায় রয়েছেন ফ্রান্সিস লরেন্স, যিনি আগের হাঙ্গার গেমস সিনেমাগুলোর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের দ্য হাঙ্গার গেমস: দ্য ব্যালাড অব সংবার্ডস অ্যান্ড স্নেকসের পর ফ্র্যাঞ্চাইজির ষষ্ঠ সিনেমা এটি। আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৬ মুক্তির কথা রয়েছে সিনেমাটির। অর্থাৎ বড় পর্দায় ফেরার জন্য দর্শকদের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
ক্যাটনিসের ফেরাটা কেন এত বড় খবর, সেটা বুঝতে ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুক্তি পাওয়া হাঙ্গার গেমস সিনেমাগুলো জেনিফার লরেন্সকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখ করে তোলে। ক্যাটনিস এভারডিন চরিত্রটি তখন প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে, আর লরেন্স অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করেন। ২০১৫ সালে মকিংজে পার্ট টুয়ের পর তিনি আর এই চরিত্রে ফেরেননি। তাই ১১ বছর পর একই চরিত্রে ফেরার ঘোষণা শুধু একটি কাস্টিং খবর নয়, পুরোনো দর্শকদের জন্য নস্টালজিয়ার মুহূর্তও বটে।
তবে একটি প্রশ্ন এখনো খোলা আছে। ২৪ বছর আগের গল্পে ক্যাটনিস ও পিটা ঠিক কীভাবে দেখা দেবেন, যুগান্তরের প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত নেই। নতুন সিনেমার মূল গল্প হেইমিচের, আর জেনিফার লরেন্স ও জশ হাচারসনের ফেরার খবর নিশ্চিত হলেও তাদের উপস্থিতির ধরন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা আছে। এটা অবশ্য প্রিক্যুয়েলের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়। গল্পের কাঠামো ঠিক কীভাবে পুরোনো চরিত্রদের জায়গা দেবে, সেটা জানতে দর্শকদের ট্রেলার ও মুক্তির দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।
বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আপাতত নিশ্চিত তথ্য এটুকুই, সিনেমাটি ২০ নভেম্বর ২০২৬ মুক্তি পাচ্ছে। বাংলাদেশের হলে কবে আসবে বা কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কবে দেখা যাবে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। তাই হলের তালিকা বা স্ট্রিমিং তারিখ নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত দাবি করা যাচ্ছে না। মুক্তির দিন ঘনিয়ে এলে নির্মাতা ও পরিবেশকদের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। ততদিন পর্যন্ত নিশ্চিত খবর এটাই, ১১ বছর পর ক্যাটনিস ফিরছেন, আর তার সঙ্গে ফিরছেন পিটা ও হেইমিচের পুরোনো দুনিয়ার চেনা মুখেরা।
