বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন নিবন্ধন ১ নভেম্বর কীভাবে করবেন: জাহাজ চলবে কবে, কোন ঘাট থেকে যাবেন

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩১ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সেন্টমার্টিন নিবন্ধন ও জাহাজ চলাচল নিয়ে খবরের নিজস্ব গ্রাফিক
সেন্টমার্টিন: ১ নভেম্বর নিবন্ধন, জাহাজ ৫ বা ৬ নভেম্বর হতে পারে (ছবি: বিনোদন ঝলক)

আগামীকাল, ১ নভেম্বর রোববার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে, কিন্তু ওই দিন সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলবে না। এই দুটি তথ্য একসঙ্গে না বুঝলে ভ্রমণ পরিকল্পনায় গোলমাল হওয়াই স্বাভাবিক। দ্বীপ খোলা মানেই জাহাজ চলা নয়, আর নিবন্ধন খোলা মানেই টিকিট কাটা নয়। আগামীকাল থেকে যা শুরু হচ্ছে, তা হলো বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইটে পর্যটকদের নিবন্ধন। আর জাহাজ চলাচলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দিন, জাহাজমালিকদের ভাষায় ৫ বা ৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

কেন এই বিলম্ব, তার ব্যাখ্যা প্রথম আলোর প্রতিবেদনে স্পষ্ট। সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন লাগে। এর সঙ্গে পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার চালুর কাজও বাকি ছিল। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, তবে ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি লম্বা টাইমলাইন আছে। ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ২৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্ত বহাল রাখা হয়, যেখানে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। এতে পর্যটক, হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিক এবং জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন।

দ্বীপের প্রস্তুতি কিন্তু থেমে নেই। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত হচ্ছে, এমন ঘোষণায় দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু জাহাজের অনুমোদন না পাওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। কেউ বলছেন ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ বলছেন ১৫ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এই ভিন্ন ভিন্ন তারিখই বুঝিয়ে দেয়, এখনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা হয়নি।

তাহলে ১ নভেম্বর থেকে আসলে কী করবেন একজন পর্যটক। প্রথম কাজ, ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের সুযোগ খুললে সেখানেই নিবন্ধন করা। সময় সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট পর্যটকদের নিবন্ধনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। নিবন্ধনের সময় ঠিক কোন কোন তথ্য চাওয়া হবে, তা ওয়েবসাইট খোলার পরই দেখা যাবে। তাই কারও কথায় আগাম টাকা পাঠিয়ে বা কোনো এজেন্টের লিংকে ঢুকে নিবন্ধন সেরে ফেলার চেষ্টা করবেন না। শুধু সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমেই সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে এই কথাটি স্পষ্ট করে বলেছেন।

দ্বিতীয় কাজ, জাহাজের চূড়ান্ত তারিখের জন্য অপেক্ষা করা। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই অনুমতি দেওয়া হবে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ৫ বা ৬ নভেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবেই ধরুন, নিশ্চিত তারিখ হিসেবে নয়। হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং দেওয়ার আগে জাহাজের তারিখ মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ জাহাজ না চললে হোটেল বুকিংই আটকে যাবে।

তৃতীয়ত, রুট নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি রাখবেন না। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, এবার যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর ফিটনেস যাচাই করছে।

সব মিলিয়ে আগামীকালের পরিকল্পনা এভাবে সাজান। প্রথমে ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করুন, তারপর প্রশাসনের ঘোষণা করা জাহাজের তারিখ দেখে টিকিট নিশ্চিত করুন, তারপর হোটেল চূড়ান্ত করুন। দৈনিক সাড়ে তিন হাজারের সীমা মনে রাখুন, মৌসুম ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে, তাই তাড়াহুড়ো করে ১ নভেম্বরেই যাওয়ার চাপ নেওয়ার দরকার নেই। আর যারা ইতিমধ্যে ১ নভেম্বরের জন্য হোটেল বা যাতায়াতের অগ্রিম দিয়েছেন, তারা বুকিং দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিখিতভাবে তারিখ বদল বা অর্থ ফেরতের বিষয়টি এখনই পরিষ্কার করে নিন। জাহাজ চলাচল শুরুর চূড়ান্ত ঘোষণা এলে বিনোদন ঝলক সেই আপডেটও জানিয়ে দেবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন