বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

রামায়ণ কেমন হলো: প্রথম দিনের দর্শক প্রতিক্রিয়া, যশের রাবণ, রণবীরের রাম আর অগ্রিম বুকিংয়ের হিসাব

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৫ নভেম্বর ২০২৬13 মিনিটে পড়ুন
রামায়ণ কেমন হলো: প্রথম দিনের রিভিউ রাউন্ডআপের অরিজিনাল গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ভোর ৬টা থেকে ভারতের বিভিন্ন শহরে শুরু হয়ে গেল নিতেশ তিওয়ারির রামায়ণ: পার্ট ১-এর প্রথম শো, আর শো শেষ হতেই এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে আসতে থাকল দর্শকদের প্রথম প্রতিক্রিয়া। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটা অনেকটা পরিষ্কার: ভিজ্যুয়াল আর যশের রাবণ নিয়ে প্রায় সবাই একমত, কিন্তু গান, গতি আর গল্পের আবেগ নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। এক কথায় বললে, প্রথম দিনের রামায়ণ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, আবার একই সঙ্গে প্রশ্নও তুলেছে। এই লেখায় প্রথম দিনের যাচাই করা প্রতিক্রিয়া, সমালোচকদের রায় আর বক্স অফিসের প্রাথমিক হিসাব এক জায়গায় সাজানো হলো।

প্রথমে সিনেমাটা কী, সেটা মনে করিয়ে দেওয়া যাক। রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড দুই পর্বের মহাকাব্যিক সিরিজের প্রথম অংশ। পরিচালনায় নিতেশ তিওয়ারি, চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি ও শ্রীধর রাঘবন। গল্পের ভিত্তি বাল্মীকির রামায়ণ, আর তুলসীদাসের রামচরিতমানসসহ রামকথার অন্যান্য উৎস থেকেও প্রেরণা নেওয়া হয়েছে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। প্রথম পর্বে আছে রামের নির্বাসন, সীতার স্বয়ম্বর আর রাবণের সঙ্গে সংঘাতের শুরু, আর পোস্ট ক্রেডিট দৃশ্যের ইঙ্গিত অনুযায়ী গল্প শেষ হচ্ছে সীতাহরণের কাছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে রণবীর কাপুর (রাম), সাই পল্লবী (সীতা) ও যশ (রাবণ)। সঙ্গে রবি দুবে (লক্ষ্মণ), সানি দেওল (হনুমান), লারা দত্ত (কৈকেয়ী), রাকুল প্রীত সিং, অরুণ গোবিল (দশরথ), শিবা চাড্ডা (মন্থরা), কুনাল কাপুর (ইন্দ্র), আদিনাথ কোঠারে, কাজল আগরওয়াল, বিবেক ওবেরয় ও অনুপম খের। প্রযোজনায় নমিত মালহোত্রার প্রাইম ফোকাস স্টুডিয়োজ, সঙ্গে অস্কারজয়ী ভিজ্যুয়াল এফেক্টস প্রতিষ্ঠান ডিনেগ (DNEG) আর যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনস।

নির্মাণের মাপ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা। বাজেট নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্ক উঠেছে: এক প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপির কথা বলা হয়েছে, আরেকটিতে দুই পর্ব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি (প্রায় ৪২ কোটি ডলার) বাজেটের দাবি করা হয়েছে। কোনো একটি অঙ্কে সব প্রতিবেদন মিলছে না, তাই এটিকে এখনো নিশ্চিত বাজেট হিসেবে ধরা যাবে না, তবে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রজেক্টগুলোর একটি হিসেবে এর পরিচিতি আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের দায়িত্বে ডিনেগ, সঙ্গে রিডিফাইন আর হলিউডের খ্যাতনামা ভিএফএক্স সুপারভাইজার ড্যান গ্লাস। বড় লড়াইয়ের দৃশ্য সাজিয়েছেন কিংবদন্তি অ্যাকশন পরিচালক গাই নরিস ও টেরি নোটারি। সঙ্গীতে এ আর রহমানের সঙ্গে প্রথমবার ভারতীয় সিনেমায় কাজ করছেন হলিউড সুরকার হ্যান্স জিমার। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে টুডি, থ্রিডি, আইম্যাক্স, ফোরডিএক্স ও স্ক্রিনএক্স ফরম্যাটে, আর নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী এটিই প্রথম ভারতীয় সিনেমা, যা একসঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড, আইম্যাক্স ও স্ক্রিনএক্সে মুক্তি পেল।

মুক্তির দিনটা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। লস অ্যাঞ্জেলেসের একাডেমি মিউজিয়াম অব মোশন পিকচার্সে হয়েছিল বিশেষ প্রিমিয়ার, লন্ডনেও ছিল বড় আয়োজন। ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভারতে প্রিমিয়ার হয়, আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ওইদিনই পেইড প্রিভিউ শো চলে। ৫ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রথম শো শুরু হয়। ভারতের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতরণের দায়িত্বে সনি পিকচার্স, আর হিন্দিভাষী বাজারে ধর্মা প্রোডাকশনস।

দর্শকদের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে ছবির ভিজ্যুয়াল। প্রথম শো দেখে আসা দর্শকরা বলছেন, বিশাল সেট, যুদ্ধের দৃশ্য আর পৌরাণিক দুনিয়াটা পর্দায় যেভাবে ফুটেছে, তা হলিউডের বড় ফ্যান্টাসি মহাকাব্যের সঙ্গে তুলনীয়। ম্যাথরুভূমির লাইভ কভারেজে প্রথমার্ধের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আর ভিজ্যুয়াল এফেক্টসই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি, আর পৌরাণিক প্রাণীগুলো পর্দায় কৃত্রিম না লেগে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে। অনেক দর্শক একে ভারতের এখন পর্যন্ত সেরা ভিজ্যুয়ালের ছবি বলছেন, আবার কেউ কেউ একে ভারতের লর্ড অব দ্য রিংস বলেও অভিহিত করেছেন।

তবে প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় তারকা নিঃসন্দেহে যশ। রাবণের চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রায় সর্বসম্মত প্রশংসা এসেছে। দর্শকরা বলছেন, রাবণের প্রবেশের দৃশ্যেই চরিত্রটির ক্রোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর তিন লোকের ওপর আধিপত্যের ইচ্ছা ফুটে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে তাণ্ডব দৃশ্য: ভারী ঢোল, সমবেত মন্ত্রোচ্চারণ আর রহমান-জিমারের আবহসঙ্গীতে যশের রাবণকে দেখে হলে হাততালি উঠেছে বলে একাধিক দর্শক জানিয়েছেন। রাবণ ও জটায়ুর মুখোমুখি লড়াইকেও অনেকেই ছবির সেরা দৃশ্য বলছেন, পুষ্পক বিমানে সীতাহরণের সময় দুজনের সংঘাত হলে বসে থাকা দর্শকদের রোমাঞ্চিত করেছে। শরদ কেলকরের কণ্ঠ যশের চরিত্রের সঙ্গে এতটাই মিলে গেছে যে, ক্যামেরার বাইরে থেকেও তার প্রভাব অনুভব করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন দর্শকরা। নির্মাতা প্রশান্ত নীল যশকে নিজের ভাই বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ছবির প্রতিটি ফ্রেমে তাঁর ছাপ আছে। করণ জোহরও লিখেছেন, যশ যখনই পর্দায় আসেন, সবার নজর তাঁর দিকেই যায়, আর তাঁর মধ্যে মেগাস্টার হওয়ার সব গুণ স্বাভাবিকভাবেই আছে।

রণবীর কাপুরের রাম নিয়ে ছবিটা দ্বিধাবিভক্ত। সমর্থকরা বলছেন, তিনি চরিত্রটিকে শান্ত, মর্যাদাপূর্ণ ও ঐশ্বরিকভাবে ফুটিয়েছেন, এক দর্শক তাঁর অভিনয়কে অসাধারণ, মার্জিত ও ঐশ্বরিক বলেছেন। করণ জোহরের মতে, রণবীর কোনো অতিরিক্ত দেখান ছাড়াই রামের ভেতরের ভালোত্ব আর মানবিকতা তুলে ধরেছেন, আর তাঁর চোখই চরিত্রের আবেগ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু অন্য একদল দর্শক বলছেন, রাম চরিত্রে সেই ঐশ্বরিক আভা মেলেনি, কেউ কেউ অভিনয়কে একেবারে নিষ্প্রাণ পর্যন্ত বলেছেন। বিজনেস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দ্বিধাবিভক্ত প্রতিক্রিয়াই রণবীরের রামকে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত বিষয় করে তুলেছে। রণবীর নিজেও সম্প্রতি জানিয়েছেন, রামের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি ভয় পেয়েছিলেন, কারণ কাল্পনিক চরিত্রের তুলনায় এই ভূমিকায় সৃজনশীল স্বাধীনতা কম ছিল, হাজার বছরের পুরোনো গল্প আর মানুষের অনুভূতির ভার মাথায় রাখতে হয়েছে। এ ছাড়া রণবীরের আরেকটি চমকও আছে: তিনি রামের পাশাপাশি পরশুরামের চরিত্রেও বিশেষ উপস্থিতিতে এসেছেন, দুই অবতারের মুখোমুখি হওয়ার দৃশ্যটি অনেক দর্শকের নজর কেড়েছে।

সাই পল্লবীর সীতাকে নিয়েও মত দুই রকম। একদল দর্শক যোদ্ধা সীতার উপস্থাপনা পছন্দ করেছেন, সীতাকে শুধু কোমল চরিত্র হিসেবে না দেখিয়ে দৃঢ় যোদ্ধা হিসেবে দেখানোয় অনেকেই খুশি। কিন্তু অন্যরা বলছেন, সংযত অভিব্যক্তি আর সীমিত সংলাপে সীতার প্রভাব ততটা জমেনি, চরিত্রটির সঙ্গে দর্শকের আবেগের সংযোগ পুরোপুরি তৈরি হয়নি। সাই পল্লবী নিজে বলেছেন, সীতার চরিত্রে অভিনয় তাঁর কাছে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার মতো ছিল, তিনি চরিত্রটিকে শুধু অভিনয় নয়, পুরোপুরি বেঁচে থাকার মতো করে ধরতে চেয়েছিলেন। মজার একটি ঘটনাও সামনে এসেছে: যুক্তরাষ্ট্রের এক হলে সীতা স্বয়ম্বরের দৃশ্য দেখে পাশে বসা মার্কিন দর্শকরা রামের ধনুক তোলার দৃশ্য নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, আর একজন মন্তব্য করেন, হোমারের ওডিসির ধনুকের পরীক্ষার পেছনে রামায়ণের অনুপ্রেরণা থাকতে পারে।

সহশিল্পীদের নিয়েও প্রশংসা কম নয়। রবি দুবের লক্ষ্মণকে বিশ্বস্ত ও ভালোবাসাপূর্ণ ভাই হিসেবে প্রশংসা করেছেন করণ জোহরসহ অনেকেই। লারা দত্ত কৈকেয়ীর চরিত্রে অভিনয় করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, কৈকেয়ী ইতিহাসের সবচেয়ে ভুল বোঝা নারীদের একজন, আর তাঁর রাগ, দুর্বলতা, অপরাধবোধ ও অনুতাপ পর্দায় ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। টেলিভিশনের রামায়ণে রাম চরিত্রে পরিচিত অরুণ গোবিল এবার দশরথের ভূমিকায় দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন, শিবা চাড্ডার মন্থরাও নজর কেড়েছে। কুনাল কাপুর, যিনি ইন্দ্রের চরিত্রে আছেন, জানিয়েছেন, এই ছবিতে গ্রিন স্ক্রিনের সামনে অভিনয় তাঁর জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল, আর সেট, প্রাসাদ বা সূর্যোদয় কিছুই না থাকায় সবকিছু কল্পনা করে নিতে হয়েছে। জটায়ুর কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপম খের, আর রাঘব জুয়ালকে দেখা গেছে রাবণের ছেলে মেঘনাদের ঝলকে, যদিও তাঁর পুরো জলকানি দ্বিতীয় পর্বের জন্য তোলা আছে। বিবেক ওবেরয়, যিনি বিদ্যুৎজিহ্বার চরিত্রে আছেন, নিজের প্রায় ৬ কোটি রুপি পারিশ্রমিক ক্যানসার চিকিৎসায় ৫০ শিশুর জন্য দান করতে বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উঠেছে।

পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা আছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, রণবীর কাপুর প্রতি পর্বে প্রায় ৭৫ কোটি রুপি, সব মিলিয়ে ১৫০ কোটি রুপি পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। সাই পল্লবী প্রতি পর্বে প্রায় ৬ কোটি রুপি, রবি দুবে প্রতি সিনেমায় প্রায় ১০ কোটি রুপি পাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠেছে, আর যশ সহ-প্রযোজক হিসেবে মুনাফার অংশ পাবেন বলে জানা গেছে। এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তাই প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই ধরতে হবে।

গান ও আবহসঙ্গীত নিয়েই সবচেয়ে বেশি মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে প্রথমার্ধের আবহসঙ্গীতকে অনেকে ছবির বড় শক্তি বলেছেন, রহমান-জিমারের স্কোর পরিবেশ তৈরি করেছে, কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া মনে হয়নি। অন্যদিকে গান নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট: এক দর্শক গানকেই ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বলেছেন, তাঁর কথায় হল থেকে বেরিয়ে একটিও গান মনে থাকেনি। ওয়ানইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিএফএক্স আর অভিনয় প্রশংসা পেলেও সঙ্গীত অনেকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে এই সমালোচনা সবার নয়: তাণ্ডব দৃশ্যের আবহসঙ্গীত আর প্রথমার্ধের স্কোর নিয়ে প্রশংসাও কম আসেনি। সব মিলিয়ে গান নিয়ে দর্শক দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন, আর এটাই প্রথম দিনের আলোচনার অন্যতম বিষয়।

আপত্তির আরেকটি বড় জায়গা ছবির দৈর্ঘ্য আর গতি। ছবিটি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা দীর্ঘ, আর অনেক দর্শকের মতে বিরতির আগেই গতি কমে আসে, দ্বিতীয়ার্ধ টেনে নেওয়া মনে হয়। একজন দর্শক লিখেছেন, প্রথমার্ধ মোটামুটি, তারপর দ্বিতীয়ার্ধ ঝুলে যায়। আরেকজনের মতে, ভিজ্যুয়াল যতই বড় হোক, দুর্বল গতি আর অসম লেখাকে তা ঢাকতে পারে না। রাম ও সীতার সম্পর্কের আবেগের গভীরতা অনেকের কাছে ঠিকমতো পৌঁছায়নি, আর কেউ কেউ বলছেন, ছবিটি দেখে মনে হয় গল্পের অর্ধেকটাই বলা হলো, কারণ রাম-রাবণের মূল যুদ্ধ দ্বিতীয় পর্বে। সমালোচক কেআরকে লম্বা রানটাইম আর অসম্পূর্ণ গল্প নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এমন দর্শকও আছেন, যাঁরা ছবিটিকে আদিপুরুষের সঙ্গে তুলনা করে সেই ছবিকে ভালো পর্যন্ত বলেছেন, যদিও এগুলো একান্তই ব্যক্তিগত মত। বিজনেস টুডের ভাষায়, অনেক দর্শক মনে করছেন, ছবিটি নাটকীয়তা আর আবেগের চেয়ে দৃশ্য-বৈভব আর অ্যাকশনকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।

তারকা আর নির্মাতাদের প্রতিক্রিয়াও আসছে একের পর এক। র‍্যাপার বাদশাহ ছবি দেখে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, তাঁর বলার অনেক কিছু আছে, কিন্তু অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি রণবীর, সাই পল্লবী, রবি দুবে ও যশের অভিনয়, ভিজ্যুয়াল আর আবহসঙ্গীতের প্রশংসা করে ছবিটিকে পাঁচে ছয় নম্বর দিয়েছেন। করণ জোহর দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, রামায়ণের মতো চেনা গল্পকে এমনভাবে পর্দায় আনা, যাতে দর্শক তবুও অবাক হয়, তা অলৌকিক ছাড়া কিছু নয়। তিনি প্রযোজক নমিত মালহোত্রাকে প্রেরণাদায়ী বলেছেন, নিতেশ তিওয়ারির গল্প বলার সহজ ভঙ্গির প্রশংসা করেছেন, আর রণবীরের রামকে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও সফল চরিত্র বলেছেন। তিনি দর্শকদের পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে ছবিটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্ডিয়া টিভি ছবিটিকে ৪ তারকা দিয়েছে। কাস্টিং পরিচালক মুকেশ ছাবড়া ছবিটিকে সুন্দর ও জাদুকরী অভিজ্ঞতা বলেছেন, দক্ষিণের তারকা আল্লু অর্জুন পুরো দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, ভারতীয় সিনেমার মান উঁচুতে তোলার প্রয়াস। প্রযোজক নমিত মালহোত্রা বলেছেন, রামায়ণ বানানোর সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো, আর ভারতীয় সিনেমার শত বছরের বেশি ইতিহাসে এই মাপে রামায়ণ আগে কেউ বানাননি।

বক্স অফিসের হিসাব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না, আর সংখ্যাগুলোতেও সূত্রভেদে অমিল আছে, তাই এখানে প্রতিটি অঙ্কের উৎস স্পষ্ট করে দেওয়া হলো। ট্রেড ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের হিসাবে, যা ওয়ানইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে, প্রথম দিনের জন্য ভারতে অগ্রিম বুকিংয়ে গ্রস আয় ছিল প্রায় ৪৯.৭৫ কোটি রুপি (ব্লক করা আসনসহ), আর ব্লক আসন বাদ দিলে প্রায় ৪২.৫০ কোটি রুপি। ইন্ডিয়া টিভির লাইভ কভারেজে বলা হয়েছে, মুক্তির আগেই অগ্রিম বুকিং ১৫০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে প্রথম দিনের অংশ ৮০ কোটির বেশি, আর দেশজুড়ে ২০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার প্রায় ১২ লাখই প্রথম দিনের। বিদেশের বাজার থেকে প্রায় ৬০ লাখ ডলারের প্রি-সেলসহ মোট প্রি-সেল প্রায় ১৬০ কোটি রুপি বলে একই কভারেজে উল্লেখ আছে। সকালের আংশিক হিসাবেও স্যাকনিল্কের তথ্য: সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রথম দিনে ভারতে নিট আয় ৩.৬৬ কোটি রুপি (১,৫৪৯ শো), আর সকাল ১০টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত নিট ১২.৬৯ কোটি রুপি, গ্রস ১৪.৯৭ কোটি রুপি, মোট ৬,৭৯৬ শো, যার মধ্যে হিন্দি সংস্করণ এগিয়ে ছিল ৯.১৬ কোটি রুপি নিয়ে। বাণিজ্য-বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, প্রথম দিনে ভারতে প্রায় ৮০ কোটি রুপি নিট আর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬০ কোটি রুপি গ্রস হতে পারে, তবে এগুলো অনুমান মাত্র, চূড়ান্ত হিসাব দিন শেষে আসবে। ভারতে টিকিটের দাম সাধারণত ২৫০ থেকে ৩ হাজার রুপির মধ্যে বলে ভারতীয় প্রতিবেদনে উঠেছে, আইম্যাক্স ও প্রিমিয়াম ফরম্যাটে দাম বেশি।

দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে বিভ্রান্তি অবশেষে মিটল। আগে এক জায়গায় ২০২৭ সালের দীপাবলি, আরেক জায়গায় ২০২৮ সালের দীপাবলির কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রযোজক নমিত মালহোত্রা ই! নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, দ্বিতীয় পর্ব আসবে ২০২৮ সালে। তাঁর কথায়, এই মাপের ছবির প্রতি সুবিচার করতে অতিরিক্ত এক বছর দরকার, আর নির্মাতারা তাড়াহুড়ো করতে চান না। ছবির পোস্ট ক্রেডিট দৃশ্যেও একই আপডেট দেওয়া হয়েছে বলে ইন্ডিয়া টিভির কভারেজে উঠেছে। প্রথম পর্ব সীতাহরণে শেষ হচ্ছে, তাই রাম-রাবণের মূল যুদ্ধ আর হনুমানের পূর্ণ উপস্থিতি দ্বিতীয় পর্বের জন্য তোলা আছে। পোস্ট ক্রেডিটে সানি দেওলের কণ্ঠসহ হনুমানের ঝলক দেখা গেছে, তবে তাঁর মুখ এখনো দেখানো হয়নি।

বাংলাদেশে ছবিটি কোথায় দেখবেন, সে বিষয়ে আমাদের আগের গাইডে হল, ফরম্যাট আর টিকিটের বিস্তারিত তথ্য আছে। প্রথম দিনের প্রতিক্রিয়া দেখে যাঁরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ: যাওয়ার আগে হলের শো-সময় আর ফরম্যাট (টুডি, থ্রিডি, আইম্যাক্স) মিলিয়ে নিন, কারণ শো-সময় আর দাম হলভেদে বদলায়। ওটিটি মুক্তি নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি, তাই হলে দেখাই এখন একমাত্র বৈধ উপায়। অনানুষ্ঠানিক লিংক বা পাইরেটেড কপির খোঁজে যাবেন না, সেটা আইনত যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, ছবির অভিজ্ঞতাও তাতে নষ্ট হয়।

এবার প্রথম দিনের পর সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর। রামায়ণ কেমন হলো: প্রথম প্রতিক্রিয়া মিশ্র, কিন্তু ঝোঁক ইতিবাচকের দিকে। ভিজ্যুয়াল, ভিএফএক্স আর যশের রাবণ প্রায় সবাই পছন্দ করেছেন, গান আর দৈর্ঘ্য নিয়ে আপত্তি আছে। যশের রাবণ কেন আলোচিত: তাঁর উপস্থিতি, তাণ্ডব দৃশ্য আর জটায়ুর সঙ্গে লড়াই প্রথম দিনের সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত অংশ। রণবীরের রাম নিয়ে মতভেদ কেন: একদল তাঁর শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনা পছন্দ করেছেন, আরেকদল বলছেন চরিত্রে ঐশ্বরিক আভা কম। গান কেমন: আবহসঙ্গীত প্রশংসিত, কিন্তু গান মনে না থাকার অভিযোগ আছে, মতামত দুই ভাগে ভাগ। দ্বিতীয় পর্ব কবে: ২০২৮ সালের দীপাবলিতে, প্রযোজক নিশ্চিত করেছেন। প্রথম দিনের আয় কত: চূড়ান্ত হিসাব এখনো আসেনি, সকালের আংশিক হিসাবে নিট ১২.৬৯ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছিল, অগ্রিম বুকিং নিয়ে ট্র্যাকারভেদে অঙ্কে অমিল আছে।

এরপর কী দেখার আছে: দিন শেষে প্রথম দিনের চূড়ান্ত আয়, আর পূর্ণাঙ্গ সমালোচকদের রিভিউ। অগ্রিম বুকিংয়ের জোর আর প্রথম দিনের উৎসাহ ধরে রাখতে পারলে ছবিটি বড় অঙ্কের দিকে এগোবে, নাকি মিশ্র প্রতিক্রিয়া গতি কমাবে, তা পরের কয়েক দিনেই পরিষ্কার হবে। দ্বিতীয় পর্বের শুটিং ও মুক্তির নতুন আপডেট এলে এই লেখার পাশাপাশি আমাদের রামায়ণ গাইডেও তা যোগ করা হবে। আপাতত প্রথম দিনের বার্তাটা স্পষ্ট: রামায়ণকে শুধু একটি সিনেমা হিসেবে নয়, একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর সেই ঘটনার আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন