শাহরুখ খানের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি কিং-এর নতুন ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন অনুরাগীরা। কিন্তু সেই উন্মাদনার মধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। মঙ্গলবার প্রকাশিত ঝলক ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠেছে নকলের অভিযোগ। অনেকের দাবি, রণবীর সিংয়ের ধুরন্ধর ২-এর ঝলকের সঙ্গে নাকি বেশ মিল রয়েছে শাহরুখের ছবির দৃশ্যসজ্জায়। আগুনের পটভূমি থেকে শুরু করে দৃশ্যের উপস্থাপনা, সবকিছুতেই ধুরন্ধর-এর ছাপ খুঁজে পাচ্ছেন তারা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ঝলকে দেখা যায়, এক হাতে বন্দুক, ঠোঁটের ফাঁকে গোলাপ। চোখেমুখে আগুনঝরা অভিব্যক্তি, শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। বিপজ্জনক অথচ রোমান্টিক, দুই মেজাজের মিশেলে ধরা দিয়েছেন বলিউডের বাদশা। কিন্তু ছবির গল্পের চেয়ে আপাতত বেশি আলোচনা হচ্ছে ঝলকের দৃশ্যায়ন নিয়ে। শাহরুখের নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে প্রকাশিত এই পোস্টারের ক্যাপশনেও ছিল রোমান্টিক অথচ বিপজ্জনক চরিত্রের ইঙ্গিত, যেখানে তিনি নিজেকে খুনি নয়, প্রেমিক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
এক্স হ্যান্ডেলে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, চেহারা, আগুন আর ফ্রেম নকল করা যায়, কিন্তু তাতে ধুরন্ধর হওয়া যায় না। তার দাবি, ঝলকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এবং নিম্নমানের। অন্য এক নেটাগরিকের মন্তব্য, প্রতিটি সেরা শিল্পকর্মেরই একটি সস্তা নকল থাকে। এই ধরনের মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, আর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে পাল্টা যুক্তিও। শাহরুখ ভক্তদের অনেকেই বলছেন, অ্যাকশন ছবিতে আগুন, বন্দুক আর আঘাতের চিহ্ন নতুন কিছু নয়, সেগুলোকে নকল বলা বাড়াবাড়ি।
শুধু ঝলক নয়, ছবির চিত্রনাট্য নিয়েও কটাক্ষ করছেন কেউ কেউ। এক নেটাগরিক ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, লেও দ্য প্রফেশনাল থেকে চিত্রনাট্য ধার করার পর এ বার ঝলকও নাকি ধুরন্ধর ২ থেকে তুলে আনা হয়েছে। অন্য এক জনের অভিযোগ, ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ-এর ঝলকের নকশার ভাবনা হুবহু অনুসরণ করা হয়েছে। আরো এক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, কিং-এর প্রথম ঝলক নাকি ব্র্যাড পিট অভিনীত এফ ১ থেকে অনুপ্রাণিত, আর দ্বিতীয়টি ধুরন্ধর ২ থেকে। এমন অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ঝলকের এই অবস্থা হলে পুরো ছবিতে আর কত ছবির ছাপ পাওয়া যাবে। পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দকে কটাক্ষ করে তাকে কপি-পেস্ট মাস্টার বলেও উল্লেখ করেছেন ওই নেটাগরিক।
তবে এসবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটাগরিকদের অভিযোগ ও মন্তব্য। এ বিষয়ে ছবির নির্মাতা বা শাহরুখ খানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নকলের অভিযোগ এখন পর্যন্ত দর্শকদের একাংশের মতামতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এর পক্ষে বা বিপক্ষে নির্মাতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। এই নীরবতাও আলোচনাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ ভক্তরা অপেক্ষা করছেন নির্মাতারা কিছু বলবেন কি না, তা দেখার জন্য।
সম্প্রতি ৬০তম জন্মদিনের আগে এক আলাপচারিতায় কিং-এ নিজের চরিত্র নিয়ে কথা বলেছিলেন শাহরুখ। জানিয়েছিলেন, ছবিতে তাকে দেখা যাবে ধূসর চরিত্রে। নায়ক-খলনায়কের চিরাচরিত বিভাজনে তিনি বিশ্বাস করেন না বলেও জানান অভিনেতা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ছবি ডর-এর প্রসঙ্গ টেনে শাহরুখ বলেন, বর্তমান সময়ে ওই চরিত্রকে অনেকেই খলনায়ক হিসেবে দেখতেন। ডন, আনজাম ও বাজিগর-এর মতো ছবিতেও তিনি মূলত খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন অভিনেতা। এই প্রেক্ষাপটে নতুন ঝলকের বিপজ্জনক অথচ রোমান্টিক চরিত্রটি তার ধূসর চরিত্রের ধারণার সঙ্গেই মিলে যায়।
কিং-এ শাহরুখের সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন তার মেয়ে সুহানা খান। এ ছাড়া রয়েছেন দীপিকা পাডুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন, অনিল কাপুর ও আরশাদ ওয়ারসি। ছবিটি পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। প্রযোজনায় রয়েছে রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স। এত বড় তারকা সমাবেশ আর বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা এমনিতেই আকাশছোঁয়া, আর সেই প্রত্যাশার চাপেই প্রতিটি ঝলককে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে দেখছেন দর্শকেরা।
এদিকে বক্স অফিসেও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে কিং। একই সময়ে বড় বাজেটের একাধিক ছবির সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে শাহরুখের ছবিটির। সেই তালিকায় রয়েছে অ্যাভেঞ্জার্স ডুমসডে, ডিউন পার্ট থ্রি এবং নাগার্জুনের ১০০তম ছবি কিং১০০। তাই ঝলক নিয়ে বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ছবির প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বোঝা যাবে আগামী দিনগুলোতে। আপাতত এটুকু স্পষ্ট, কিং-এর প্রতিটি নতুন ঝলকই এখন শুধু ঘোষণা নয়, বিতর্কেরও উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
