বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

সুকেশের ২০০ কোটির মামলায় নোরা ফাতেহিকে আদালতে তলব: ২ নভেম্বর সাক্ষী হিসেবে হাজিরার নির্দেশ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩১ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
নোরা ফাতেহির আদালত তলব নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলায় আবার আলোচনায় বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত তাকে আগামী ২ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় তাকে সরকারি সাক্ষী হিসেবে হাজির হতে বলা হয়েছে। এই মামলার তৃতীয় অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নোরার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় এই তলব এসেছে বলে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এখানে একটি পার্থক্য পরিষ্কার করে বোঝা দরকার। নোরাকে এই পর্যায়ে অভিযুক্ত হিসেবে ডাকা হয়নি, সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। আদালতের ভাষায় তিনি সরকারি সাক্ষী, অর্থাৎ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় তার বক্তব্য ও সাক্ষ্য নেওয়া হবে। অতীতে এই মামলায় দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে, কিন্তু এবারের নির্দেশটি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য।

মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর, যার বিরুদ্ধে ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য নোরা ফাতেহিকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীকে দামি প্রসাধনসামগ্রী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও বিলাসবহুল গাড়িসহ নানা উপহার দেওয়ার কথাও দাবি করেছেন এই অভিযুক্ত। এমনকি তাদের মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনও একসময় প্রকাশ্যে এনেছিলেন সুকেশ। তবে এসব দাবি সুকেশের নিজের বক্তব্য, আদালতে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

নোরা ও সুকেশের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সুকেশ অভিযোগ করেছিলেন, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ভাঙতে নোরা তাকে উসকানি দিতেন। তার দাবি, জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিলেন নোরা, নিয়মিত ফোন করে যোগাযোগ করতেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করতেন। আবারও মনে রাখতে হবে, এসব অভিযোগ সুকেশের নিজের বক্তব্য। একই মামলায় নাম জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজও। একাধিকবার আদালতে হাজির হওয়ার পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

চলতি বছরের আগস্টে সুকেশের হাতে লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নোরাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সেই চিঠি ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরপর তৃতীয় অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নোরার নাম আসা এবং ২ নভেম্বরের হাজিরার নির্দেশ মামলাটিকে আবার শিরোনামে এনেছে।

এই মামলায় নাম জড়ানোর পেশাগত মূল্য নিয়েও গত আগস্টে মুখ খুলেছিলেন নোরা। অভিনেত্রীর ভাষ্য, মামলায় নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর একাধিক বিজ্ঞাপন ও প্রতিষ্ঠানের কাজ হারিয়েছেন তিনি। পরপর কাজ হাতছাড়া হওয়ায় কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে, প্রায় দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতির প্রভাব ভোগ করেছেন বলেও জানান নোরা। সুকেশের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলেই এখনো অস্বস্তিতে পড়েন অভিনেত্রী।

এরপর কী হবে, তা নির্ভর করছে ২ নভেম্বরের হাজিরার ওপর। সেদিন নোরা আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিলে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এক ধাপ এগোবে। তিনি হাজির না হলে বা নতুন কোনো আবেদন করলে পরবর্তী তারিখ আসতে পারে। নোরার তরফে এই তলব নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, সাক্ষীর ভূমিকা ও অভিযুক্তের দাবির মধ্যে পার্থক্য না বুঝলে এই খবর সহজেই ভুলভাবে ছড়াতে পারে, তাই পাঠকদের জন্য এই স্পষ্টকরণ জরুরি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন