একসময় নব্বইয়ের দশকে অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছিলেন অভিনেতা সমু চৌধুরী। অথচ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। কখনো বাজারে, কখনো মাজারে, আবার কখনো গানের আসরে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এমন চলাফেরার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিনেতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। এবার সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সমু চৌধুরীর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে অভিনেতার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের পোস্টে সমু চৌধুরীকে নিয়ে আবেগ প্রকাশ করে মনিরা মিঠু লিখেছেন, 'আহারে শিল্পী! কত একা আপনি।' তার ভাষ্য, অনেকে সমু চৌধুরীকে পাগল কিংবা নেশাগ্রস্ত হিসেবে দেখলেও তার ধারণা, এই অভিনেতা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
পোস্টে সমু চৌধুরী 'বাইপোলার পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে' আক্রান্ত বলেও দাবি করেন মনিরা মিঠু। তবে এ বিষয়ে কোনো চিকিৎসকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা রোগ নির্ণয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এই দাবিকে এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।
সমু চৌধুরীর জীবনের বেদনাদায়ক এক অধ্যায়ের কথাও তুলে ধরেন মনিরা মিঠু। তার দাবি, এক সড়ক দুর্ঘটনায় সমু চৌধুরীর ভাইবোনসহ পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্য মারা যান। বর্তমানে তার বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন। দুর্ঘটনার আগে নিয়মিত অভিনয় করতেন সমু চৌধুরী। কিন্তু ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অভিনয়জগৎ থেকে আড়ালে ছিলেন তিনি। পরে আবার অভিনয়ে ফেরেন।
একজন প্রতিভাবান শিল্পীর এমন পরিণতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে। শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আবারও। মনিরা মিঠুর আকুতির পর অনেকেই সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
মনিরা মিঠু নিজেও অভিনয়শিল্পী। সহশিল্পীর দুর্দশা দেখে তার এই আবেগঘন আহ্বান শিল্পীসমাজের ভেতরের সংহতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, এই আকুতির জবাবে কারা এগিয়ে আসেন সমু চৌধুরীর পাশে।
নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকে সমু চৌধুরী ছিলেন পরিচিত মুখ। সেই সময়ের অনেক দর্শকের স্মৃতিতে এখনো তার অভিনয় জ্বলজ্বলে। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর জীবনের এমন মোড় অনেকের কাছেই বেদনাদায়ক। মনিরা মিঠুর পোস্টের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই সেই স্মৃতিচারণ করছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলা এখনো আমাদের সমাজে কঠিন। মনিরা মিঠু যেভাবে 'পাগল' বা 'নেশাগ্রস্ত' তকমার বদলে চিকিৎসা ও পরিচর্যার কথা বলেছেন, তা এই আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় সঠিক চিকিৎসা ও পারিবারিক সহায়তাই সবচেয়ে জরুরি। সমু চৌধুরীর ক্ষেত্রেও সেই সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মনিরা মিঠু।
মনিরা মিঠুর আহ্বানের মূল দাবি স্পষ্ট: সমু চৌধুরীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা। একজন শিল্পী যখন অসহায় অবস্থায় পড়েন, তখন শিল্পীসমাজ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দায়িত্বের প্রশ্ন ওঠে স্বাভাবিকভাবেই। এই আকুতি সেই দায়িত্বের কথাই মনে করিয়ে দিল। এখন দেখার, এই ডাকে কারা সাড়া দেন।
