বিমল ইলাইচির বিজ্ঞাপন ঘিরে আইনি জটিলতায় এবার বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন। মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সংক্ষেপে এফডিএ, তাকে যে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি। আগামী ৪ নভেম্বর মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিতর্কের শুরু বিজ্ঞাপনটি নিয়ে। মহারাষ্ট্র এফডিএর অভিযোগ, অজয় দেবগন, শাহরুখ খান ও টাইগার শ্রফের অভিনীত বিমল ইলাইচির বিজ্ঞাপনটি আসলে রাজ্যে নিষিদ্ধ বিমল প্যান মসলার পরোক্ষ প্রচার। অর্থাৎ সারোগেট বিজ্ঞাপনের অভিযোগ। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে অজয় দেবগনকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। ভারতে প্যান মসলা ও তামাকজাত পণ্যের সরাসরি বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ, তাই একই ব্র্যান্ডের অন্য পণ্যের নামে প্রচারকে পরোক্ষ প্রচার হিসেবে দেখা হয় কি না, সেটাই এই বিতর্কের কেন্দ্র।
অজয়ের আবেদনে দুটি মূল যুক্তি রয়েছে। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রস্তুতকারক সংস্থাকে নোটিশ না পাঠিয়ে কেবল বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত একজন অভিনেতা হিসেবে তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, একই সঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা আইনের কয়েকটি বিধানের সাংবিধানিক বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। আবেদনে তিনি আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এই মামলার একটি আগের ধাপও রয়েছে। এর আগে বিমল ইলাইচির মূল লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান পিবি অ্যাগ্রো এলএলপি এফডিএর নোটিশ খারিজের আবেদন নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে আদালত জানায়, যেহেতু বিষয়টি মহারাষ্ট্র এফডিএর সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এ নিয়ে মহারাষ্ট্রের আদালতেই শুনানি হওয়া উচিত। এরপরই বম্বে হাইকোর্টে মামলা করেন অজয় দেবগন। অর্থাৎ বিষয়টি এখন মহারাষ্ট্রের আদালতের এখতিয়ারেই বিচার হবে।
শুনানি হবে বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী ও বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চে। ৪ নভেম্বর শুনানির কথা রয়েছে। এদিকে মহারাষ্ট্র এফডিএর কমিশনার তুকারাম মুন্ধে জানিয়েছেন, তিন অভিনেতার বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে বিজ্ঞাপন ঘিরে অজয় দেবগন, শাহরুখ খান ও টাইগার শ্রফের আইনি জটিলতা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতে বড় তারকাদের দিয়ে প্যান মসলা ব্র্যান্ডের সারোগেট বিজ্ঞাপন দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। সমালোচকরা বলেন, জনপ্রিয় মুখের প্রচার তরুণ দর্শকদের ওপর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে তারকা ও ব্র্যান্ডগুলোর যুক্তি, তারা নিষিদ্ধ পণ্য নয়, বৈধ পণ্যের প্রচার করছেন। আদালতের রায় এই বিতর্কে একটি আইনি দিকনির্দেশনা দিতে পারে, বিশেষ করে বিজ্ঞাপনে যুক্ত অভিনেতার দায় কতটা, সেই প্রশ্নে।
আপাতত চোখ থাকবে ৪ নভেম্বরের শুনানিতে। আদালত শোকজ নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ দেবে কি না, নাকি এফডিএকে আরও সময় দেবে, সেটাই প্রথম ধাপে স্পষ্ট হবে। শাহরুখ খান ও টাইগার শ্রফ এই মামলায় আলাদাভাবে কী পদক্ষেপ নেন, সেটাও পরের খবরের বিষয়। অজয়ের আবেদনের ফল যাই হোক, সারোগেট বিজ্ঞাপন নিয়ে ভারতের বিনোদন ও বিজ্ঞাপন জগতে এই মামলা একটি নজির হয়ে থাকবে।
