ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার, বিকৃত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার অভিযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এই তারকা দম্পতির প্রতিনিধিরা। সোমবার, ২৬ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদের সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি জনপ্রিয় টক শো কফি উইথ করণ-এ এই জুটির অংশ নেওয়া ঘিরে। সেখানে নিজেদের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে বিজয় জানান, বিয়েতে রাজি করানোর জন্য রাশমিকাকে প্রায় ১০০ বার প্রস্তাব দিতে হয়েছিল তাকে। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এই তারকা দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। পাশাপাশি তাদের পুরোনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামনে এনে বিজয়ের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আট পৃষ্ঠার দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন রাশমিকা। সেখানে তিনি জানান, সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সাধারণ মতামত প্রকাশের সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়েছে। বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রাশমিকা বলেন, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনেরই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিজয় সেই সিদ্ধান্ত নিতে সময় চেয়েছিলেন। এর অর্থ এই নয় যে তাদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল।
নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানান অভিনেত্রী। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমালোচনার নামে পরিবারের সদস্যদের আক্রমণ না করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে, সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশমিকার সঙ্গে একটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। সেখানে স্ত্রীকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তারা দুজনই দাম্পত্য জীবনে সুখী।
তারকা দম্পতির প্রতিনিধিদলের অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে মনগড়া বক্তব্য, বিকৃত স্ক্রিনশট, ভুয়া পরিচয়ে প্রচারণা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ কিংবা অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত প্রচারণা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকারকে তারা সম্মান করেন। তবে মতামত প্রকাশ এবং বানানো বা বিকৃত তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোস্টের লিংক ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারকা দম্পতির প্রতিনিধিরা। অর্থাৎ, শুধু বিবৃতি দিয়ে থেমে থাকেননি তারা, অভিযোগকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের পথে নিয়ে গেছেন। সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষ এখন জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।
এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনলাইন আচরণের সীমার প্রশ্ন। সমালোচনা আর হয়রানির পার্থক্য কোথায়, ভুয়া স্ক্রিনশট আর বিকৃত তথ্য ছড়ানো কতটা ক্ষতিকর, এসব নিয়ে আলোচনা এখন শুধু এই জুটির ভক্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিজয় ও রাশমিকা আগেও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন, তবে এবার তারা স্পষ্ট করে দিলেন, মতামতের নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ তারা মেনে নেবেন না। তদন্তের ফল কী দাঁড়ায়, সেদিকে এখন নজর থাকবে সবার।
