বলিউডে অভিষেকের পর সাত বছর পেরিয়েছে সারা আলি খানের। এই সময়ে তিনি শুধু সিনেমার সংখ্যাই বাড়াননি, অভিনয়ের বাইরে বিজ্ঞাপন আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার কাজ থেকেও আয় বাড়িয়েছেন। আর সেই আয়ের ধারাবাহিকতাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে, কারণ বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ছয় বছরে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
১ নভেম্বর সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় সারার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ কোটি রুপি। বর্তমানে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ কোটি রুপিতে। যুগান্তরেও একই ধারার হিসাব এসেছে, যেখানে ২০১৯ সালের ১৩ কোটি থেকে ২০২১ সালে আনুমানিক ২০ কোটি, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ কোটি এবং সাম্প্রতিক হিসাবে প্রায় ৪১ কোটি রুপির কথা বলা হয়েছে।
এই অঙ্কগুলোকে একেবারে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। সমকালের প্রতিবেদনেই পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, এগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী পাওয়া অনুমান। সারা নিজে বা তাঁর প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে মোট সম্পত্তির কোনো হিসাব প্রকাশ করেননি। তাই ৪১ কোটি রুপির সংখ্যাটিকে বুঝতে হবে প্রকাশিত অনুমানের আলোকে, নিশ্চিত নিরীক্ষিত সম্পদ তালিকা হিসেবে নয়।
সম্পত্তি বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় উৎস অভিনয়। ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রায় ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন সারা। সিনেমার বাজেট, চরিত্রের গুরুত্ব আর চুক্তির ধরন অনুযায়ী এই অঙ্ক কমবেশি হতে পারে, তবে প্রতিবেদনগুলোতে এই ৩ কোটি রুপির সংখ্যাটিই বারবার এসেছে।
অভিনয়ের বাইরে বিজ্ঞাপনও তাঁর আয়ের বড় অংশ। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর পারিশ্রমিক প্রায় ১ কোটি রুপি বলে জানা গেছে। অর্থাৎ সিনেমা আর ব্র্যান্ডের কাজ মিলিয়ে আয়ের দুটি ধারাই একসঙ্গে চলছে, আর সেটাই সম্পত্তির ধারাবাহিক বৃদ্ধির ব্যাখ্যা হিসেবে প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে।
২০১৮ সালে কেদারনাথ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় সারা আলি খানের। তিনি সাইফ আলি খানের মেয়ে, তবে অভিষেকের পর থেকে নিজের পরিচয় গড়ার চেষ্টা করেছেন আলাদা করে। একের পর এক সিনেমায় কাজ করে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি, আর সেই ধারাবাহিক কাজের ফল হিসেবেই পারিশ্রমিক আর সম্পত্তির আলোচনা এখন নিয়মিত হচ্ছে।
বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহও এই আলোচনার অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী সারার গাড়ির সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জ জি ক্লাস জি ৩৫০ডি ও জিপ কম্পাসের মতো দামি এসইউভি। গাড়ির প্রতি আগ্রহের কথা আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, তবে এবারের আলোচনার মূল বিষয় গাড়ি নয়, বরং ছয় বছরে সম্পত্তির লাফ।
কাজের দিক থেকে সারা এখনো ব্যস্ত। গত ২৩ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত স্পাই কমেডি ঘরানার সিনেমা উড়তা তীর। করণ জোহর প্রযোজিত এই ছবিতে আয়ুষ্মান খুরানার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন সারা। নতুন সিনেমার মুক্তির পরপরই সম্পত্তি আর পারিশ্রমিকের হিসাব সামনে আসায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
এই আলোচনা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, তারকাদের সম্পত্তির অঙ্ক নিয়ে পাঠকের কৌতূহল কখনো কমে না। কিন্তু সেই কৌতূহলের পাশাপাশি মনে রাখা দরকার, প্রকাশিত অঙ্কগুলো অনুমাননির্ভর। সারার ক্ষেত্রে ১৩ থেকে ৪১ কোটি রুপির যাত্রাটা তাই একটি ধারাবাহিক গল্প, যেখানে অভিনয়, বিজ্ঞাপন আর নিয়মিত কাজ মিলিয়ে আয়ের ছবিটা ধীরে ধীরে বড় হয়েছে।
এরপর কী? উড়তা তীরের পর সারার পরের সিনেমা আর ব্র্যান্ডের কাজগুলোই ঠিক করবে এই আলোচনা কোন দিকে যাবে। নতুন কোনো বড় সিনেমা এলে পারিশ্রমিকের অঙ্ক আবারও খবরে আসবে, আর সম্পত্তির অনুমানও নতুন করে হিসাব হবে। আপাতত ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনগুলো বলছে, ছয় বছরে সারার আর্থিক যাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী, আর সেই ঊর্ধ্বগতির গল্পটাই এখন সবার মুখে।
