রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা দশম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে। শনিবার, ৩১ অক্টোবর সকালেও সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেওয়ার খবর এসেছে, আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করেছে।
তৃতীয় দফার এই অবরোধ শুরু হয়েছিল ২২ অক্টোবর। ডাক দিয়েছিল সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। তিন দফা দাবিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অবরোধ চলছে। এর আগে প্রথম দফায় ১১ অক্টোবর এক দিনের অবরোধ হয়েছিল, দ্বিতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর আবার ডাক দেওয়া হয়। শারদীয় দুর্গাপূজার জন্য ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল, পূজা শেষে ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফা শুরু হয়।
তবে আগামীকাল, রোববার ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল থাকবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, মোট ১২ ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল করবে। সংগঠন দুটির নেতারা জানিয়েছেন, এলাকার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজেকে চলমান বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এই শিথিলতা সাময়িক, এটা বারবার স্পষ্ট করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বরের পর থেকে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পুনরায় অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ ২ নভেম্বর, সোমবার থেকে সাজেক সড়ক আবার বন্ধ থাকার কথা। যারা ১ নভেম্বরের ১২ ঘণ্টার জানালাকে সাজেক খুলে যাওয়া ভাবছেন, তাদের জন্য এই পার্থক্যটা বোঝা খুব জরুরি।
দশ দিনের অবরোধে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন স্থানীয় মানুষ ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা। সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পর্যটন ব্যবসা, স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটকশূন্য সাজেকে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, গাড়িচালক ও স্থানীয় দোকানিদের আয় কার্যত থমকে আছে।
পর্যটকদের জন্য করণীয় এখন পরিষ্কার। ১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সাজেকে যাওয়া বা ফেরার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকে স্থানীয় প্রশাসন, রিসোর্ট বা গাড়িচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সড়কের হালনাগাদ অবস্থা জেনে নিন। সন্ধ্যা ৬টার পর আটকে পড়ার ঝুঁকি নেবেন না, কারণ এরপর আবার অবরোধ শুরু হবে। আর ২ নভেম্বর বা তার পরে সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বুকিং করার আগে অবরোধের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করুন, প্রয়োজনে তারিখ পেছান বা বিকল্প গন্তব্য ভাবুন।
সাজেক নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আলোচনার মাধ্যমে অবরোধের স্থায়ী সমাধান কবে আসবে। তিন দফা দাবি নিয়ে সংগঠনগুলোর অবস্থান ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো স্পষ্ট নয়। যতদিন সমাধান না আসছে, ততদিন সাজেক ভ্রমণের আগে প্রতিদিনের আপডেট দেখে নেওয়াই নিরাপদ পথ। এই প্রতিবেদনের তথ্য ৩১ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত হালনাগাদ, পরিস্থিতি বদলালে নতুন আপডেট আসবে।
