বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সাজেক অবরোধ নবম দিনে: সকালে সড়কে আগুন, বাঘাইহাটে সেনাপ্রধান, পর্যটকদের জন্য যা জানা জরুরি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩০ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সাজেক অবরোধ নবম দিনে
ছবি: বিনোদন ঝলক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর নবম দিনে গড়িয়েছে। সকালে অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেন অবরোধকারীরা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে বলে জানিয়েছে রাইজিংবিডি। একই দিনে জাগো নিউজ জানিয়েছে, সংকট নিরসনে এখনো কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এই উত্তেজনার মধ্যেই বাঘাইহাট জোনের সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বাঘাইহাট জোনে যান। বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাসদস্যদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রাম এরিয়ার এরিয়া কমান্ডারসহ সেনা সদর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজোবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা; পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধ করা।

আন্দোলনের সূচনা আরও আগে। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের দেওয়া আগের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে সংগঠন দুটি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়। পরে ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

২২ অক্টোবর সকালের ঘটনা এখনো এই সংকটের কেন্দ্রে। সেদিন সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনভয়টি সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথরোধ করেন। দীর্ঘ আলোচনার পরও অবরোধকারীরা পথ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অবরোধে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন বলে রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

সমঝোতার চেষ্টা থেমে নেই, কিন্তু ফল আসেনি। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধি দলের দীর্ঘ বৈঠক হয়। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় এবং অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে সংকট নিরসনে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ সভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এবং হেডম্যান কল্যাণ মিত্র চাকমা রয়েছেন।

টানা নয় দিন সড়ক বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্ধ রয়েছে পর্যটকদের যাতায়াত, স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন ও পরিবহন ব্যবসা। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আগের দিনগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রায় ৩ হাজার পরিবহন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং খাগড়াছড়িও কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের দৈনিক কোটি কোটি টাকার ক্ষতির কথাও আগের প্রতিবেদনগুলোতে উঠেছে।

পর্যটকদের জন্য বার্তাটা এখনো একই: সাজেক এখন যাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা আজকের প্রতিবেদনগুলোতে নেই। বরং নবম দিনের অবরোধ, সকালে সড়কে আগুন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর টহলের খবর বলছে, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাই সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। হোটেল বা রিসোর্টে অগ্রিম টাকা দেওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিংয়ের শর্ত জেনে নেওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় অবরোধ উঠে গেছে বলে কোনো পোস্ট দেখলে সেটাকে নিশ্চিত খবর ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

এরপর কী হবে, তা নির্ভর করছে মূল দাবিটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় কি না, তার ওপর। চারটি দাবিতে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্য সরানোর দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড়। এই জায়গায় অগ্রগতি না হলে অবরোধ চলতেই থাকবে বলে আজকের প্রতিবেদনগুলোর ইঙ্গিত। প্রশাসনের পরবর্তী বৈঠক বা সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন এলে তা জানানো হবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন