দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার রজনীকান্তের নতুন তামিল ছবি ধর্মন নিয়ে বড় খবর এসেছে। যুগান্তরের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অ্যাকশনধর্মী ছবিতে বিশেষ ভূমিকায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী নয়নতারা। মুক্তির আগে তাঁর চরিত্র নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, কারণ নির্মাতারা এখনো চরিত্রটি কেমন হবে বা গল্পে তাঁর ভূমিকা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ধর্মন পরিচালনা ও রচনা করছেন অশ্বথ মারিমুথু। রজনীকান্তের পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় করছেন সিমরন, রাশি খান্না, রাম পোথিনেনি ও যোগী বাবু। এই কাস্ট তালিকা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নির্মাতারা অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখদের নিয়ে একটি বড় আয়োজনের ছবি বানাচ্ছেন। নয়নতারার নাম যুক্ত হওয়ার পর ছবিটি নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে, কারণ বিশেষ চরিত্র হলেও তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ সাধারণত অনেক বেশি থাকে।
ছবিটির প্রযোজনায় আছেন আরেক সুপারস্টার কমল হাসান, সঙ্গে রয়েছেন আর মহেন্ত্রন। সংগীত পরিচালনা করছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর, যাঁর সংগীত দক্ষিণ ভারতের বড় ছবিগুলোতে নিয়মিতই আলোচনায় থাকে। প্রযোজক হিসেবে কমল হাসানের নাম যুক্ত থাকা এবং সংগীতে অনিরুদ্ধের থাকা, এই দুটি বিষয়ই ধর্মনকে শুধু আরেকটি অ্যাকশন ছবি নয়, একটি বড় বাণিজ্যিক আয়োজন হিসেবে তুলে ধরছে।
গল্পের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নির্মাতারা যতটুকু জানিয়েছেন, তাতে ধর্মনকে সমসাময়িক আবহের একটি অ্যাকশনধর্মী ছবি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে রজনীকান্তকে প্রাণবন্ত ও তারুণ্যদীপ্ত রূপে দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে। তাঁর চরিত্রের গল্প এগোবে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, শুধু মারপিট বা চমক নয়, চরিত্রের ভেতরের টানাপোড়েনও গল্পের কেন্দ্রে থাকবে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
মুক্তির সময় নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে পোঙ্গল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ধর্মনের। তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল বছরের বড় উৎসবগুলোর একটি, আর এই সময়ে সাধারণত বড় তারকাদের ছবি মুক্তি পায়। ফলে ধর্মনের জন্য এই মুক্তি উইন্ডোটি বেছে নেওয়া মানে, নির্মাতারা ছবিটিকে উৎসবের মৌসুমের বড় আকর্ষণ হিসেবেই দেখছেন।
নয়নতারার চরিত্র গোপন রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। অনেক সময় নির্মাতারা মুক্তির আগে কোনো চরিত্রের বিস্তারিত না জানিয়ে দর্শকের কৌতূহল ধরে রাখতে চান। ধর্মনের ক্ষেত্রেও সেই কৌশলই দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। চরিত্রটি গল্পের মোড় ঘোরানো কোনো ভূমিকা পালন করবে কি না, নাকি গল্পের আবেগের জায়গাটিকে শক্ত করবে, সেটা এখনো জানা যায়নি। এই না জানা বিষয়টিই আপাতত ছবিটি নিয়ে আলোচনার জ্বালানি।
এই খবরটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রজনীকান্তের আগের ছবি জেলার ২ বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া জেলার ২ মুক্তির মাত্র ১১ দিনেই বিশ্বজুড়ে ৭০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক পেরিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এটি প্রথম তামিল সিনেমা হিসেবে এই নজির গড়েছে এবং ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া রজনীকান্ত ও অক্ষয় কুমার অভিনীত টু পয়েন্ট জিরোর প্রায় ৬৯১ কোটি রুপির রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। মুক্তির ১১তম দিনে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছিল ৭১০ কোটি ৩৫ লাখ রুপি।
জেলার ২ পরিচালনা করেছেন নেলসন দিলীপকুমার। এতে অবসরপ্রাপ্ত জেলর টাইগার মুথুভেল পাণ্ডিয়ানের চরিত্রে ফিরেছেন রজনীকান্ত। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, এস জে সুরিয়া, মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালান, মোহনলাল, শিব রাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ ও হৃতিক রোশন। প্রযোজনা করেছে সান পিকচার্স, সংগীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। এই সাফল্যের পর ধর্মন নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
এখন ধর্মন নিয়ে যা জানা গেল, তার সারসংক্ষেপ এরকম: পরিচালক অশ্বথ মারিমুথু, প্রযোজক কমল হাসান, সংগীত অনিরুদ্ধ রবিচন্দর, কাস্টে রজনীকান্তের সঙ্গে সিমরন, রাশি খান্না, রাম পোথিনেনি, যোগী বাবু এবং বিশেষ চরিত্রে নয়নতারা, আর মুক্তির লক্ষ্য ২০২৭ সালের জানুয়ারির পোঙ্গল। যা এখনো জানা যায়নি: নয়নতারার চরিত্রের ধরন, গল্পের বিস্তারিত এবং টিজার বা ট্রেলার কবে আসবে।
এরপর নজর থাকবে কয়েকটি বিষয়ের দিকে। প্রথমত, নির্মাতারা নয়নতারার চরিত্র নিয়ে কবে মুখ খোলেন। দ্বিতীয়ত, ছবির প্রথম ঝলক বা টিজার কবে প্রকাশ পায়। তৃতীয়ত, পোঙ্গলের মুক্তি পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে কি না। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর মিললেই ধর্মনের ছবিটি আরও পরিষ্কার হবে। ততদিন পর্যন্ত, রজনীকান্তের ভক্তদের জন্য ধর্মন পরের বড় অপেক্ষার নাম হয়েই থাকছে।
