বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য শুক্রবার দুপুরে এলো বড় খবর। প্রশংসিত নির্মাতা ভিকি জাহেদ প্রথমবারের মতো বড় পর্দার পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনা করছেন, আর সেই সিনেমার নাম ‘খলনায়ক’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাটি দিয়েছে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এই একটি সিনেমায় একসঙ্গে আসছেন দেশের দুই শীর্ষ অভিনেতা আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরী।
‘খলনায়ক’ হবে একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। অর্থাৎ গল্পের উত্তেজনা শুধু বাইরের ঘটনায় নয়, চরিত্রের মনের ভেতরের টানাপোড়েন, সিদ্ধান্ত আর দ্বন্দ্বেও তৈরি হবে। ভিকি জাহেদের কাজের যারা ভক্ত, তারা জানেন, তিনি ছোট পর্দা আর ওয়েবের কাজে এমন মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। এবার সেই ধারাটি বড় পর্দার বড় ক্যানভাসে কেমন দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ভাষায়, বাংলা ভাষার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য বিশ্বমানের একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই এই সিনেমার লক্ষ্য।
সিনেমার মূল দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরী। দুজনেই আলাদা আলাদাভাবে বাংলা সিনেমা আর নাটকের দর্শকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। তাদের একসঙ্গে একই সিনেমায় দেখা যাওয়াটা দর্শকের কাছে বাড়তি আকর্ষণ। তাদের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে থাকছেন তমা মির্জা। তমা এর আগেও বড় পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করেছেন, আর ‘খলনায়ক’-এ তার চরিত্রটি কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সহশিল্পীদের তালিকাটাও বেশ ভারী। এতে আছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, ইন্তেখাব দিনার, সুমন পাটোয়ারী, গাজী রাকায়েত, বিজরী বরকতউল্লাহ, সোহেল মণ্ডল, সুমন আনোয়ার, তুষার খান ও সেঁজুতি। এছাড়া বিশেষ একটি চরিত্রে ভারত থেকে যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এতজন অভিজ্ঞ শিল্পীর উপস্থিতি বোঝায়, গল্পটি শুধু দুই প্রধান চরিত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না, পার্শ্বচরিত্রগুলোও গল্পের মোড় ঘোরাতে ভূমিকা রাখবে।
ভিকি জাহেদ কেন এই সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় আসছেন, সেই প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীর মন্তব্য ঘোষণায় উঠে এসেছে। চঞ্চল বলেছেন, ভিকি জাহেদের কাজে সব সময়ই নতুনত্ব ও ভিন্ন ঘরানার গল্প থাকে। ‘খলনায়ক’-এর চরিত্রটি বেশ জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক, যা একজন অভিনেতা হিসেবে তাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। নিশোর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তার কাছে সব সময় উপভোগ্য। তার আশা, বড় পর্দায় এই সিনেমাটি দর্শকদের একদম ভিন্ন রকমের একটি অভিজ্ঞতা দেবে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল বলেছেন, শুরু থেকেই তারা কনটেন্টের গুণগত মান ও দর্শকচাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। এই বক্তব্য নতুন নয়, কারণ এসভিএফ আলফা-আই এর আগে ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’, ‘দাগি’, ‘তাণ্ডব’ ও ‘দম’-এর মতো দর্শকনন্দিত ও বাণিজ্যিকভাবে সাড়া জাগানো সিনেমা এনেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘খলনায়ক’ তাদের পরের বড় বাজি। দর্শকের প্রত্যাশা তাই স্বাভাবিকভাবেই উঁচুতে থাকবে।
এই সিনেমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযোজনা সহযোগিতা। ‘খলনায়ক’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট ও ইহাই ইন্টিগ্রেশন। নতুন এই জুটি সিনেমাটির পরিসর, প্রচার আর আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে, সেটা সামনের মাসগুলোতে পরিষ্কার হবে।
ভিকি জাহেদের পরিচালক হিসেবে যাত্রাটা মনে রাখার মতো। তিনি ছোট পর্দা ও ওয়েব মাধ্যমে একের পর এক আলোচিত কাজ দিয়ে নিজের আলাদা পরিচয় গড়েছেন। তার গল্পে প্রায়ই থাকে অপ্রত্যাশিত মোড়, চরিত্রের ভেতরের অন্ধকার দিক আর শেষ মুহূর্তের চমক। বড় পর্দায় পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় সেই ভাষা কতটা বড় আকারে কাজ করে, তা ‘খলনায়ক’ দিয়েই প্রথমবার যাচাই হবে।
নিশো ও চঞ্চলের জুটির দিকটাও আলাদা করে ভাবার মতো। দুজনেই ভিন্ন ধাঁচের অভিনেতা। একজন চরিত্রের ভেতরে ঢুকে নীরব উত্তেজনা তৈরি করতে পারেন, আরেকজন সংলাপ আর উপস্থিতি দিয়ে দৃশ্য বদলে দিতে পারেন। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে এই দুই ধরনের শক্তি মুখোমুখি হলে গল্পের টান কেমন হয়, দর্শক সেটাই দেখতে চাইবেন। তমা মির্জা ও প্রিয়াঙ্কা সরকারের উপস্থিতি সেই দ্বন্দ্বে আরো স্তর যোগ করতে পারে।
মুক্তির তারিখ নিয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ, বিস্তারিত তথ্য ও কনটেন্ট প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ এখনই শুটিং শুরুর দিন, টিজার বা ট্রেলারের তারিখ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। দর্শকদের তাই গুজবের বদলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই চোখ রাখতে হবে।
বাংলা সিনেমার বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে এই ঘোষণার গুরুত্ব আরো বোঝা যায়। গত কয়েক বছরে বড় বাজেটের, ভালো গল্পের সিনেমা হলে দর্শক টানছে। আবার দুর্বল গল্পের সিনেমা দর্শক দ্রুত প্রত্যাখ্যান করছে। এই পরিস্থিতিতে একজন প্রমাণিত গল্পকারের বড় পর্দায় আসা, সঙ্গে দুই শক্তিশালী অভিনেতার উপস্থিতি, ‘খলনায়ক’-কে শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।
এরপর কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে পরের ঘোষণাগুলোর ওপর। কবে শুটিং শুরু হবে, কবে প্রথম লুক বা টিজার আসবে, আর মুক্তি কোন উৎসব মৌসুমে রাখা হবে, এই সিদ্ধান্তগুলোই সিনেমাটির ভাগ্য অনেকটা ঠিক করে দেবে। আপাতত নিশ্চিত খবর এটুকুই: ভিকি জাহেদ বড় পর্দায় আসছেন, সিনেমার নাম ‘খলনায়ক’, আর এতে একসঙ্গে থাকছেন নিশো, চঞ্চল ও তমা। বাকি তথ্য এলে আমরা জানিয়ে দেব।
