বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

গুলশানের চামেলি সম্পূর্ণ গাইড: মধুমিতা ছাড়ছেন না, ১ ডিসেম্বর শুটিং, কাস্ট, গল্প আর মুক্তি নিয়ে যা জানা গেছে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৬8 মিনিটে পড়ুন
গুলশানের চামেলি গাইডের নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশের সিনেমা গুলশানের চামেলি ঘিরে গত কয়েক দিনে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তার জবাব এখন পরিষ্কার। সিনেমাটি থেকে মধুমিতা সরে দাঁড়াননি, আর শুটিংয়ের পরিকল্পনাও বদলায়নি। পরিচালক মোহাম্মাদ ইকবাল নিজে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মধুমিতাকে নিয়েই ক্যামেরা চালু হবে। এই লেখায় গুঞ্জন থেকে শুটিংয়ের সূচি, পাঁচ বছরের অপেক্ষা, পুরো কাস্ট, মধুমিতার ঢাকাই অভিষেকের গুরুত্ব আর মুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, সবকিছু এক জায়গায় সাজানো হলো।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তরটা শুরুতেই দিয়ে রাখা ভালো। মধুমিতা গুলশানের চামেলি ছাড়ছেন না। পরিচালক মোহাম্মাদ ইকবাল জাগো নিউজকে বলেছেন, গুঞ্জন ভিত্তিহীন, আর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মধুমিতাকে নিয়েই শুটিং শুরু হবে। ঢাকা পোস্টকে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি একই কথা বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে শুটিং শুরু হবে, আর ১ ডিসেম্বর এফডিসির ফ্লোরে মধুমিতাকে নিয়েই ক্যামেরা ওপেন করবেন তিনি। অভিনেত্রী নিজেও এক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন উড়িয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ধারণা, একটি চক্র পরিকল্পনা করে সিনেমা থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর কথা ছড়াচ্ছে।

গুঞ্জনটা কোথা থেকে শুরু, তা নিয়ে পরিচালক খোলাখুলি কিছু বলেননি। জাগো নিউজকে তিনি বলেছেন, এসব কথা কে বলেছে, তা তিনি জানেন, কিন্তু এই মুহূর্তে এ নিয়ে কিছু বলতে চান না। বরং তিনি সূচির দিকে দর্শকের মনোযোগ ফিরিয়েছেন। ঢাকা পোস্টকে তিনি এও বলেছেন, গুঞ্জন ছড়ানোয় তাঁর ভালোই হয়েছে, কারণ এতে সিনেমাটি প্রচার পেয়েছে। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, নির্মাতা পক্ষ গুঞ্জনকে সংকট হিসেবে নয়, বরং আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে দর্শকের জন্য আসল তথ্য একটাই, কাস্ট বদলাচ্ছে না, সূচিও বদলাচ্ছে না।

শুটিংয়ের সূচি এখন এতটাই সুনির্দিষ্ট যে দর্শক ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখতে পারেন। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে এফডিসির ফ্লোরে গুলশানের চামেলির সেট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ২৮ তারিখে মধুমিতা ঢাকায় আসবেন। এরপর কয়েক দিন রিহার্সাল চলবে। আর বছরের শেষ মাসের ১ ডিসেম্বর এফডিসির ফ্লোরে মধুমিতাকে নিয়েই ক্যামেরা ওপেন করা হবে। অর্থাৎ সেট, রিহার্সাল আর ক্যামেরা চালুর ধাপগুলো পরপর সাজানো, কোনো ধাপই অনির্দিষ্ট নয়।

এই সূচির গুরুত্ব বুঝতে হলে পেছনের পাঁচ বছরের গল্পটা জানা দরকার। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে গুলশানের চামেলি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন পরিচালক মোহাম্মাদ ইকবাল। কিন্তু নানা কারণে এত দিন শুটিং শুরু হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর গত আগস্টে ঢাকায় সিনেমাটির মহরত হয়, আর সেই মহরতে উপস্থিত ছিলেন মধুমিতা নিজে। মহরতের মঞ্চে প্রথমবারের মতো ঢাকাই সিনেমায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সেই মহরত থেকে ১ ডিসেম্বরের ক্যামেরা চালু পর্যন্ত পথটা তাই শুধু একটি তারিখ নয়, পাঁচ বছরের অপেক্ষার শেষ ধাপ।

মহরতের পর শুটিং শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন দুই বাংলার দর্শক। সেই অপেক্ষার মাঝেই হঠাৎ নায়িকার সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই গুঞ্জন এত দ্রুত আলোচনায় এসেছিল। একটি সিনেমা যখন পাঁচ বছর ধরে ঘোষণার পর্যায়ে থাকে, তখন যেকোনো নেতিবাচক খবরই দর্শকের মনে শঙ্কা তৈরি করে। পরিচালকের স্পষ্ট বক্তব্য সেই শঙ্কা দূর করেছে, আর সূচির বিস্তারিত তথ্য দর্শককে আবার অপেক্ষার জায়গায় ফিরিয়ে এনেছে।

এবার কাস্টের দিকে তাকানো যাক, কারণ এই সিনেমার আকর্ষণের একটা বড় অংশ সেখানেই। চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। মধুমিতা সরকারের পাশাপাশি অভিনয় করার কথা রয়েছে রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, আমিন খান, বাপ্পারাজ ও মিশা সওদাগরের। এই তালিকায় ঢাকাই সিনেমার অভিজ্ঞ মুখের সঙ্গে আছেন এপার বাংলার দর্শকের পরিচিত বাঁধন। রোজিনা, ওমর সানী, আমিন খান, বাপ্পারাজ আর মিশা সওদাগর, প্রত্যেকেই ঢাকাই ছবির দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। ফলে এই সিনেমা একদিকে নতুন জুটির গল্প, অন্যদিকে অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমাবেশ।

কাস্টের এই সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ঢাকাই সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে। বড় কাস্ট মানেই বড় প্রত্যাশা, আর সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব থাকে গল্প আর নির্মাণের ওপর। নির্মাতারা এখনো চরিত্র ধরে ধরে কে কোন ভূমিকায় থাকছেন, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি। তাই কাস্ট নিয়ে লেখার সময় এটুকুই বলা যায়, কারা আছেন, আর কার হাতে চিত্রনাট্য। চরিত্রের নাম বা প্লটের মোড় নিয়ে কোনো অনুমান এখানে যোগ করা হয়নি, কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হয়নি।

গল্প নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তা সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সমাজের প্রান্তিক এক নারী, আর তাঁকে ঘিরেই এগোবে সিনেমার কাহিনি। নির্মাতারা গল্পের বিস্তারিত মোড় এখনো খোলাসা করেননি। এই সীমাবদ্ধতাটা পাঠকের জানা দরকার, কারণ গল্প নিয়ে বাড়তি দাবি করা হলে তা অনুমান হয়ে যাবে। যেটুকু নিশ্চিত, তা হলো, এটি মধুমিতার কেন্দ্রীয় চরিত্রের একটি ছবি, আর তাঁর চরিত্রই সিনেমার মূল আকর্ষণ।

মধুমিতা সরকারের জন্য এই সিনেমা কেন বিশেষ, সেটা তাঁর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে পরিষ্কার হয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বোঝে না সে বোঝে না ধারাবাহিকে পাখি চরিত্রে অভিনয় করে দুই বাংলার দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি। বাংলাদেশেও তিনি আগেই অভিনয় করেছেন, তবে সেটা নাটকে। ২০১৬ সালে পারভেজ আমিন পরিচালিত মেঘবালিকা নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। গুলশানের চামেলি দিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমায় নাম লেখাচ্ছেন। নাটক আর সিনেমার এই পার্থক্যটা মনে রাখা জরুরি, কারণ অনেকে তাঁকে ঢাকায় নতুন ভাবলেও, ঢাকার দর্শকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় অনেক পুরোনো।

ঢাকাই সিনেমায় কলকাতার অভিনেত্রীর অভিষেক সব সময়ই আলোচনার জন্ম দেয়। এর পেছনে থাকে দুই বাংলার দর্শকের পারস্পরিক আগ্রহ, ভাষার মিল, আর ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় তারকাদের যাতায়াতের পুরোনো ধারা। মধুমিতার ক্ষেত্রে এই আগ্রহ আরও বেশি, কারণ পাখি চরিত্রটি বাংলাদেশের দর্শকের কাছেও ঘরের নামের মতো পরিচিত। সেই পরিচিত মুখ যখন ঢাকাই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আসেন, তখন দর্শকের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

শুটিং কোথায় হবে, সেটাও দর্শকের আগ্রহের বিষয়। এফডিসি ঢাকাই সিনেমার প্রাণকেন্দ্র, আর সেখানকার ফ্লোরে সেট নির্মাণ মানে সিনেমাটি পুরোদমে ঢাকার মাটিতেই তৈরি হচ্ছে। ২৩ নভেম্বর সেট নির্মাণ, ২৮ নভেম্বর মধুমিতার ঢাকায় আসা, কয়েক দিনের রিহার্সাল, তারপর ১ ডিসেম্বর ক্যামেরা চালু, এই ধারাবাহিকতাটা দেখায় যে নির্মাতারা শুটিংয়ের প্রস্তুতি ধাপে ধাপে সাজিয়েছেন। রিহার্সালের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে বোঝা যায়, শুধু তারিখ ঘোষণা নয়, অভিনয়ের প্রস্তুতিও পরিকল্পনার অংশ।

এখন প্রশ্ন, সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে। এর সরাসরি উত্তর এখনো নেই। নির্মাতারা মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেননি। ১ ডিসেম্বর শুটিং শুরুর তারিখ, মুক্তির তারিখ নয়। এই দুটি তারিখ গুলিয়ে ফেললে ভুল তথ্য ছড়াবে। শুটিং শেষ, সম্পাদনা, সেন্সর ছাড়পত্র, প্রচার, সব ধাপ পেরিয়ে তবেই মুক্তির তারিখ আসবে। তাই মুক্তি নিয়ে এখনই কোনো মাস বা উৎসবের নাম জুড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। নতুন ঘোষণা এলে এই গাইডের তথ্য তখনই হালনাগাদ করা যাবে।

ট্রেলার বা টিজার নিয়েও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। এখন পর্যন্ত সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ট্রেলার, টিজার বা পোস্টার নিয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ঘোষণা চোখে পড়েনি। মহরতের ছবি আর কাস্টের ঘোষণাই এখন পর্যন্ত দর্শকের হাতে থাকা মূল উপাদান। তাই ট্রেলার দেখার লিংক বা পোস্টারের বর্ণনা খোঁজার আগে দর্শকের জানা উচিত, সেসব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি।

এই গাইডের সঙ্গে আমাদের আগের প্রতিবেদনের পার্থক্যটাও পরিষ্কার করে দেওয়া ভালো। ১ নভেম্বর আমরা গুঞ্জন খণ্ডনের খবরটি প্রকাশ করেছিলাম, যেখানে মূলত পরিচালকের বক্তব্য আর শুটিংয়ের তারিখ ছিল। এই লেখাটি সেই খবরের সম্পূর্ণ গাইড সংস্করণ। এখানে পাঁচ বছরের টাইমলাইন, পুরো কাস্ট, মধুমিতার ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপট, শুটিংয়ের ধাপ আর মুক্তি নিয়ে কী জানা যায়নি, সবকিছু একসঙ্গে সাজানো হয়েছে। যারা শুধু খবরটা জানতে চেয়েছিলেন, তাঁদের জন্য আগের লেখাটিই যথেষ্ট ছিল। যারা সিনেমাটি নিয়ে পুরো ছবিটা জানতে চান, তাঁদের জন্য এই গাইড।

সবশেষে, দর্শকের জন্য করণীয় খুব সহজ। ২৩ নভেম্বর সেট নির্মাণের খবর, ২৮ নভেম্বর মধুমিতার ঢাকায় আসা, আর ১ ডিসেম্বর ক্যামেরা চালুর খবরের দিকে নজর রাখুন। এরপর শুটিংয়ের ছবি, কাস্টের নতুন ঘোষণা, আর মুক্তির তারিখের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হবে পরের মাইলফলক। গুঞ্জনের পেছনে না ছুটে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তাকালেই এই সিনেমার আসল অগ্রগতি ধরা পড়বে।

দুই বাংলার যৌথ আগ্রহের জায়গা থেকে দেখলে গুলশানের চামেলি শুধু একটি সিনেমার ঘোষণা নয়। কলকাতার অভিনেত্রী যখন ঢাকার ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আসেন, তখন দুই দেশের দর্শকই সেই ছবিকে নিজের মনে করেন। টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখের বড় পর্দার যাত্রা, ঢাকার ফ্লোরে শুটিং, আর অভিজ্ঞ শিল্পীদের পাশে নতুন জুটি, এই সব উপাদান মিলেই একটি ছবি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। গুলশানের চামেলির ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের অপেক্ষা সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়েছে। শুটিং শুরু হলে সেই আলোচনা কতটা ছবির পক্ষে যাবে, তা নির্ভর করবে গল্প আর নির্মাণের ওপর, আর সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রশ্নোত্তর। মধুমিতা কি গুলশানের চামেলি ছাড়ছেন। না, পরিচালক ও অভিনেত্রী দুজনেই গুঞ্জন ভিত্তিহীন বলেছেন। শুটিং কবে শুরু। ১ ডিসেম্বর এফডিসির ফ্লোরে ক্যামেরা ওপেন হবে, তার আগে ২৩ নভেম্বর সেট নির্মাণ আর ২৮ নভেম্বর মধুমিতার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। সিনেমায় কারা আছেন। মধুমিতা সরকারের সঙ্গে রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, আমিন খান, বাপ্পারাজ ও মিশা সওদাগর। চিত্রনাট্য কার। আবদুল্লাহ জহির বাবুর। মুক্তি কবে। এখনো ঘোষণা হয়নি। মধুমিতার এটা কি বাংলাদেশে প্রথম কাজ। না, তিনি ২০১৬ সালে মেঘবালিকা নাটকে অভিনয় করেছেন, তবে এটাই তাঁর প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন