ফিফা বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করে যিনি আলোচনায় এসেছিলেন, সেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব এবার নিজের দেশের দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন। আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পারফর্মার হিসেবে মঞ্চ মাতাবেন তিনি। নিজেই একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে আসার খবর জানিয়েছেন সঞ্জয়, আর সেই খবর প্রকাশের পর থেকেই সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সঞ্জয় দেবের নাম অনেকের কাছে পরিচিত হয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে। ফিফা বিশ্বকাপের আসরে তিনি সির সির পরিবেশন করে নজর কেড়েছিলেন। সেই পরিবেশনার সময় তাঁর পরনে ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি সংবলিত বিশেষ একটি জ্যাকেট। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের বাংলাদেশি শিকড়ের কথা এভাবে তুলে ধরার বিষয়টি তখন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। একজন প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয়কে তিনি লুকিয়ে রাখেননি, বরং সেটিকেই নিজের পরিবেশনার অংশ করে তুলেছিলেন।
এবারের আয়োজনটি শুধু একটি কনসার্ট নয়, একটি ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬ এর উদ্বোধনী রাতে বিশেষ অতিথি পারফর্মার হিসেবে থাকছেন সঞ্জয়। ফুটবলের উত্তেজনার সঙ্গে সংগীতের উদযাপন মিলিয়ে উদ্বোধনী রাতটিকে স্মরণীয় করে তোলাই আয়োজকদের লক্ষ্য। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীকে এই মঞ্চে আনার মধ্য দিয়ে দেশের দর্শকদের সঙ্গে তাঁর সংযোগ আরও গভীর করার চেষ্টা স্পষ্ট।
বাংলাদেশে পারফর্ম করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সঞ্জয় দেব। তাঁর ভাষায়, ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করা তাঁর জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল, তবে নিজের দেশের মানুষের সামনে পারফর্ম করার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দর্শকদের সঙ্গে সেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন। আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি টেকনোকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে টেকনো বাংলাদেশের আইস্মার্টইউ টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেছেন, সঞ্জয় বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের শিকড়ের সম্পর্ক অটুট রেখে নিজের সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেছেন। তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর মতে, ফুটবল ও সংগীতের এমন এক শক্তি রয়েছে, যা ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। তাই উদ্বোধনী রাতটি দর্শকদের জন্য আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর স্মরণীয় মুহূর্তে ভরপুর করে তোলাই তাঁদের চাওয়া।
সঞ্জয় দেবের এই সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ শুধু একটি পারফরম্যান্স নয়। প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীরা যখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন, তখন দেশের তরুণ সংগীতপ্রেমীদের কাছে সেটি একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে ওঠে। ডিজে ও সংগীত প্রযোজক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করা একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীর দেশে ফিরে মঞ্চে ওঠা সেই গল্পেরই পরের অধ্যায়। ফুটবলের দর্শক আর সংগীতের দর্শক, দুই ধরনের দর্শকই এই উদ্বোধনী রাতে এক মঞ্চের সামনে জড়ো হবেন।
এখন সবার নজর ৫ নভেম্বরের দিকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেব কোন কোন পরিবেশনা নিয়ে হাজির হবেন, বিশ্বকাপের মঞ্চের সেই সির সির মুহূর্তটি দেশের মঞ্চে ফিরবে কি না, সেসব প্রশ্ন ঘুরছে ভক্তদের মধ্যে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো পুরো পরিবেশনার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটুকু নিশ্চিত, নিজের দেশের মানুষের সামনে গান শোনানোর যে অনুভূতির কথা সঞ্জয় নিজে বলেছেন, সেটিই হবে ওই রাতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
