বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

আনন্দ অশ্রু ট্রেলার, কাস্ট, হল গাইড: সাইমন মাহির সিনেমা ১৩ নভেম্বর, ১৯৯৭ ছবির রিমেক নয়

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২ নভেম্বর ২০২৬8 মিনিটে পড়ুন
আনন্দ অশ্রু ট্রেলার কাস্ট হল গাইডের থাম্বনেইল
ছবি: বিনোদন ঝলক

সাইমন সাদিক আর মাহিয়া মাহির সিনেমা আনন্দ অশ্রু নিয়ে দর্শকের মনে এখন একটাই বড় বিভ্রান্তি। এটা কি ১৯৯৭ সালের সালমান শাহ আর শাবনূরের সেই বিখ্যাত ছবির রিমেক বা সিক্যুয়েল। সরাসরি উত্তর, না। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন আনন্দ অশ্রু সম্পূর্ণ মৌলিক ও আলাদা গল্পে নির্মিত একটি রোমান্টিক সিনেমা। পুরোনো ছবির সঙ্গে এর গল্পের কোনো মিল নেই। এই গাইডে মুক্তির তারিখ, ট্রেলার, পুরো কাস্ট, হল পরিকল্পনা, কেন সিনেমাটি এতদিন আটকে ছিল, আর কোথায় দেখা যাবে, সব যাচাই করা তথ্য এক জায়গায় সাজানো হয়েছে।

সরাসরি তথ্যগুলো আগে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক। আনন্দ অশ্রু মুক্তি পাচ্ছে ১৩ নভেম্বর ২০২৬। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। প্রধান চরিত্রে সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি। প্রযোজনা এসএস ইন্টারন্যাশনাল। পরিবেশনা অভি কথাচিত্র। সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে প্রায় ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রত্যাশা করছেন নির্মাতা। অফিসিয়াল ট্রেলার ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আর সিনেমাটি হলে দেখার সিনেমা, এর কোনো ওটিটি মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। এই তথ্যগুলো মনে রাখলে বাকি গাইড পড়তে সুবিধা হবে।

ট্রেলার দিয়ে শুরু করা যাক, কারণ ট্রেলারই এখন দর্শকের সবচেয়ে বড় আগ্রহের জায়গা। অফিসিয়াল ট্রেলারে সিনেমাটির রোমান্টিক ধারা পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। নির্মাতার ভাষায় এটি একটি আউট অ্যান্ড আউট রোমান্টিক সিনেমা। অর্থাৎ প্রেমের গল্পই এখানে মূল সুর। ট্রেলারের বর্ণনায় সিনেমাটির কলাকুশলীদের তালিকাও দেওয়া আছে। চিত্রগ্রহণে ইসমাইল হোসেন লিটন। কোরিওগ্রাফিতে মাসুম বাবুল ও এ কে আজাদ। ফাইট পরিচালনায় আরমান ও মিঠু। এই নামগুলো থেকে বোঝা যায়, রোমান্টিক গল্পের পাশাপাশি গান আর অ্যাকশন অংশের জন্যও আলাদা যত্ন নেওয়া হয়েছে। ট্রেলার দেখতে চাইলে অফিসিয়াল চ্যানেলেই দেখা উচিত। অনানুষ্ঠানিক আপলোড বা কাটা ক্লিপে পুরো ছবির ধারণা পাওয়া যায় না।

কাস্টের দিকে তাকালে বোঝা যায়, সিনেমাটি শুধু জুটির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি ছাড়াও অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী, শহীদুজ্জামান সেলিম, আলীরাজ, সুজাতা, মারুফ আকিব, চিকন আলী ও নাসরিন। এই তালিকায় অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখের মিশেল আছে। শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো অভিনেতার উপস্থিতি গল্পে ওজন যোগ করে। আর জয় চৌধুরীর বিশেষ চরিত্র নিয়েও দর্শকের আগ্রহ আছে। পুরো কাস্ট একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, নির্মাতা একটি পারিবারিক আবহের রোমান্টিক গল্প বানাতে চেয়েছেন, যেখানে শুধু নায়ক নায়িকা নয়, চারপাশের চরিত্রগুলোও গল্প এগিয়ে নেবে।

সাইমন সাদিকের পরিচয় দর্শকের কাছে পোড়ামনখ্যাত অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত। জান্নাতে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার আর পোড়ামনের জনপ্রিয়তা মিলে তার বড় পর্দার পরিচিতি তৈরি হয়েছে। মাহিয়া মাহির ক্ষেত্রে গল্পটা একটু আলাদা। তিনি ঢালিউডের পরিচিত মুখ, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় তার উপস্থিতি কম ছিল। তাই আনন্দ অশ্রু তার ভক্তদের কাছে শুধু আরেকটি সিনেমা নয়, দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার সিনেমাও বটে। এই দুই অভিনেতার জুটি আর মানিকের পরিচালনা মিলে সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এবার সেই বিভ্রান্তির জায়গাটা পুরোপুরি পরিষ্কার করা যাক। ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল শিবলি সাদিক পরিচালিত সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত আনন্দ অশ্রু। সেই ছবি দর্শকের মনে এখনো জায়গা করে আছে। নতুন ছবির নাম একই হওয়ায় অনেকেই ভেবেছেন, এটা হয়তো সেই গল্পেরই নতুন সংস্করণ। কিন্তু পরিচালক মানিক বারবার বলেছেন, নতুন ছবির গল্প সম্পূর্ণ আলাদা। নামের মিল ছাড়া পুরোনো ছবির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। এই পার্থক্যটা জানা জরুরি, কারণ পুরোনো গল্পের প্রত্যাশা নিয়ে হলে গেলে দর্শক ভুল ছবি খুঁজবেন। নতুন আনন্দ অশ্রুকে নতুন গল্প হিসেবেই দেখতে হবে।

সাইমন মাহি জুটির ইতিহাসও এই সিনেমার আগ্রহের একটি বড় কারণ। মানিক এর আগে সাইমন ও মাহিকে নিয়ে জান্নাত নির্মাণ করেছিলেন। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন সাইমন সাদিক। জান্নাতের পর সাইমন মাহিকে নিয়ে এটাই মানিকের দ্বিতীয় সিনেমা। এই তথ্যটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দর্শক এই জুটিকে আগেও বড় পর্দায় দেখেছেন, আর নির্মাতার সঙ্গে তাদের কাজের ধারাবাহিকতা আছে। মাহিয়া মাহি দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দায় নিয়মিত ছিলেন না, তাই তার ফেরাও এই সিনেমার আলোচনার একটি বড় অংশ। দীর্ঘ বিরতির পর প্রেক্ষাগৃহে ফেরা একজন অভিনেত্রীর জন্য সবসময়ই বাড়তি নজর কাড়ে।

সিনেমাটি কেন এতদিন মুক্তি পায়নি, সেই প্রশ্নের উত্তরও নির্মাতা নিজেই দিয়েছেন। সেন্সরসহ সিনেমাটির যাবতীয় কাজ প্রায় দুই বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। মুক্তির জন্য ভালো সময় খুঁজতে খুঁজতেই দুই বছর লেগে গেছে বলে জানিয়েছেন মানিক। অর্থাৎ সিনেমা তৈরি ছিল, কিন্তু মুক্তির সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিল। বাংলাদেশের সিনেমার বাজারে মুক্তির সময় বাছাই করা একটি বড় সিদ্ধান্ত। ঈদের বাইরে অনেক সময় হলের অবস্থা দুর্বল থাকে। এই প্রসঙ্গে মানিকের একটি মন্তব্য চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে এসেছে। তার বক্তব্যের সারমর্ম, ঈদ ছাড়া বছরের বেশির ভাগ সময় অনেক হল বন্ধ থাকে, আর হলগুলো সচল রাখতে ভালো ও বড় বাজেটের সিনেমা দরকার। আনন্দ অশ্রুকে তিনি মোটামুটি বড় বাজেটের সিনেমা হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। এই প্রেক্ষাপট বুঝলে দুই বছরের অপেক্ষার কারণটা পরিষ্কার হয়।

হল পরিকল্পনা নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তা সতর্কভাবে বলা দরকার। নির্মাতার প্রত্যাশা, সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে প্রায় ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। এটি প্রত্যাশা বা পরিকল্পনা, চূড়ান্ত হল তালিকা নয়। মুক্তির কাছাকাছি সময়ে হলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। তাই ১৩ নভেম্বরের আগে কোনো নির্দিষ্ট হলের নাম চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। দর্শকের করণীয়, মুক্তির সপ্তাহে সিনেপ্লেক্স ও স্থানীয় সিঙ্গেল স্ক্রিনের শিডিউল যাচাই করে নেওয়া। টিকিটের দাম নিয়ে এখনো কোনো যাচাই করা ঘোষণা পাওয়া যায়নি, তাই দামের অনুমান এখানে দেওয়া হয়নি। হল ও শো সময়ের তথ্য মুক্তির কাছাকাছি সময়ে অফিসিয়াল মাধ্যম থেকেই নিশ্চিত করা সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের জন্য আনন্দ অশ্রু একটি বিশেষ সিনেমা। এটি তার পরিচালিত ১২তম সিনেমা। দুই নয়নের আলো সিনেমার নির্মাতা হিসেবে তিনি পরিচিত। মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে সিনেমাটির একটি লুক প্রকাশ করে। অর্থাৎ তারিখ ঘোষণার ধরনটাও ছিল প্রচারণার অংশ। পরিচালকের ১২তম সিনেমা হিসেবে আনন্দ অশ্রুর ওপর প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। বিশেষ করে সাইমন মাহি জুটি আর মৌলিক রোমান্টিক গল্পের দাবি মিলে সিনেমাটিকে নভেম্বরের আলোচিত মুক্তিগুলোর একটি করে তুলেছে।

কোথায় দেখা যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন পরিষ্কার। ১৩ নভেম্বর থেকে প্রেক্ষাগৃহে। কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একই দিনে আসার ঘোষণা নেই। পরবর্তীতে ওটিটি বা টিভি প্রিমিয়ার হলে তা আলাদা ঘোষণায় জানা যাবে। ততদিন পর্যন্ত হলে দেখাই একমাত্র বৈধ উপায়। পাইরেটেড কপি বা অনানুষ্ঠানিক লিংক দিয়ে দেখার চেষ্টা করা উচিত নয়। সেসব কপি অবৈধ হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই খারাপ মানের হয়, আর সিনেমার ব্যবসারও ক্ষতি করে। একটি সিনেমা দুই বছর অপেক্ষা করে হলে আসছে, সেটাকে হলে দেখাই নির্মাতা ও শিল্পীদের প্রতি সঠিক সমর্থন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে আরও কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া যাক। প্রশ্ন, আনন্দ অশ্রু কবে মুক্তি পাচ্ছে। উত্তর, ১৩ নভেম্বর ২০২৬। প্রশ্ন, এটা কি ১৯৯৭ ছবির রিমেক। উত্তর, না, সম্পূর্ণ মৌলিক গল্প। প্রশ্ন, কারা অভিনয় করছেন। উত্তর, সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি প্রধান চরিত্রে, সঙ্গে জয় চৌধুরী, শহীদুজ্জামান সেলিম, আলীরাজ, সুজাতা, মারুফ আকিব, চিকন আলী ও নাসরিন। প্রশ্ন, কতটি হলে আসছে। উত্তর, প্রায় ৩০টি হলের প্রত্যাশা করছেন নির্মাতা, চূড়ান্ত তালিকা মুক্তির কাছাকাছি সময়ে জানা যাবে। প্রশ্ন, ট্রেলার কোথায় দেখা যাবে। উত্তর, অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশিত অফিসিয়াল ট্রেলারে। প্রশ্ন, ওটিটিতে কবে আসবে। উত্তর, এখনো ঘোষণা হয়নি।

মুক্তির আগে দর্শকের জন্য একটি ছোট প্রস্তুতি তালিকাও কাজে লাগতে পারে। প্রথমে অফিসিয়াল ট্রেলারটি পুরো দেখে নিন, কাটা ক্লিপ নয়। দ্বিতীয়ত, পুরোনো আনন্দ অশ্রুর গল্পের প্রত্যাশা মাথা থেকে সরিয়ে রাখুন, কারণ নতুন গল্প আলাদা। তৃতীয়ত, মুক্তির সপ্তাহে নিজের শহরের হলের শিডিউল যাচাই করুন, কারণ প্রায় ৩০টি হলের প্রত্যাশা থাকলেও আপনার শহরে কোন হলে আসছে, সেটা শিডিউলেই নিশ্চিত হবে। চতুর্থত, সাইমন মাহি জুটির আগের কাজ জান্নাত দেখে থাকলে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা না করে নতুন গল্পকে নিজের মতো করে দেখুন। এই প্রস্তুতি থাকলে হলে গিয়ে হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

হলে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে কয়েকটি ব্যবহারিক বিষয় মাথায় রাখা ভালো। প্রথমত, সিনেমাটি ১৩ নভেম্বর মুক্তি পেলেও সব শহরে একই দিনে একই সংখ্যক শো নাও থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, সিনেপ্লেক্সের শিডিউল সাধারণত মুক্তির সপ্তাহে প্রকাশিত হয়, তাই আগেভাগে শো সময় ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তৃতীয়ত, সিঙ্গেল স্ক্রিনের ক্ষেত্রে স্থানীয় হলের ঘোষণাই চূড়ান্ত। এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখলে ১৩ নভেম্বরের পরিকল্পনা অনেক সহজ হবে। আর পরিবারের সঙ্গে দেখার সিনেমা খুঁজলে রোমান্টিক ধারার এই ছবিটি সেই তালিকায় রাখা যায়, তবে গল্পের বিস্তারিত জানতে হলে ট্রেলারের বাইরে আর কিছু অনুমান না করাই ভালো।

সব মিলিয়ে আনন্দ অশ্রুর গল্পটা এখন পরিষ্কার। দুই বছর আগে সেন্সর হওয়া একটি মৌলিক রোমান্টিক সিনেমা, সাইমন মাহি জুটি, মানিকের ১২তম পরিচালনা, অফিসিয়াল ট্রেলার ইতিমধ্যে বাইরে, আর ১৩ নভেম্বর প্রায় ৩০টি হলে মুক্তির পরিকল্পনা। পুরোনো ছবির নামের সঙ্গে মিল থাকলেও গল্পের কোনো মিল নেই। এই পার্থক্যটা জানা থাকলে দর্শক সঠিক প্রত্যাশা নিয়ে হলে যাবেন। মুক্তির দিন যত কাছে আসবে, হল তালিকা আর শো সময়ের তথ্য তত পরিষ্কার হবে। ততদিন পর্যন্ত এই গাইডের তথ্যগুলোই আনন্দ অশ্রু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভরসাযোগ্য ভিত্তি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন