বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

সাজেকে সমঝোতা হয়নি, অবরোধ চলবে: ৫ দিনের দাবি বনাম ৩ সপ্তাহের সময়, পর্যটকদের কী করণীয়

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৭ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সাজেক অবরোধ নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

সাজেকের সংকট কাটল না সোমবারের বৈঠকেও। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে চলমান আন্দোলন নিরসনে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে জাগো নিউজ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সাজেকের উজো বাজারে দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বৈঠকে মূল টানাপোড়েনটা ছিল সময় নিয়ে। সাজেক থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারপক্ষ তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাতে সম্মত হননি। তাঁরা সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ব্যবধান না মেটায় সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। অর্থাৎ, বৈঠক হয়েছে, কথা হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়নি, আর সড়কও খোলেনি।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির কেন্দ্রে আছে সাজেক এলাকা থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবির মধ্যে আরও আছে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য পরিষ্কার: সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।

ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝতে পেছনে তাকাতে হয়। গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে, যমুনা টেলিভিশনের ভাষায় এটি তৃতীয় দফার কর্মসূচি। ২৬ অক্টোবর, অর্থাৎ অবরোধের পঞ্চম দিনে, সকালেও সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। একই দিন বেলা ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদে প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ও স্থানীয় হেডম্যান কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। তারপর বিকেলে উজো বাজারে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বড় বৈঠক, যা শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো।

এই অবরোধের ধাক্কা শুধু সাজেকের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। যমুনা টেলিভিশন জানিয়েছে, সাজেকের পাশাপাশি বাঘাইহাট ও দীঘিনালার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা। জাগো নিউজের সোমবার সকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকায় সাজেক ভ্যালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, আর স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাত এড়াতে সাজেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য এই মুহূর্তের বার্তাটা তাই স্পষ্ট, কিন্তু অস্বস্তিকর: সাজেক এখনো খোলেনি। যাঁরা এই সপ্তাহে সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের উচিত যাত্রা শুরুর আগে সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট বা বুকিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। অবরোধ চলমান থাকায় সড়কে আটকে পড়ার ঝুঁকি এখনো আছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সাজেককে ভ্রমণ তালিকায় রেখে অপেক্ষা করাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

এরপর কী হবে, সেটা এখন নির্ভর করছে পরের বৈঠকের ওপর। আন্দোলনকারীরা পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের শর্তও স্পষ্ট: পাঁচ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাই। সরকারপক্ষের চাওয়া তিন সপ্তাহের সঙ্গে এই পাঁচ দিনের ব্যবধানটাই এখন মূল আলোচনার বিষয়। এই ব্যবধান কমলে সড়ক খুলতে পারে, না কমলে অবরোধ আরও লম্বা হবে। সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভ্রমণপরিকল্পনাকারী, সবার চোখ এখন সেই পরের বৈঠকের দিকে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার