বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভাইরাল

তানজিন তিশাকে লিগ্যাল নোটিশ: ২ দিনের মধ্যে ছবি-লেখা সরানোর দাবি, মাইনরদের ছবি নিয়ে অভিযোগ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৮ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
তানজিন তিশার লিগ্যাল নোটিশ নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার বাদী সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়ের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট শুভ্র সিনহা রায় নিজেই। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে ছবি ও লেখা সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, বিবাদী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন বাদী, আর মামলাগুলো চলমান রয়েছে। নোটিশের অভিযোগ অনুযায়ী, তিশা গত ২৭ অক্টোবর তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। এছাড়া দেশের গণমাধ্যমকেও ভুলভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছেন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এখানে মনে রাখা জরুরি, এগুলো নোটিশে তোলা অভিযোগ, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তিশা তাঁর ফেসবুক মেসেঞ্জারে বাদীকে ভাইরালের হুমকি দেন। নোটিশে উদ্ধৃত করা ভাষ্য অনুযায়ী, তিশা তখন বলেন, ফেমাস হলে বইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবো নে। বাদীর দাবি, তিশা তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর ছবি ফেসবুকে আপলোড দিয়ে সম্মানহানির ঘটনায় লিপ্ত রয়েছেন। এই হুমকির অভিযোগটিও এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি, এটি বাদীপক্ষের দাবি হিসেবেই রয়েছে।

নোটিশের আরেকটি অংশে দুই নারীর পরিচয় নিয়ে বিতর্কের কথা আছে। নোটিশে বলা হয়েছে, তিশা ফেসবুকে লেখেন, এই দুজন এক কেন, এই দুই বোনের মিলিত হয়ে ঘৃণা কেন। নোটিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে বাদী ও ছবি শেয়ার করা অপর নারী কখনো বোন নন। বাদী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার, অপরজন একজন নারী উদ্যোক্তা, তাঁদের মধ্যে পরিচয় রয়েছে মাত্র। তিশা এই সম্পর্ককে নেতিবাচক হিসেবে ব্যবহার করে বাদীর মানহানি ঘটিয়ে যাচ্ছেন বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগটি শিশুদের ছবি নিয়ে। নোটিশে বলা হয়েছে, তিশা তাঁর ফেসবুক পোস্টে দুইজন মাইনরের ছবি প্রকাশ করেছেন। ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে বাদীর ও শিশুর পরিবারের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এই অভিযোগের সত্যতাও আদালতে এখনো যাচাই হয়নি, তাই এটিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখতে হবে।

এই নোটিশের প্রেক্ষাপটটা বোঝা জরুরি। গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ও ১১৭(সি) ধারায় নতুন পিটিশন মামলাটি করেন সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন, আর আগামী ২৩ নভেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুরোনো মামলাটির গোড়ায় রয়েছে একটি শাড়ি ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ, যে মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ ছিল, পরে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিশার পক্ষের অবস্থানও এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। ২৭ অক্টোবরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, তাঁর একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল কথার অর্থ বদলে দেওয়া হয়েছে, আর ভিন্ন গল্প সাজিয়ে তা ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার মতো এমন চেষ্টা কেন করা হচ্ছে, সেটাই তাঁর জিজ্ঞাসা। তবে এই লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে তিশার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য জবাব পাওয়া যায়নি।

এরপর কী হবে, তা এখন কয়েকটি তারিখের ওপর নির্ভর করছে। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে ছবি ও লেখা সরানোর দাবি জানানো হয়েছে, ফলে সেই সময়সীমার মধ্যে তিশার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ আসে কি না, সেটাই প্রথম দেখার বিষয়। তারপর ২৩ নভেম্বর নতুন পিটিশন মামলায় হাজিরা, আর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোনো মামলার সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার কথা। এই তারিখগুলোতে নতুন তথ্য এলে মামলাটি আবার আলোচনায় আসবে। ততদিন পর্যন্ত অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখতে হবে, চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন