বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সাজেক অবরোধ ১ নভেম্বর একদিনের জন্য শিথিল: সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে যান, এরপর আবার অবরোধ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩০ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সাজেক অবরোধ ১ নভেম্বর শিথিলের খবরের গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের সড়ক অবরোধ রোববার, ১ নভেম্বর একদিনের জন্য শিথিল থাকবে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৭টায় এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল থাকবে। এই সময়ে পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

তবে এই ঘোষণাকে অবরোধ প্রত্যাহার ভাবার কোনো সুযোগ নেই, কারণ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি আবার চালু হবে। অর্থাৎ ১ নভেম্বরের সন্ধ্যা ৬টার পর সাজেক সড়কের পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার কথা। যারা সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটাই এই খবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিনের জানালা খুলছে, কিন্তু সড়ক স্থায়ীভাবে খুলছে না।

শিথিলতার কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে। জাগো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারেন এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত করতে পারেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। টানা অবরোধে সাজেকের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও পর্যটন ব্যবসার ওপর। একদিনের এই বিরতি দিয়ে সেই চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবের বিষয়টিও যুক্ত। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে উদযাপন করা যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে। ফলে ১ নভেম্বর দিনটি স্থানীয় মানুষের জন্য খাদ্য ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি উৎসবের প্রস্তুতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবরোধের পটভূমি মনে রাখলে এই ঘোষণার তাৎপর্য আরও পরিষ্কার হয়। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এটি তৃতীয় দফার কর্মসূচি, আর শুক্রবার ছিল এর নবম দিন। এই নয় দিনে সাজেক কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকে, পর্যটন ও পরিবহন ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ে এবং খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সকালে প্রকাশিত আমাদের প্রতিবেদনেও নবম দিনের এই দুর্ভোগের চিত্রই উঠে এসেছিল।

পর্যটকদের জন্য ব্যবহারিক বার্তাটা তাই সতর্কতার। ১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকার কথা বলা হলেও, ওই দিন সন্ধ্যার পর আবার অবরোধ শুরু হওয়ার ঘোষণা আছে। তাই কেউ যদি ওই জানালায় সাজেক যান, তাহলে ফেরার পরিকল্পনা আগেই ঠিক করে রাখা জরুরি। যাত্রার আগে রিসোর্ট, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। অনুমানের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘ পাহাড়ি যাত্রা শুরু করা ঠিক হবে না, কারণ পরিস্থিতি ঘোষণার পরও বদলে যেতে পারে।

এরপর কী হবে, সেটা এখনো অনিশ্চিত। পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সমঝোতার কোনো নতুন খবর এই প্রতিবেদনে আসেনি, আর আন্দোলনকারীরা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথাই জানিয়েছেন। ফলে ১ নভেম্বরের শিথিলতা একটি সাময়িক বিরতি হিসেবেই দেখতে হবে, সমাধান হিসেবে নয়। প্রশাসন বা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা এলে সাজেকের পরিস্থিতি আবার বদলাতে পারে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র আমরা তা জানিয়ে দেবো। আপাতত সাজেকের পরিকল্পনা যাদের আছে, তাদের জন্য পরামর্শ একটাই, ১ নভেম্বরের জানালাটা মাথায় রাখুন, কিন্তু স্থায়ী স্বাভাবিক চলাচল ধরে নিয়ে পরিকল্পনা করবেন না।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন