কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করায় আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান। উত্তর প্রদেশের বেরেলির ধর্মীয় নেতা মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রাজভি বেরেলভি এই ঘটনায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন এবং তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে ও তওবা করতে বলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম ৩০ ও ৩১ অক্টোবর এই খবর প্রকাশ করেছে।
মাওলানার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষের অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে প্রার্থনা করা কিংবা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনুমোদিত নয়। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নাজায়েজ। একটি ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, কয়েকজন তরুণ মুসলিম সারা আলি খানের কেদারনাথ সফর নিয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর কেদারনাথ মন্দিরে যান সারা আলি খান। সেখানে সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে সারিতে দাঁড়িয়ে পূজা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় তাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মন্দির দর্শনের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। মাওলানা বলেন, সারা যদি স্বেচ্ছায় মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করে থাকেন এবং আশীর্বাদ চেয়ে থাকেন, তাহলে তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী সেটি পাপের কাজ। এ জন্য অভিনেত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তওবা করতে হবে।
কেদারনাথের সঙ্গে সারা আলি খানের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়, বরং অনেক পুরোনো। সাইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের মেয়ে সারা দীর্ঘদিন ধরেই হিমালয়ের এই তীর্থস্থানে যাতায়াত করেন। ২০১৭ সালে কেদারনাথ সিনেমার শুটিংয়ের সময় বেশ কিছুদিন ওই এলাকায় ছিলেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কেদারনাথ তাকে পাহাড়ে ট্রেকিং, পাহাড়ি খাবার আর নানা নতুন অভ্যাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
২০১৮ সালে মুক্তি পায় অভিষেক কাপুর পরিচালিত কেদারনাথ সিনেমা। এতে সারা আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ডে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার পটভূমিতে নির্মিত হয়েছিল সিনেমাটি। সেই সিনেমার মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক হয় সারার। এরপর বিভিন্ন সময়ে কেদারনাথ মন্দিরে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক সফরের সময়ও তাকে মন্দিরে পূজা ও আরতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কেদারনাথের কাছাকাছি অবস্থিত ভুকুন্ত ভৈরব মন্দিরেও গিয়েছিলেন তিনি।
সারার মন্দিরে যাওয়া ও প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় নেতার এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিনেত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি। অতীতেও কেদারনাথ সফর নিয়ে একাধিকবার আলোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। প্রতিবারই তার ভক্তরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার সমালোচকেরাও প্রশ্ন তুলেছেন। এবারের বিতর্কও সেই পুরোনো বিতর্কেরই নতুন অধ্যায় বলেই মনে করছেন অনেকে।
এখন দেখার বিষয়, সারা আলি খান এই ফতোয়া নিয়ে আদৌ কোনো মন্তব্য করেন কি না। তিনি বরাবরই নিজের বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সফর নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন। তবে এবার তিনি নীরব থাকবেন, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানাবেন, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিতর্ক যতই বাড়ুক, কেদারনাথের সঙ্গে তার আবেগের সম্পর্ক যে অনেক গভীর, সেটা তার আগের সফরগুলো থেকেই স্পষ্ট।
