অবশেষে মুক্তির তারিখ পেল সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহির নতুন সিনেমা আনন্দ অশ্রু। আগামী ১৩ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসছে ছবিটি। বুধবার সন্ধ্যায় সিনেমাটির একটি লুক প্রকাশ করে মুক্তির তারিখ জানান নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। দুই বছর ধরে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিটি নিয়ে তাই দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নামটি শুনলেই অনেকের মনে পড়বে নব্বইয়ের দশকের আলোচিত সিনেমার কথা। ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল শিবলি সাদিক পরিচালিত আনন্দ অশ্রু, যেখানে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ ও শাবনূর। সিনেমাটি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল, আর এর গানগুলো আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। সেই স্মৃতি নতুন ছবিটির প্রতি আগ্রহের একটি বড় কারণ।
তবে নির্মাতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন আনন্দ অশ্রু পুরোনো ছবির সিক্যুয়েল নয়। সম্পূর্ণ মৌলিক ও আলাদা গল্পে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। তাঁর ভাষায়, এটি একটি আউট অ্যান্ড আউট রোমান্টিক সিনেমা। অর্থাৎ নামের মিল থাকলেও গল্পের কোনো মিল নেই। নির্মাতার কথায়, নামের ওজন আছে, তবে চাপ নেই। চেষ্টা করেছেন ভালো একটি সিনেমা বানাতে, বাকিটা দর্শক দেখে মতামত জানাবেন।
ছবিটি নির্মাণ করেছেন দুই নয়নের আলো সিনেমার নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। এটি তাঁর পরিচালিত ১২তম সিনেমা। সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহিকে নিয়ে এর আগে জান্নাত নির্মাণ করেছিলেন মানিক। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ওই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান সাইমন সাদিক। জান্নাতের পর সাইমন মাহিকে নিয়ে এটি মানিকের দ্বিতীয় সিনেমা।
মুক্তি পেতে কেন এত দেরি হলো, সেই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন নির্মাতা। তিনি জানান, সেন্সরসহ সিনেমাটির যাবতীয় কাজ দুই বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছে। মুক্তির জন্য ভালো সময় খুঁজতে খুঁজতে দুই বছর লেগে গেল। অবশেষে ১৩ নভেম্বর সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ছবি প্রস্তুত ছিল, শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা ছিল।
পরিবেশনা করছে অভি কথাচিত্র। সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে প্রায় ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে আনন্দ অশ্রু মুক্তি দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন নির্মাতা। ঈদ ছাড়া বছরের বেশির ভাগ সময় অনেক হল বন্ধ থাকে, এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মানিক বলেন, হলগুলো সচল রাখতে ভালো ও বড় বাজেটের সিনেমা দরকার। তাঁর দাবি, আনন্দ অশ্রু মোটামুটি বড় বাজেটের সিনেমা।
সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, আলীরাজ, সুজাতা, নাসরিন ও চিকন আলী। বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী। পোড়ামনখ্যাত জুটি হিসেবে সাইমন মাহির রসায়ন দর্শকের কাছে পরিচিত, আর সেই জুটিকে ঘিরেই নতুন ছবির প্রচারণা এগোচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহের বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৩ নভেম্বরের মুক্তি একটি পরীক্ষাও বটে। ঈদের বাইরে বড় সিনেমা মুক্তি দিয়ে দর্শক টানার চ্যালেঞ্জ সবসময়ই থাকে। তবে সালমান শাহ শাবনূরের সিনেমার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নস্টালজিয়া, সাইমন মাহি জুটি এবং রোমান্টিক গল্পের ধারা, এই তিনটি উপাদান ছবিটির পক্ষে কাজ করতে পারে। লুক প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দর্শকদের জন্য এখন দেখার বিষয়, মুক্তির আগে ট্রেলার ও গান কবে আসে এবং শেষ পর্যন্ত কতটি হলে ছবিটি মুক্তি পায়। ১৩ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকই ঠিক করবেন, নতুন আনন্দ অশ্রু পুরোনো নামের মর্যাদা রাখতে পারল কি না।
