হিনা খান নামটা শুনলেই ভারতীয় টেলিভিশনের দর্শকের মনে প্রথমে ভেসে ওঠে অক্ষরার মুখ। ২০০৯ সালে ইয়ে রিশতা ক্যা কেহলাতা হ্যায় দিয়ে শুরু, তারপর আট বছর ধরে সেই চরিত্রে থাকা, রিয়েলিটি শোয়ে শের খান হয়ে ওঠা, কমলিকা হয়ে নেতিবাচক চরিত্রে ঝড় তোলা, কান চলচ্চিত্র উৎসবে হাঁটা, আর সবশেষে ক্যান্সারের লড়াইয়ের মাঝে বিয়ে: হিনা খানের গল্পটা শুধু একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের গল্প নয়, বারবার নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার গল্প। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর তার ৩৯তম জন্মদিনে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে টাইমস অব ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর বম্বে টাইমস তার এই যাত্রাকেই ফিরে দেখেছে, আর ২০২৫ সালের জুনে বিয়ের পর ২০২৬ সালের জুনে প্রথম বিবাহবার্ষিকী পেরিয়ে তিনি এখন স্বামী রকি জয়সওয়ালের সঙ্গে রিয়েলিটি শো পতি পত্নী অউর পাঙ্গায় হাজির হচ্ছেন। তাই হিনা খানকে নিয়ে এখন যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি খোঁজা হচ্ছে, তার উত্তর একসঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা এই গাইডে।
হিনা খানের জন্ম ১৯৮৭ সালের ২ অক্টোবর, জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে, এক কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারে। তার এক ছোট ভাই আছেন, আমির খান, যিনি একটি ট্রাভেল এজেন্সি চালান। পড়াশোনায় হিনা পিছিয়ে ছিলেন না, ২০০৯ সালে গুরগাঁওয়ের সিসিএ স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ শেষ করেন তিনি। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি মুম্বাই চলে আসেন, প্রথমে বাবা-মাকে না জানিয়েই। সিদ্ধান্ত জানার পর বাবা-মা মেয়েকে সাহায্য করতে মুম্বাই চলে আসেন, যদিও বাবার একটাই শর্ত ছিল, পড়াশোনা শেষ করতে হবে। মায়ের দিকের আত্মীয়স্বজনের অনেকে অবশ্য এই সিদ্ধান্তে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। কাশ্মীর থেকে উঠে আসা এক মেয়ের জন্য মুম্বাইয়ের বিনোদন জগতে পা রাখাটা সহজ ছিল না, আর সেই শুরুর গল্পটাই হিনার পরের লড়াইগুলোর পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল।
অভিনয়ে আসার আগে ২০০৮ সালে হিনা গানের রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান আইডলের অডিশনে গিয়েছিলেন, সেখানে শীর্ষ ৩০-এ পৌঁছেছিলেন। তারপর দিল্লিতে পড়ার সময় বন্ধুদের জোরাজুরিতে তিনি ইয়ে রিশতা ক্যা কেহলাতা হ্যায়ের অডিশন দেন, আর সেখানেই নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে অক্ষরা মাহেশ্বরী সিংহানিয়া চরিত্রে তার টেলিভিশন অভিষেক হয়, আর এই ধারাবাহিক ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সোপ অপেরাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। প্রায় আট বছর অক্ষরা চরিত্রে থাকার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে তিনি শো ছেড়ে দেন, অন্য ধরনের কাজ করার ইচ্ছায়। অক্ষরা চরিত্রের জন্য তিনি দুটি আইটিএ সেরা অভিনেত্রী (জনপ্রিয়) পুরস্কার পান, আর সব মিলিয়ে তার ঝুলিতে তিনটি আইটিএ অ্যাওয়ার্ড, তিনটি ইন্ডিয়ান টেলি অ্যাওয়ার্ড ও সাতটি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড রয়েছে। ভারতীয় টেলিভিশনের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন হিসেবেও তার নাম এসেছে।
অক্ষরা ছাড়ার পর হিনা রিয়েলিটি টেলিভিশনে নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন। ২০১৭ সালে কালার্সের ফিয়ার ফ্যাক্টর: খতরোঁ কে খিলাড়ি ৮-এ অংশ নিয়ে তিনি প্রথম রানার-আপ হন, আর সেই শোয়ের সেটেই জানা যায় তার হাঁপানির কথা। একই বছর তিনি বিগ বস ১১-এ প্রতিযোগী হিসেবে ঢোকেন, সিজনের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিযোগীদের একজন হয়ে ওঠেন, আর শেষ পর্যন্ত প্রথম রানার-আপ হন। বিগ বসের ঘরেই তিনি শের খান উপাধি পান, যা দর্শকের কাছে তার আরেকটি পরিচয় হয়ে যায়। ২০২০ সালে বিগ বস ১৪-এ তিনি তুফানি সিনিয়র হিসেবে ফিরেছিলেন, গওহর খান ও সিদ্ধার্থ শুক্লার সঙ্গে প্রথম দুই সপ্তাহ ছিলেন। ২০২৩ সালে খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৩-এ চ্যালেঞ্জার হিসেবেও দেখা গেছে তাকে।
রিয়েলিটি শোয়ের পর হিনা আবার ফিরলেন দৈনিক ধারাবাহিকে, তবে এবার একেবারে উল্টো চরিত্রে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি কসৌটি জিন্দেগি কে ২-এ কমলিকা চরিত্রে যোগ দেন, জীবনে প্রথমবার নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন। অক্ষরার নরম ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে কমলিকার ধারালো উপস্থিতি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে, আর এই চরিত্রের জন্য তিনি নেতিবাচক চরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তিনি শো ছেড়ে দেন, তার জায়গায় আসেন আমনা শরিফ। কমলিকা প্রমাণ করেছিল, হিনা শুধু ভালো মেয়ের চরিত্রেই আটকে থাকার অভিনেত্রী নন, খলনায়িকার ভূমিকাতেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ।
ইয়ে রিশতায় থাকাকালীন হিনা আরও অনেক জনপ্রিয় শোয়ে অতিথি চরিত্রে হাজির হয়েছেন। ২০০৯ সালে কায়ামত, কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল, সবকি লাডলি বেবো, ২০১০ সালে সপ্না বাবুল কা বিদাই, সাথ নিভানা সাথিয়া, ২০১৪ সালে ইয়ে হ্যায় মোহাব্বতে অক্ষরা চরিত্রেই, আর দিয়া অউর বাতি হাম, তেরে শেহের মে, কমেডি ক্লাসেসেও তাকে দেখা গেছে। ২০১৬ সালে বহু হামারি রজনী কান্তে নেহা খান্না চরিত্রে অভিনয় করেন, আর একই বছরের ডিসেম্বরে বিগ বস ১০-এ বন্ধু রোহন মেহরাকে সমর্থন জানাতে প্যানেলিস্ট হিসেবে হাজির হন। এই অতিথি উপস্থিতিগুলো তাকে স্টার প্লাসের দর্শকের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে, আর অক্ষরা চরিত্রের বাইরেও তার মুখটা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
টেলিভিশনের পাশাপাশি হিনা সিনেমা ও ওয়েব জগতেও পা রাখেন। ২০১৯ সালে তার প্রথম সিনেমা লাইনসের পোস্টার উন্মোচিত হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে, সেটাই ছিল তার কান অভিষেক। একই সময়ে তিনি স্মার্টফোন, সোলমেট ও উইশ লিস্টের মতো স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে কাজ করেন, উইশ লিস্টের সহ-প্রযোজকও ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিক্রম ভাট পরিচালিত হ্যাকড দিয়ে তার বলিউড অভিষেক হয়, সাইবার-স্টকিং নিয়ে নির্মিত এই থ্রিলারে তিনি প্রধান চরিত্রে ছিলেন। একই বছর আনলক ছবিতে ও হাঙ্গামা প্লের ওয়েব সিরিজ ড্যামেজড ২-এ গৌরী বাত্রা চরিত্রে দেখা যায় তাকে, আর একতা কাপুরের নাগিন ৫-এ তিনি একটি বর্ধিত ক্যামিও করেন। ২০২৪ সালে গিপ্পি গ্রেওয়ালের বিপরীতে পাঞ্জাবি ছবি শিন্দা শিন্দা নো পাপাতে অভিনয় করেন, আর ২০২২ সালে ঘোষণা করেন সেভেন ওয়ান নামের ওয়েব সিরিজে পুলিশের চরিত্রে অভিনয়ের কথা। রাহাত কাজমির কান্ট্রি অব দ্য ব্লাইন্ড ছবিতে গোশা চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সেটিরও সহ-প্রযোজক।
হিনার সিনেমা ও ওয়েব কাজগুলোতে কোন চরিত্রে ছিলেন, সেটা আলাদা করে জানা দরকার। হ্যাকডে তিনি সামিরা খান্না, সিড মক্করের বিপরীতে, লাইনসে নাজিয়া, ফরিদা জালালের বিপরীতে, স্মার্টফোনে সুমন, উইশ লিস্টে শালিনী, আর পাঞ্জাবি ছবি শিন্দা শিন্দা নো পাপায় নিকি, গিপ্পি গ্রেওয়ালের বিপরীতে। ড্যামেজড ২-এ তিনি গৌরী বাত্রা, নামাকুলে রুবিয়া, আর আসন্ন সেভেন ওয়ানে রাধিকা শ্রফ, একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। কান্ট্রি অব দ্য ব্লাইন্ডে গোশা চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সহ-প্রযোজক। এই তালিকাটা দেখলেই বোঝা যায়, তিনি বেছে বেছে ভিন্ন ধরনের চরিত্র নিচ্ছেন, একই ছকে আটকে থাকছেন না।
মিউজিক ভিডিওতেও হিনার উপস্থিতি কম নয়। ২০১৮ সালে সোনু ঠুকরালের ভাসুডি দিয়ে শুরু, তারপর ২০১৯ সালে অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া রাঁঝনা, ২০২০ সালে হামকো তুম মিল গয়ে, ২০২১ সালে পাত্থর ওয়ার্গি ও ম্যায় ভি বারবাদ, আর একই বছর কাশ্মীরে শুট করা বারিশ বন জানা, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন শাহির শেখ। ২০২৩ সালে শ্রেয়া ঘোষাল ও স্টেবিন বেনের গাওয়া বারসাত আ গয়ি ভিডিওতেও তিনি ছিলেন। এই ভিডিওগুলো তাকে টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে তরুণ দর্শকের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে, আর কাশ্মীরে শুট করা গানগুলো তার নিজের শিকড়ের সঙ্গে যোগটা ধরে রাখে।
অভিনয়ের বাইরে হিনা একজন ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। ২০১৯ সালে লাইনসের পোস্টার উন্মোচনে কানে তার অভিষেক হয়, আর ২০২২ সালে তিনি আবার কানের লাল গালিচায় ফেরেন, তার পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়। টেলিভিশন শিল্পের স্টাইল ডিভা হিসেবে ১১তম গোল্ড অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হন তিনি, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এফএইচএম ইন্ডিয়ার প্রচ্ছদে আসেন, আর টাইমস অব ইন্ডিয়ার মোস্ট ডিজায়ারেবল উইমেন অন টেলিভিশন তালিকায় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জায়গা পান। ইস্টার্ন আইয়ের টপ ৫০ সেক্সিয়েস্ট এশিয়ান উইমেন তালিকায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা ছিলেন তিনি, আর রেডিফের শীর্ষ ১০ টেলিভিশন অভিনেত্রীর তালিকায় ছিলেন চতুর্থ স্থানে।
হিনার ক্যারিয়ারে একটি তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে, যা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি বলেন, একবার এক কাশ্মীরি মেয়ের চরিত্রের জন্য তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল গায়ের রঙের কারণে, যদিও তিনি নিজে কাশ্মীরি এবং কাশ্মীরি ভাষায় সাবলীল। এই ঘটনাটা ভারতীয় বিনোদন জগতে গায়ের রঙ নিয়ে পক্ষপাতের বিতর্কে আবার আলো ফেলে, আর হিনা সেটা লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যে বলেছিলেন বলেই বিষয়টি আলোচনায় আসে।
হিনা খানের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় শুরু হয় ২০২৪ সালের জুনে, যখন তিনি জানান তার স্টেজ-থ্রি স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং কেমোথেরাপি চলছে। তিনি চিকিৎসার যাত্রাটা লুকিয়ে না রেখে নিজে প্রকাশ্যে শেয়ার করতে থাকেন, চুল পড়া থেকে শুরু করে কেমোর কষ্টের দিনগুলো পর্যন্ত। এই পুরো সময়টায় তার পাশে ছিলেন রকি জয়সওয়াল, যিনি কেমো চলাকালীন নিজের মাথার চুল কেটে সংহতি জানিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। হিনা নিজেই বলেছেন, এই লড়াইয়ে রকিই তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন।
চিকিৎসার সময়টা হিনা কীভাবে কাটিয়েছেন, সেটাও অনেকে জানতে চান। ইটি নাউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পুরো যাত্রাটা তিনি প্রকাশ্যে শেয়ার করেছেন, চোখের জল, চুল পড়া, কোনো কিছুই লুকিয়ে রাখেননি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগামে হামলার পর তিনি হামলাকারীদের নিন্দা জানিয়ে বলেছিলেন, কাশ্মীরি মুসলিমদের উচিত বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি হিন্দুদের ফেরার পথ সহজ করা, আর অল্প কিছু মানুষের কাজের জন্য সব মুসলিমকে দূরে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। এই বক্তব্য দেখায়, হিনা শুধু নিজের লড়াইয়ের গল্পই বলেন না, নিজের পরিচয় ও সমাজ নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেন।
হিনা ও রকির প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে, ইয়ে রিশতা ক্যা কেহলাতা হ্যায়ের সেটে, যেখানে রকি ছিলেন সুপারভাইজিং প্রযোজক। ২০১৪ সাল থেকে তারা সম্পর্কে ছিলেন, আর ভিন্ন ধর্মের সম্পর্ক বলে হিনার বাবা-মা প্রথমে চমকে গেলেও পরে মেনে নেন। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বছর একসঙ্গে থাকার পর ২০২৫ সালের ৪ জুন তারা বিয়ে করেন, স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে, কয়েক মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করে, ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে। হিনা নিজে বলেছেন, তারা বিয়ে করেছিলেন কারণ তারা জানতেন না আগামীকাল কী হবে। ক্যান্সারের সময় তিনি রকিকে এও বলেছিলেন, প্রয়োজনে অন্য কাউকে বিয়ে করতে, কারণ অনেক কিছু আর আগের মতো থাকবে না। রকি থেকে যান, আর হিনার ভাষায়, কঠিন সময়ে তিনিই সবকিছু সহজ করে দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের জুনে তারা প্রথম বিবাহবার্ষিকী পালন করেন।
রকি জয়সওয়াল কে, সেটাও এই গল্পের অংশ। কলকাতার বাসিন্দা রকি টেলিভিশনের পেছনের মানুষ, ইয়ে রিশতা ক্যা কেহলাতা হ্যায়ের সুপারভাইজিং প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন, আর তার আগে সসুরাল সিমর কা ও মিতওয়ার মতো জনপ্রিয় শোয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি হিনার সঙ্গে মিলে হিরোস ফার বেটার ফিল্মস নামে প্রযোজনা সংস্থা গড়েছেন, আর রকাবাইট নামে একটি অ্যাপও তৈরি করেছেন, যা কাস্টিং এজেন্ট ও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে নতুন মুখদের যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ২০১৭ সালে বিগ বস ১১-এর ফ্যামিলি সপ্তাহে রকি ঘরে ঢুকে হিনাকে অবাক করে দিয়েছিলেন, সেখানেই তিনি প্রকাশ্যে হিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, সেই মুহূর্তটি সিজনের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে আছে।
বিয়েকে ঘিরে প্রচারের স্টান্টের অভিযোগও উঠেছিল, যার জবাব হিনা ও রকি দিয়েছেন তাদের পডকাস্ট পিওভিতে। হিনা বলেছেন, লোকে যা বলে তাতে তার কিছু যায় আসে না, তারা বাস্তবতাটা জানেন। রকির কথায়, মানুষ মিথ্যেটাই এত বেশি বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত যে শোয়ের জন্য বিয়ের ধারণাটাও তারা সত্যি ধরে নেয়। হিনা আরও জানিয়েছেন, বিয়ের পর তাদের জীবনে আসলে কিছুই বদলায়নি, বিয়েটা ছিল শুধু সম্পর্কের ওপর একটা আনুষ্ঠানিক সিলমোহর, সমাজের জন্য। এমনকি বিয়ের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনটাও তারা ভুলে গিয়েছিলেন, পরের দিন মনে পড়ে।
২০২৫ সালের আগস্ট থেকে হিনা ও রকি একসঙ্গে দেখা যাচ্ছেন কালার্সের রিয়েলিটি শো পতি পত্নী অউর পাঙ্গায়, যেখানে বাস্তব জীবনের দম্পতিরা প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে পর্দায় আসাটা হিনার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়, আর এই শো দিয়েই দর্শক তাদের সংসারের রসায়ন সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন।
হিনা খানকে কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে কোন কাজটি দেখতে চান তার ওপর। ইয়ে রিশতা ক্যা কেহলাতা হ্যায় এখনো স্টার প্লাসে চলে, আর জিওহটস্টারে স্ট্রিমিং হয়, সেখানে হিনার সময়ের পুরোনো পর্বগুলোও খুঁজে পাওয়া যায়। বিগ বসের সিজনগুলো জিওহটস্টারে দেখা যায়, আর কসৌটি জিন্দেগি কে ২-ও একই প্ল্যাটফর্মে আছে। তার নতুন খবর আর ছবির জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা তার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, যেখানে তিনি চিকিৎসা থেকে শুরু করে শুটিংয়ের আপডেট নিজেই শেয়ার করেন।
সবশেষে কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর। হিনা খানের বয়স কত: জন্ম ১৯৮৭ সালের ২ অক্টোবর, ২০২৬ সালের অক্টোবরে ৩৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। তার স্বামী কে: টেলিভিশন প্রযোজক রকি জয়সওয়াল, যিনি কলকাতার বাসিন্দা, ইয়ে রিশতার সুপারভাইজিং প্রযোজক ছিলেন, পরে হিনার সঙ্গে মিলে হিরোস ফার বেটার ফিল্মস প্রযোজনা সংস্থা গড়েছেন। বিয়ে কবে হয়েছে: ২০২৫ সালের ৪ জুন, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে। ক্যান্সার এখন কেমন: ২০২৪ সালের জুনে স্টেজ-থ্রি স্তন ক্যান্সারের ঘোষণার পর তিনি চিকিৎসার আপডেট নিজে শেয়ার করেছেন, আর চিকিৎসা চলাকালীনই বিয়ে করেন। সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র কোনটি: অক্ষরা, তারপর কমলিকা। নতুন কাজ কী: পতি পত্নী অউর পাঙ্গা চলছে, আর সেভেন ওয়ান সিরিজটি আসার অপেক্ষায়।
হিনা খানের গল্পটা শেষ পর্যন্ত একজন অভিনেত্রীর বারবার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। টেলিভিশনের আদর্শ বউ থেকে রিয়েলিটি শোয়ের শের খান, সেখান থেকে খলনায়িকা, তারপর সিনেমা, কান, মিউজিক ভিডিও, আর শেষে ক্যান্সারের মতো ব্যক্তিগত লড়াইকে প্রকাশ্যে এনে লাখো মানুষের সাহস হওয়া: প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজের ভাবমূর্তি ভেঙে নতুন কিছু করেছেন। বিয়ের সিদ্ধান্তটাও ছিল সেই ধারারই অংশ, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে বর্তমানকে বেছে নেওয়া। তাই হিনা খানকে নিয়ে আগ্রহ শুধু তার কাজে নয়, তার এই জেদ আর সততার গল্পেও। নতুন কোনো কাজের ঘোষণা এলে বা তার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন কিছু জানা গেলে এই গাইডেই তা যোগ করা হবে।
