মিউজিক্যাল ছবি ‘উইকেড’এর প্রচারের সময় ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া সমালোচনা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সিনথিয়া এরিভো। সম্প্রতি ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পর্দার বাইরে তার ও সহ অভিনেত্রী আরিয়ানা গ্রান্ডের বন্ধুত্বের গভীরতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের অতি বিশ্লেষণ ও বিরূপ মনোভাব তাকে অবাক করেছিল।
চলচ্চিত্র দুটিতে এলফাবা ও গ্লিন্ডা চরিত্রে অভিনয় করা এই দুই তারকা পর্দার বাইরেও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। তবে প্রচারণার সময় তাদের আবেগ ও বন্ধুত্বের সত্যতা নিয়ে ভক্তরা নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ বিষয়ে এরিভো বলেন, অনেকে নিজেদের সোফায় বসে মনোবিজ্ঞানের পণ্ডিত বনে যান। দুজন নারী যে সত্যিই বন্ধু হতে পারে, এই সাধারণ বিষয়টি অনেকের মনে এক ধরনের অদ্ভুত বিরক্তি তৈরি করেছিল। তারা হাসলে বা আবেগপ্রবণ হলে কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে এরিভো গত বছর সিঙ্গাপুরে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। সে সময় এক ভক্ত হঠাৎ দৌড়ে এসে আরিয়ানা গ্রান্ডের কাঁধে হাত রাখলে এরিভো তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। ওই ঘটনাকে ভয়াবহ ও নিজেদের জন্য অরক্ষিত মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় তিনি আরিয়ানার ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ বন্ধু হিসেবেই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
জন এম চু পরিচালিত ‘উইকেড’ ও ‘উইকেড: ফর গুড’ ছবি দুটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্যের পাশাপাশি অস্কার মনোনয়নও অর্জন করেছে। সিনেমা মুক্তির পরেও এই দুই তারকার বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে, যার প্রমাণ হিসেবে তারা হাতে একই রকম ট্যাটুও করিয়েছেন। এদিকে, অভিনয়ের ধারাবাহিকতায় এরিভোকে সম্প্রতি ‘প্রিমা ফেসি’ নামের একটি নাটকেও দেখা গেছে।
এরিভোর এই বক্তব্য শুধু দুই তারকার ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের সম্পর্ক নিয়ে চর্চার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলে। প্রচারের সময় দুই অভিনেত্রীর আবেগঘন মুহূর্তগুলো ভক্তদের কাছে যেমন ভালোবাসা পেয়েছে, তেমনি একাংশের কাছে তা সন্দেহের বিষয়ও হয়েছে। এরিভো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্দার বাইরের বন্ধুত্বকে বারবার যাচাই করার এই প্রবণতাই তাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে।
এই সাক্ষাৎকারের পর ভক্তদের একাংশ এরিভোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার আলোচনাও চলছে। তবে মূল বার্তাটি পরিষ্কার। দুজন নারী সহকর্মী থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন, আর সেই বন্ধুত্বের প্রকাশ নিয়ে অতি বিশ্লেষণ অনেক সময় সীমা ছাড়িয়ে যায়। এরিভোর ভাষায়, বন্ধুত্বকে বন্ধুত্ব হিসেবেই দেখা উচিত, তার পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা খোঁজা নয়।
উইকেডের প্রচার পর্বে এই বন্ধুত্বই ছিল সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়গুলোর একটি। দুই অভিনেত্রী একসঙ্গে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন, একে অপরের প্রশংসা করেছেন, আর আবেগঘন মুহূর্তগুলো ভক্তদের কাছে পৌঁছেছে। সেই মুহূর্তগুলোকে ঘিরেই একদিকে ভালোবাসা জমেছে, অন্যদিকে সন্দেহও তৈরি হয়েছে। এরিভোর সাক্ষাৎকার সেই দুই প্রতিক্রিয়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটি সরল কথা বলছে, বন্ধুত্বের প্রকাশকে সন্দেহের চোখে দেখা বন্ধ হোক।
এরিভোর পরের অধ্যায়ের দিকে তাকালেও এই বার্তার ধারাবাহিকতা দেখা যায়। ‘প্রিমা ফেসি’র মতো মঞ্চের কাজে তিনি একা দাঁড়িয়ে গল্প বলেছেন, আর উইকেডের পর্দায় তিনি বন্ধুত্বের গল্প বলেছেন। দুই মাধ্যমেই তার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সম্পর্ক আর আবেগ। এই সাক্ষাৎকার সেই কাজেরই একটি সম্প্রসারণ, যেখানে তিনি নিজের জীবনের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন, কোনো রাখঢাক ছাড়াই।
