বিনোদন ঝলক
তারকা

প্রেমে নিজ ধর্ম ছেড়েছিলেন যেসব তারকা: শর্মিলা থেকে অপু বিশ্বাস

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০২৬5 মিনিটে পড়ুন
অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের প্রতিকৃতি
অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস (ছবি: SazzadHossain, CC BY-SA 4.0)

ভালোবাসার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। কেউ পরিবার ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করে, কেউ পেশা বদলে ফেলে, আবার কেউ প্রিয় মানুষের সঙ্গে সংসার গড়তে নিজের ধর্মীয় পরিচয়ও বদলে ফেলে। বিনোদন জগতের তারকাদের জীবনে এমন ঘটনা কম নয়। ভিন্ন ধর্মের প্রেম, বিয়ে আর ধর্মান্তর নিয়ে হলিউড, বলিউড ও ঢালিউডে বহুবার আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে একটা কথা মনে রাখা জরুরি: এই ঘটনাগুলোর সব কটি সমানভাবে প্রমাণিত নয়। কোথাও তারকারা নিজেরাই ধর্ম বদলের কথা স্বীকার করেছেন, কোথাও আবার পুরো বিষয়টাই রয়ে গেছে গুঞ্জন আর বিতর্কের মধ্যে।

এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। শাকিব খানকে বিয়ের পর ধর্মান্তরের কথা তিনি একসময় নিজেই জানিয়েছিলেন, আবার কয়েক বছর পর সেই বক্তব্য থেকেই সরে এসেছেন। এই টানাপোড়েনই তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুগান্তরের সাম্প্রতিক এক ফিচারে এই বিষয়টির দিকে ফের নজর গেছে, যেখানে হলিউড থেকে বলিউড, বলিউড থেকে ঢালিউড পর্যন্ত ভালোবাসার টানে ধর্ম বদলানো তারকাদের গল্প একসাথে তুলে ধরা হয়েছে।

হলিউডে প্রেমের টানে ধর্ম বদলের ঘটনা নতুন নয়। কিংবদন্তি অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর ১৯৫৯ সালে স্বামী এডি ফিশারকে বিয়ে করার আগেই ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। আইকনিক তারকা মেরিলিন মনরো নাট্যকার আর্থার মিলারকে বিয়ে করার সময় ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। অভিনেত্রী আইলা ফিশার অভিনেতা সাশা ব্যারন কোহেনকে বিয়ের আগে ২০০৭ সালে একই পথে হেঁটেছিলেন।

তালিকাটা আরও দীর্ঘ। অভিনেতা টম আর্নল্ড ১৯৯০ সালে কমেডিয়ান রোজান বারকে বিয়ের আগে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। জোই দেশানেল প্রযোজক জেকব পেচনিককে বিয়ের আগে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এমনকি টম ক্রুজের সঙ্গে বিয়ের পর কেটি হোমসের সায়েন্টোলজি গ্রহণের কথাও প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

বলিউডে ধর্মান্তরের গল্প আরও রঙিন। বাঙালি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া শর্মিলা ঠাকুর ক্রিকেটার মনসুর আলী খান পতৌদিকে বিয়ে করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তার নাম রাখা হয়েছিল বেগম আয়েশা সুলতান। শিখ পরিবারের মেয়ে অমৃতা সিং ১৯৯১ সালে সাইফ আলি খানকে বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর গল্পটি সবচেয়ে বিতর্কিত। ১৯৮০ সালে তারা বিয়ে করেন, কিন্তু তখন ধর্মেন্দ্র প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের চার সন্তানও ছিল। এই পরিস্থিতিতে হেমাকে বিয়ে করতে ধর্মেন্দ্র ও হেমা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, এমন খবর বহু বছর ধরে প্রচলিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র দিলাওয়ার খান এবং হেমা আয়েশা নাম নিয়েছিলেন। তবে এই বিষয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে: ধর্মেন্দ্র নিজেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, নিজের স্বার্থে ধর্ম বদলানোর মানুষ তিনি নন। হেমা মালিনীও ধর্মান্তরের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেননি।

টেলিভিশন জগতেও এমন উদাহরণ আছে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা কাকর অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমকে বিয়ের জন্য ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম বদলে ফায়েজা রাখেন। অভিনেতা ভিভিয়ান ডিসেনা ২০১৯ সালের রমজান মাসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, পরে ২০২২ সালে মিসরের সাংবাদিক নৌরান আলীকে বিয়ে করেন। রাখি সাওয়ান্ত প্রেমিক আদিল খান দুররানিকে বিয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করে নাম রেখেছিলেন ফাতিমা। অভিনেত্রী আয়েশা তাকিয়াও বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

তবে ছবিটা একরকম নয়। ধর্ম বদল না করেও ভিন্ন ধর্মের জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করে সুখের সংসার করছেন অনেক বলিউড তারকা। শাহরুখ খান ও গৌরির দাম্পত্যজীবন প্রায় ৩০ বছরের, কেউ ধর্ম বদলাননি। আমির খান তিনবার বিয়ে করেছেন, তার তিন স্ত্রীই হিন্দু ধর্মের, কেউ ধর্ম পরিবর্তন করেননি। আরবাজ খান ও মালাইকা আরোরা, জেনেলিয়া ও রীতেশ দেশমুখ, কারিনা কাপুর ও সাইফ আলি খান, ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ, প্রিয়াংকা চোপড়া ও নিক জোনাস, সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবাল, স্বরা ভাস্কর ও সমাজবাদী পার্টির যুবনেতা ফাহাদ আহমেদ, এরা সবাই ধর্ম পরিবর্তন ছাড়াই সংসার করছেন।

ঢালিউডে অপু বিশ্বাসকে ঘিরে বিতর্ক সবচেয়ে জোরালো। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল তার ও শাকিব খানের বিয়ে হয়, কিন্তু দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন ছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এসে অপু বিয়ে ও সন্তান আব্রাম খান জয়ের কথা প্রকাশ করেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, শাকিবকে বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং অপু ইসলাম খান নাম নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার বক্তব্যে পরিবর্তন আসে: ২০২৫ সালের মে মাসে এক সাক্ষাৎকারে অপু জানান, তিনি আসলে ইসলাম গ্রহণ করেননি, পরিবারের কথা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় আগে তাকে ধর্মান্তরের কথা বলতে হয়েছিল।

অপুর আগেও ঢালিউডে এমন ঘটনা ছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী অভিনেত্রী অঞ্জনা পরিচালক আজিজুর রহমান বুলিকে বিয়ে করার সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, বিয়ের পর তার নাম হয় অঞ্জনা রহমান। পরে ব্যক্তিগত কারণে তাদের সংসার ভেঙে যায়। অভিনেতা সুব্রত চিত্রনায়িকা দোয়েলকে বিয়ে করলেও ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে তারা কখনো মুখ খোলেননি, যদিও তাদের মেয়ে চিত্রনায়িকা দীঘি ইসলাম ধর্মের অনুসারী।

ধর্ম না বদলে দাম্পত্যের উদাহরণ ঢালিউডেও আছে। গায়ক বাপ্পা মজুমদার একসময় অভিনেত্রী চাঁদনীকে বিয়ে করেছিলেন, তারা কেউ নিজ ধর্ম ত্যাগ করেননি, যদিও পরে তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। আবার ধর্ম ত্যাগ না করেও দীর্ঘ দাম্পত্যজীবন ফুরফুরে, এমন জুটির মধ্যে অন্যতম রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদার। গায়িকা শাকিলা জাফর ২০১৫ সালে ভারতীয় নাগরিক ও হিন্দু ধর্মের অনুসারী কবি ও প্রকৌশলী রবি শর্মাকে বিয়ে করেন। মুসলিম অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি হিন্দু ধর্মের নাট্যকার বৃন্দাবন দাসকে বিয়ে করে সংসার করছেন। হিন্দু ধর্মের অনুসারী সংগীতশিল্পী অনিমা রায় বিয়ে করেন মুসলিম সাংবাদিক, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক তানভীর তারেককে, তারাও ধর্ম পরিবর্তন করেননি।

কেন এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ? কারণ ধর্ম মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয়ের একটি, আর জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা যখন সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন বা নিজের বক্তব্য বদলে ফেলেন, তখন ভক্তদের আবেগ ও সামাজিক বিতর্ক দুটোই জেগে ওঠে। অপুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই মানুষের দুই রকম বক্তব্য পুরো বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এরপর কী? অপুকে ঘিরে এই বিতর্কে তার নতুন কোনো বক্তব্য আসে কিনা, এবং বলিউড-হলিউডের এই পুরনো গল্পগুলো ভক্তদের মনে কী প্রতিক্রিয়া তোলে, সেটাই এখন দেখার।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার