বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

আবার দেখা হলো: চঞ্চল, তুষি ও সিয়াম একসঙ্গে, শুটিং ১০ নভেম্বর থেকে, মুক্তি ঈদে?

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৪ নভেম্বর ২০২৬8 মিনিটে পড়ুন
আবার দেখা হলো সিনেমার গাইডের জন্য বিনোদন ঝলকের নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

এক সিনেমার অপেক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আরেক সিনেমায় একসঙ্গে আসছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি ও সিয়াম আহমেদ। শঙ্খ দাশগুপ্তের নতুন সিনেমা আবার দেখা হলোকে ঘিরে এই খবরই এখন ঢালিউডের আলোচনার কেন্দ্রে। সময় নিউজের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে প্রথমে জানানো হয়, রায়হান রাফির আন্ধারের পর এবার এই তিন তারকাকে দেখা যাবে শঙ্খের ছবিতে। একই দিনে ঢাকা পোস্টও একই তথ্য জানায়। কালের কণ্ঠের ৪ নভেম্বরের তালিকাতেও ছবিটির নাম উঠে এসেছে। ফলে এটি আর শুধু গুঞ্জন নয়, একাধিক অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি নিশ্চিত ঘোষণা পর্যায়ের খবর।

এই মুহূর্তে যা যা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে, তা এক জায়গায় গুছিয়ে রাখা ভালো। সিনেমার নাম আবার দেখা হলো। পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত। অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি ও সিয়াম আহমেদ। শুটিং শুরু হওয়ার কথা ১০ নভেম্বর থেকে, ঢাকার বাইরে। প্রযোজনায় যৌথভাবে থাকছে ফ্রেম পার সেকেন্ড ও চরকি। মুক্তির পরিকল্পনা আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে, প্রেক্ষাগৃহে। শুটিংয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে দুটি প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছে। এর বাইরে যা কিছু শোনা যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

এই খবর এত আলোচনায় আসার বড় কারণ তিন তারকার এই জুটি নয়, ত্রয়ী। চঞ্চল চৌধুরী ও নাজিফা তুষি এর আগে একসঙ্গে আলোচিত হয়েছেন মেজবাউর রহমান সুমনের হাওয়ায়। প্রথম আলোর হাওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদনে চঞ্চলকে চান মাঝি চরিত্রে আর তুষিকে গুলতি চরিত্রে দেখা গেছে বলে উল্লেখ আছে। সমুদ্র আর জেলেজীবনের পটভূমিতে গড়ে ওঠা সেই ছবিটি দর্শক ও সমালোচক দুই মহলেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। সেই জুটির সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছেন সিয়াম আহমেদ, যাঁকে দুটি প্রতিবেদনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

আরেকটি কারণ হলো, এই একই তিন তারকাকে পরপর দুটি সিনেমায় দেখা যাবে। রায়হান রাফির আন্ধারেও চঞ্চল, তুষি ও সিয়াম একসঙ্গে অভিনয় করেছেন, কিন্তু সেই ছবিটি এখনো মুক্তির অপেক্ষায় আছে। সময় নিউজ ও ঢাকা পোস্ট দুটিতেই জানানো হয়েছে, আগামী বছরের ২৬ মার্চ আন্ধার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। অর্থাৎ দর্শক প্রথমে আন্ধারে এই ত্রয়ীকে দেখবেন, তারপর ঈদে আবার দেখা হলোতে। দুটি ছবির নির্মাতা আলাদা, গল্পের ধরনও আলাদা হওয়ার কথা, কিন্তু অভিনয়শিল্পীদের রসায়ন কতটা বদলে যায় নির্মাতা বদলালে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্তকে চেনার জন্য তাঁর আগের কাজগুলো মনে রাখা দরকার। ডেইলি স্টারের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রিয় মালতী ছিল তাঁর বড় পর্দার অভিষেক, যেখানে মেহজাবিন চৌধুরী মালতী রানি দাস চরিত্রে অভিনয় করেন এবং ছবিটি ২০ ডিসেম্বর দেশের ২০টি হলে মুক্তি পায়। একই প্রতিবেদনে তাঁর ওটিটি কাজ বলি ও গুটির কথাও উঠে এসেছে। বলিতে চঞ্চল চৌধুরী ছিলেন, গুটি ছিল চরকিতে মুক্তি পাওয়া একটি ক্রাইম ধারাবাহিক। অর্থাৎ শঙ্খ দীর্ঘদিন ধরেই টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, ওটিটি ধারাবাহিক আর সিনেমার মাঝখানে কাজ করছেন, এবং চঞ্চলের সঙ্গে তাঁর আগেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুটির নামও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রেম পার সেকেন্ড ও চরকি যৌথভাবে ছবিটি নির্মাণ করছে বলে সময় নিউজ ও ঢাকা পোস্ট দুটিতেই লেখা হয়েছে। চরকি একটি দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এর মানে এই নয় যে ছবিটি সরাসরি ওটিটিতে আসবে। প্রতিবেদনগুলোতে পরিষ্কারভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনার কথাই বলা হয়েছে। ওটিটিতে কবে আসবে, আদৌ আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। তাই আপাতত দর্শকদের জন্য সঠিক তথ্য হলো, এটি একটি প্রেক্ষাগৃহের ছবি হিসেবেই তৈরি হচ্ছে।

শুটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে, কিছু নেই। ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকার বাইরে শুটিং শুরু হওয়ার কথা, এবং প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ, এই দুটি তথ্য দুটি প্রতিবেদনেই মিলেছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে ঠিক কোন জায়গায় শুটিং হবে, কত দিন ধরে চলবে, প্রথম লটে কারা কারা থাকবেন, এসব কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নির্মাতা ও শিল্পীরা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না বলেই ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে। ফলে শুটিং শুরুর তারিখটিকে নিশ্চিত ধরা যায়, কিন্তু লোকেশন বা শিডিউলের বিস্তারিত নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।

এই নীরবতাটা নিজেই একটি তথ্য। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, নাজিফা তুষিকে ফোন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্তও এ নিয়ে চুপ আছেন। অর্থাৎ ছবিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক পোস্টার, টিজার বা সংবাদ সম্মেলন হয়নি। অনেক সময় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শুটিং শুরুর আগে বা শুটিং চলাকালীন ধাপে ধাপে তথ্য প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রেও সেটাই হতে পারে। তাই এই গাইডে যা লেখা হয়েছে, তা শুধু প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতেই লেখা হয়েছে, এর বাইরে কোনো চরিত্রের নাম, গল্পের মোড় বা সংলাপ যোগ করা হয়নি।

সবচেয়ে বড় অজানা জায়গাটি হলো গল্প। আবার দেখা হলো নামটি থেকে একটি পুনর্মিলনের আভাস পাওয়া যায়, কিন্তু নামের আভাসকে গল্প ধরে নেওয়া ভুল হবে। কোনো প্রতিবেদনেই ছবির গল্প, চরিত্রের নাম বা জনরা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। চঞ্চল ও তুষির চরিত্র কী হবে, সিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি ঠিক কতটা কেন্দ্রীয় হবে, ছবিটি পারিবারিক গল্প হবে নাকি অন্য কোনো ধারার, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। দর্শক হিসেবে এই প্রশ্নগুলো মনে রাখাই ভালো, কারণ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে কি না, সেটা যাচাই করা সহজ হবে।

মুক্তির সময় নিয়েও একই সতর্কতা দরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ছবিটি নির্মিত হচ্ছে, এই পরিকল্পনার কথা দুটি প্রতিবেদনেই আছে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের ঠিক কোন তারিখে ছবিটি মুক্তি পাবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। শুটিং ১০ নভেম্বর শুরু হলে ঈদের আগে ছবিটি শেষ করার জন্য নির্মাতাদের হাতে কয়েক মাস সময় থাকবে, কিন্তু শুটিং, সম্পাদনা, সেন্সর আর প্রচারের প্রতিটি ধাপ সময়মতো শেষ হওয়ার ওপরই মুক্তির তারিখ নির্ভর করবে। তাই আপাতত মুক্তি ঈদে, এই কথাটিকে পরিকল্পনা হিসেবে ধরাই সঠিক, নিশ্চিত তারিখ হিসেবে নয়।

দর্শকের দিক থেকে এই ছবির আকর্ষণ তিনটি স্তরে কাজ করবে। প্রথমত, চঞ্চল ও তুষির জুটি, যাঁদের হাওয়ার পর আবার বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখার আগ্রহ অনেকের মধ্যেই আছে। দ্বিতীয়ত, সিয়ামের যুক্ত হওয়া, কারণ তিনি এই জুটিতে নতুন মাত্রা যোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও তাঁর চরিত্র সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। তৃতীয়ত, শঙ্খ দাশগুপ্তের পরিচালনা, কারণ প্রিয় মালতীতে তিনি একজন নারীকেন্দ্রিক গল্পকে বড় পর্দায় এনেছিলেন, আর বলি ও গুটিতে তিনি ওটিটির দর্শকের কাছে নিজের ধরন তৈরি করেছিলেন। এই তিনটি স্তর মিলেই আবার দেখা হলোকে একটি নজর রাখার মতো প্রকল্প করে তুলেছে।

কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত সোজা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। কোন কোন হলে, কতগুলো শোতে, টিকিটের দাম কত হবে, এসব তথ্য মুক্তির কাছাকাছি সময়ে জানা যাবে। চরকি যৌথ প্রযোজক হলেও ওটিটিতে দেখার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তাই ওটিটিতে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো তারিখ লেখা ঠিক হবে না। ছবিটি নিয়ে কোনো অনানুষ্ঠানিক লিংক, ডাউনলোডের দাবি বা পাইরেটেড কপির খবর এলে সেগুলো থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ, কারণ আনুষ্ঠানিক মুক্তির আগে সেগুলো বৈধ কোনো উপায় নয়।

প্রশ্নোত্তরে পুরো বিষয়টি আবার গুছিয়ে নেওয়া যাক। আবার দেখা হলো কবে শুটিং শুরু হচ্ছে? ১০ নভেম্বর থেকে, ঢাকার বাইরে। কারা আছেন? চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি ও সিয়াম আহমেদ, যাঁদের মধ্যে সিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকবেন। পরিচালক কে? শঙ্খ দাশগুপ্ত। প্রযোজনায় কারা? ফ্রেম পার সেকেন্ড ও চরকি যৌথভাবে। মুক্তি কবে? আসন্ন ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা আছে, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। গল্প কী? এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আন্ধারের সঙ্গে সম্পর্ক কী? একই তিন তারকা আন্ধারেও আছেন, সেই ছবিটি আগামী বছরের ২৬ মার্চ মুক্তির পরিকল্পনায় আছে।

এরপর কী দেখার আছে, তা একটি তালিকা হিসেবে মনে রাখলে সুবিধা হবে। প্রথমে শুটিং শুরুর আনুষ্ঠানিক ছবি বা ঘোষণা আসে কি না, সেটা দেখতে হবে। তারপর আসবে পোস্টার, যেখানে ছবির ধরন সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যাবে। তারপর পূর্ণাঙ্গ কাস্ট তালিকা, টিজার বা ট্রেলার, আর সবশেষে মুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ। এই ধাপগুলোর কোনো একটিতে নতুন তথ্য এলে এই গাইডের মতো লেখাগুলো আপডেট করা যাবে। আপাতত এই গাইডের কাজ হলো, নিশ্চিত তথ্য আর অজানা তথ্যের সীমারেখাটা পরিষ্কার করে দেওয়া, যাতে পাঠক গুঞ্জনকে খবর ভেবে ভুল না করেন।

সব মিলিয়ে আবার দেখা হলো এখনো একটি শুরুর পর্যায়ের প্রকল্প, কিন্তু এর ভিত্তিটা শক্ত। তিনজন প্রমাণিত অভিনয়শিল্পী, একজন অভিজ্ঞ পরিচালক, দুটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ, আর ঈদকে সামনে রেখে একটি পরিষ্কার মুক্তি পরিকল্পনা, এই সবকিছু মিলে ছবিটিকে আলোচনায় এনেছে। গল্প আর চরিত্র সম্পর্কে জানা না গেলেও, এই মুহূর্তে এটুকু বলা যায় যে দর্শক এই ছবির পরের ঘোষণাগুলোর দিকে চোখ রাখবেন। শুটিং শুরু হলে, পোস্টার এলে আর মুক্তির তারিখ ঘোষণা হলে ছবিটির চেহারা আরও পরিষ্কার হবে, আর তখনই বোঝা যাবে, আবার দেখা হলো নামটির পেছনে আসলে কোন গল্প লুকিয়ে আছে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন