বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

সাধক বামাক্ষ্যাপা কবে আসছে: ২০ নভেম্বর মুক্তি, সব্যসাচীর বামা, কাস্ট আর রামায়ণের সঙ্গে তারিখ বদলের কারণ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৬8 মিনিটে পড়ুন
সাধক বামাক্ষ্যাপা ছবি নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

সাধক বামাক্ষ্যাপা নিয়ে অপেক্ষার নতুন তারিখ জানা গেল। প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফের ঘোষণা অনুযায়ী ছবিটি এখন মুক্তি পাবে ২০ নভেম্বর ২০২৬। এর আগে ছবিটি কালীপুজোর মরশুমে আসার কথা ছিল, আর আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫ নভেম্বর মুক্তির পরিকল্পনাও ছিল। সেই পরিকল্পনা বদলে যাওয়ার খবর আসে ২ নভেম্বর, যখন প্রযোজনা সংস্থার তরফে নতুন তারিখ জানানো হয়। ফলে যারা কালীপুজোয় হলে গিয়ে বামার গল্প দেখবেন বলে ঠিক করেছিলেন, তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে তারিখ বদল মানেই ছবি পিছিয়ে যাওয়া নয়, বরং নির্মাতারা যে ছবিটিকে আলাদা করে জায়গা দিতে চাইছেন, সেটাই এই সিদ্ধান্তের মূল বার্তা।

ছবিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল টিজার দিয়ে। কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে প্রকাশ পায় সাধক বামাক্ষ্যাপার টিজার, যেখানে তারাপীঠের মাটি, মা তারার প্রতি বামার নিঃশর্ত ভক্তি আর সাধনার জগতের এক ঝলক দেখা যায়। টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের কৌতূহল বাড়তে থাকে, কারণ বামাক্ষ্যাপা বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত এক নাম। প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল কালীপুজোয় মুক্তির লক্ষ্য নিয়েই। কিন্তু মুক্তির সপ্তাহখানেক আগে এসে তারিখ বদলের ঘোষণা আসায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ কেন এই বদল। এই প্রতিবেদনে সেই প্রশ্নের যাচাই করা উত্তর, ছবির কাস্ট আর কলাকুশলী, গল্পের প্রেক্ষাপট এবং এখনো যা ঘোষণা হয়নি, সবকিছু একসঙ্গে রাখা হলো।

তারিখ বদলের কারণ নিয়ে প্রযোজনা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে এবিপি লাইভ বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাতাদের তরফে জানানো হয়েছে তারা রামায়ণ এবং সাধক বামাক্ষ্যাপা, দুটি ছবিকেই যোগ্য সম্মান দিতে চান, আর সেই কারণেই মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনেও একই সুর শোনা গেছে, যেখানে বলা হয়েছে নির্মাতারা দুটি ছবিকেই সমানভাবে সম্মান জানাতে চান। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক ভাষায় এটি কোনো ছবির সঙ্গে লড়াই এড়ানোর ঘোষণা নয়, বরং দুটি বড় ছবিকে নিজের নিজের জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।

কিন্তু টলিপাড়ার অন্দরের জল্পনাটা অন্য জায়গায়। ৫ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে নীতেশ তিওয়ারী পরিচালিত রামায়ণ: পার্ট ১, যেখানে রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী আর যশ আছেন। ছবিটির অগ্রিম বুকিং নিয়েও ইতিমধ্যে হইচই শুরু হয়েছে, আর পশ্চিমবঙ্গে ছবিটিকে করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আনন্দবাজার আর এবিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী সূত্রের খবর, একই দিনে মুক্তি পেলে হল পাওয়া আর উপযুক্ত শো টাইম পাওয়া নিয়ে সমস্যা হতে পারত। বাংলার অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহ আর অধিকাংশ শো যখন একটি বড় বাজেটের ছবি দখল করে নেবে, তখন একটি বাংলা ছবির পক্ষে নিজের দর্শকের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। সেই আশঙ্কা থেকেই তারিখ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অংশটুকু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, প্রতিবেদনে প্রকাশিত জল্পনা আর সূত্রের খবর হিসেবেই পড়তে হবে।

রামায়ণের কারণে শুধু সাধক বামাক্ষ্যাপাই নয়, আরও একটি ছবির তারিখ বদলেছে। দ্য ক্যালকাটা ফাইলস ছবিটির ৩০ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই ছবির পরিচালক শৌভিক দে দুটি কারণ জানিয়েছিলেন। প্রথমত, সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মুক্তির তারিখ নিয়ে নানা সমস্যা হচ্ছিল। দ্বিতীয় কারণ, দীপাবলিতেই মুক্তি পাচ্ছে রামায়ণ। বহু প্রতীক্ষিত আর বিশাল বাজেটের ছবির সঙ্গে টক্কর দিতে বেগ পেতে হতে পারে, এই কারণেই ঝুঁকি নিতে চাননি নির্মাতারা। এই প্রেক্ষাপট বুঝলে সাধক বামাক্ষ্যাপার তারিখ বদলকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হবে না, বরং নভেম্বরের মুক্তি ক্যালেন্ডারে বড় ছবির চাপে ছোট বা মাঝারি বাজেটের ছবির জায়গা করে নেওয়ার লড়াই হিসেবেই দেখা যাবে।

এবার আসা যাক মূল প্রশ্নে, কে এই বামাক্ষ্যাপা। বামাক্ষ্যাপা, যার পুরো নাম বামাচরণ চট্টোপাধ্যায় হিসেবে পরিচিত, তারাপীঠের সাধক হিসেবে বাংলার ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। মা তারার একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে তার পরিচয়, যিনি মাকে নিজের মায়ের মতো করে ভালোবাসতেন, নিজের হাতে আহার করিয়ে দিতেন বলে ভক্তদের বিশ্বাস। তার সাধনা প্রচলিত আচার আর যুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর সেই কারণেই তিনি শুধু একজন সাধক নন, বাংলার লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছেন। তারাপীঠের মন্দির, শ্মশান আর মা তারার আরাধনা ঘিরে যে আবেগ বাঙালির মনে আছে, সাধক বামাক্ষ্যাপার গল্প সেই আবেগেরই অংশ। ছবিটি সেই জীবনকেই বড় পর্দায় তুলে আনতে চাইছে, ভক্তি আর অলৌকিকতার মেলবন্ধন দিয়ে।

এই চরিত্রে সব্যসাচী চৌধুরীর ফেরাটা দর্শকের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। টেলিভিশনে সাধক বামাক্ষ্যাপা হিসেবে তিনি আগেই মানুষের মন জয় করেছেন, আর তারপর রামপ্রসাদ সেনের ভূমিকাতেও অভিনয় করে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ফলে ছোট পর্দার পরিচিত বামা যখন বড় পর্দায় ফিরছেন, তখন দর্শকের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। টিজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সব্যসাচী শুধু অভিনয়ই করছেন না, ছবির লেখক আর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবেও যুক্ত আছেন। অর্থাৎ চরিত্রটির সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু অভিনয়ের নয়, গল্প বলার ধরন আর ছবির ভাবনা গড়ে তোলার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। নতুন ছবির আগে তাকে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিতে আর আরতি করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

কাস্টের দিকে তাকালে দেখা যাবে, মা তারার চরিত্রে আছেন পায়েল দে। সাধকের গল্পে মা তারার উপস্থিতি শুধু একটি চরিত্র নয়, বরং গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। পায়েল দে এই ভূমিকায় কীভাবে আসছেন, সেটা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, টিজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যিনি সর্বানন্দের চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবির পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল, প্রযোজনায় এসভিএফ। সংগীতের দায়িত্বে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, আর সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে সৌমিক হালদার। এই দলটির সমন্বয়ই ঠিক করবে, ভক্তির গল্পটি পর্দায় কতটা বিশ্বাসযোগ্য আর মন ছুঁয়ে যাওয়া হয়ে উঠবে।

ছবিটি ঘিরে আরেকটি আলোচনা চলছে করমুক্তি নিয়ে। রামায়ণকে পশ্চিমবঙ্গে করমুক্ত ঘোষণা করার পর সাধক বামাক্ষ্যাপার নির্মাতারাও একই সুবিধা চাইছেন বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। টিভি নাইন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বিষয়ে সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিনোদন কর মুক্ত করার একটাই উদ্দেশ্য, টিকিটের দাম কিছুটা কমলে ছবিটা সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছাতে পারে। তবে নির্মাতারা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ করছেন, তা তার জানা নেই বলেও তিনি জানান, আর এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে শুনেছেন। অর্থাৎ করমুক্তি এখনো ঘোষিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এটি নির্মাতা পক্ষের দাবি আর আলোচনার পর্যায়ে আছে। দর্শক হিসেবে এই খবরটি এভাবে পড়াই সঠিক হবে, করমুক্তি পেলে টিকিটের দাম কমতে পারে, কিন্তু এখনো তা নিশ্চিত নয়।

এখন প্রশ্ন, ছবিটি কোথায় আর কীভাবে দেখা যাবে। ২০ নভেম্বর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কোন কোন হলে, কটি শোয়ে আর অগ্রিম বুকিং কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো আলাদা ঘোষণা আসেনি। বাংলাদেশের হল তালিকা নিয়েও এখনো কোনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই, তাই বাংলাদেশের দর্শকদের হলের খবর জানতে মুক্তির কাছাকাছি সময়ে হল কর্তৃপক্ষ বা প্রযোজনা সংস্থার আপডেটের দিকে চোখ রাখতে হবে। ওটিটি মুক্তি নিয়েও এখনো কিছু জানানো হয়নি, যা স্বাভাবিক, কারণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরেই সাধারণত স্ট্রিমিং নিয়ে সিদ্ধান্ত আসে। যারা ছবিটি দেখতে চান, তাদের জন্য আপাতত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হলো তারিখটি, ২০ নভেম্বর, আর বাকি বিস্তারিত তথ্য এলে এই গাইডের মতো আপডেটেই তা জানা যাবে।

কেন এই ছবিটি আলোচনায় থাকবে, তার কারণ শুধু তারিখ বদল নয়। প্রথমত, বামাক্ষ্যাপা বাংলার এমন এক চরিত্র, যার গল্প ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিবার, সমাজ আর লোকবিশ্বাসের গল্প হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, কালীপুজোর মরশুমে ভক্তিমূলক ছবির প্রতি দর্শকের টান থাকে, আর সেই মরশুমের আবহেই ছবিটি আসছে, যদিও কালীপুজোর দিনে নয়, তার কিছুদিন পর। তৃতীয়ত, সব্যসাচীর মতো একজন অভিনেতা, যিনি এই চরিত্রে আগেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন, তার বড় পর্দায় ফেরা নিজেই একটি ঘটনা। আর চতুর্থত, রামায়ণের মতো একটি সর্বভারতীয় বড় ছবির পাশে একটি বাংলা ভক্তিমূলক ছবির জায়গা করে নেওয়ার লড়াই, যা বাংলা সিনেমার বাজার নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

সবশেষে দর্শকের মনে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি ঘুরছে, সেগুলোর সরাসরি উত্তর দেওয়া যাক। সাধক বামাক্ষ্যাপা কবে আসছে, উত্তর, ২০ নভেম্বর ২০২৬, প্রেক্ষাগৃহে। আগে কবে আসার কথা ছিল, কালীপুজোর মরশুমে, আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫ নভেম্বর। কেন পিছিয়ে গেল, নির্মাতাদের ভাষায় দুটি ছবিকেই যোগ্য সম্মান দিতে, আর প্রতিবেদনের সূত্রের খবর অনুযায়ী রামায়ণের সঙ্গে একই দিনে প্রতিযোগিতা আর হল ও শো টাইমের চাপ এড়াতে। কারা আছেন, সব্যসাচী চৌধুরী বামাক্ষ্যাপা, পায়েল দে মা তারা, সাহেব চট্টোপাধ্যায় সর্বানন্দ, পরিচালনায় সায়ন্তন ঘোষাল, প্রযোজনায় এসভিএফ। এটি কি কোনো পুরোনো ছবির রিমেক, না, এটি বামাক্ষ্যাপার জীবনভিত্তিক ভক্তিমূলক ছবি। আর করমুক্তি কি নিশ্চিত, না, এখনো তা দাবি আর আলোচনার পর্যায়ে আছে। এই উত্তরগুলো মাথায় রাখলে ২০ নভেম্বরের অপেক্ষাটা অনেক পরিষ্কার হবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন