‘তনু ওয়েডস মনু’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পরের কিস্তি নিয়ে ভক্তদের মনে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ঘুরছিল, তার একটা স্পষ্ট জবাব দিলেন পরিচালক আনন্দ এল রাই। নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে তৃতীয় কিস্তি তৈরি হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, সেটাকে তিনি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথা, মাধবানকে ছাড়া ‘তনু ওয়েডস মনু’ সম্ভবই নয়। তাই তিন, চার কিংবা পাঁচ, যখনই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো সিনেমা আসবে, তাতে মাধবান ও কঙ্গনা রানাউত থাকবেন। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে একটা সতর্কবার্তাও সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে রাখা দরকার। পরিচালকের এই বক্তব্য মানেই তৃতীয় কিস্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনেই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তৃতীয় কিস্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অর্থাৎ পরিচালকের আশ্বাসটা ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও, ছবির শুটিং কবে শুরু হবে, গল্প কী হবে, মুক্তি কবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এই পার্থক্যটা মাথায় রাখলেই খবরটা ঠিকভাবে বোঝা যাবে।
ফিরে দেখা যাক শুরুটা। ২০১১ সালে মুক্তি পায় ‘তনু ওয়েডস মনু’। প্রবাসী ডাক্তার মনুর চরিত্রে ছিলেন আর মাধবান। ভারতে বিয়ের জন্য ফিরে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় তনুর, যে চরিত্রে ছিলেন কঙ্গনা রানাউত। প্রাণোচ্ছল, নিজের মতো করে বাঁচতে চাওয়া তনু আর শান্ত, সাদামাটা মনুর অমিল থেকেই জমে উঠেছিল গল্পটা। দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষের প্রেম আর টানাপোড়েন দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল সহজেই।
চার বছর পর, ২০১৫ সালে আসে সিক্যুয়েল ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’। এবার কঙ্গনা দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন, যা ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে। সঙ্গে ছিলেন জিমি শেরগিল, স্বরা ভাস্কর, দীপক ডোব্রিয়াল ও এজাজ খান। প্রথম ছবির চরিত্রগুলোকে ধরে রেখেই নতুন মোড় এনেছিল সিক্যুয়েল, আর তাতেই দর্শকের আগ্রহ আরও বেড়েছিল।
বক্স অফিসের হিসাবটাও এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। প্রথম ছবিটি বানাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৭ কোটি রুপি, আর বিশ্বজুড়ে আয় করেছিল প্রায় ৫৬ কোটি রুপি। সিক্যুয়েলের সাফল্য ছিল আরও বড়। ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’ বিশ্বব্যাপী ২৫০ কোটি রুপির বেশি আয় করে। অর্থাৎ ছোট পরিসর থেকে শুরু হওয়া একটা গল্প ধীরে ধীরে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়েছে, আর সেই যাত্রার কেন্দ্রে ছিলেন মাধবান ও কঙ্গনার জুটি।
চলতি বছরের শুরুতে খবর ছড়িয়েছিল, নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে স্বতন্ত্র গল্পে তৈরি হতে পারে তৃতীয় কিস্তি। সেই গুঞ্জনেই ভক্তদের একাংশ হতাশ হয়েছিলেন, কারণ তাঁদের কাছে তনু আর মনু মানেই মাধবান আর কঙ্গনা। পরিচালকের নতুন বক্তব্য সেই হতাশায় খানিকটা স্বস্তি এনেছে। তাঁর যুক্তিটা সহজ: চরিত্রগুলো গল্পের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে। প্রথম ছবির গল্পটা সুন্দরভাবে শেষ হয়েছিল, কিন্তু চরিত্রগুলো ফিরে আসতে চেয়েছিল, আর সেই চাওয়া থেকেই সিক্যুয়েল এসেছিল। তৃতীয় কিস্তির ক্ষেত্রেও একই যুক্তি খাটে বলে মনে করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে বলিউডের একটা চেনা প্রবণতা নিয়েও কথা বলেছেন আনন্দ এল রাই। তাঁর মতে, কোনো ধরনের সিনেমা সফল হলে সেই ধারা অনুসরণ করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আসে। তবে নির্মাতাদের নিজেদের শক্তির জায়গা আর গল্প বলার ধরন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। একই ধরনের কাজ বারবার করা ঠিক নয়, আবার যে জগতে একজন নির্মাতা ভালো গল্প বলতে পারেন, সেই জগৎ সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। ‘তনু ওয়েডস মনু’ তাঁর সেই চেনা জগতেরই অংশ, যেখানে চরিত্র আর হাস্যরস একসঙ্গে চলে।
এরপর কী? আপাতত ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। গল্প চূড়ান্ত হলে, নির্মাতাদের তরফে ঘোষণা এলে তবেই ছবির রূপরেখা পরিষ্কার হবে। তার আগে পরিচালকের এই আশ্বাসটুকুই ভরসা। এদিকে আনন্দ এল রাইয়ের প্রযোজনায় নির্মিত আরেকটি ছবি, ‘নাখরেওয়ালি’, আগামী ৩০ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা। রাহুল শঙ্কল্য পরিচালিত ছবিটিতে অভিনয় করেছেন নতুন মুখ অংশ দুগ্গল ও প্রগতি শ্রীবাস্তব। ‘তনু ওয়েডস মনু ৩’-এর খবরের পাশাপাশি এই ছবিটাও তাই ভক্তদের নজরে থাকবে।
