বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবারও নামঞ্জুর: আদালতে যা হলো, এরপর কী

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩০ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তারের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। ফলে এই মামলায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে ডনকে। জামিন নামঞ্জুরের এই আদেশ নতুন করে আলোচনায় এনেছে তিন দশক পুরোনো এই মামলার বর্তমান অবস্থা।

শুনানি শেষে ডনের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মামলার আগের চারটি তদন্ত প্রতিবেদন ও মেডিকেল প্রতিবেদনের বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন, শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতও ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। অর্থাৎ, নিম্ন আদালতের পর উচ্চতর আদালতেও একই সিদ্ধান্ত এলো।

জামিন চেয়ে প্রতিরক্ষা পক্ষ যে যুক্তিগুলো তুলে ধরেছিল, সেগুলো এই মামলার পুরোনো বিতর্ককেই সামনে আনে। আবেদনে বলা হয়, মামলার দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা যায়। এটি প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়ে ডন কিছু জানতেন না এবং তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়া এবং স্থায়ী ঠিকানার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না এবং আদালতে উপযুক্ত জামিনদার দিতে পারবেন বলেও দাবি করেন তাঁর আইনজীবী। তবে এসব যুক্তি তুলে ধরার পরও আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি।

ডন এই মামলার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওইদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর জামিনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, ২৯ অক্টোবরের আদেশ সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ ধাপ।

মামলার পটভূমি বুঝতে ফিরতে হয় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরে, যেদিন মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। আদালত সিআইডিকে অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাঁর বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মা, বাবা ও ছোট ভাই নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত বাসায় ফিরে তাঁরা দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন। এই বর্ণনা এজাহারের অভিযোগ, এখনো বিচারে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়। মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো বিচারাধীন, কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

এরপর কী হবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণ ইতিমধ্যে জানা গেছে। মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লে মামলার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় আপাতত কারাগারেই থাকছেন ডন, তবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আবারও জামিন আবেদনের সুযোগের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সালমান শাহর ভক্তদের কাছে এই মামলা শুধু একটি আদালতের নথি নয়, তিন দশক ধরে চলা এক অমীমাংসিত প্রশ্ন। তাই প্রতিটি শুনানি, প্রতিটি আদেশ তাঁদের কাছে নতুন করে নজর কাড়ে, আর ২৯ অক্টোবরের আদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন