ঢালিউডের আলোচিত সিনেমা খলনায়ক ঘিরে নতুন চমক সামনে এলো। আফরান নিশো ও তমা মির্জা অভিনীত এই সিনেমায় অতিথি চরিত্রে আসছেন মেহজাবীন চৌধুরী। প্রথম আলো ২৭ অক্টোবর সকালে এই খবর জানিয়েছে। মুক্তির আগে দর্শকের জন্য চমক হিসেবে রাখা হচ্ছে মেহজাবীনের উপস্থিতি, আর সেই কারণেই বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল এখন আরও বেড়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতায় চুপিসারে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন মেহজাবীন। নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুক্তির আগে তাঁর উপস্থিতিকে চমক হিসেবে ধরে রাখতে চান। তাই এ বিষয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে চাইছেন না। তবে সিনেমাসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ খবরটি গুজব নয়, সূত্রের বরাতে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হিসেবেই সামনে এসেছে, যদিও চরিত্রের নাম বা গল্পে তার ভূমিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মেহজাবীনের জন্য এই সিনেমাটি বিশেষ একটি মাইলফলক। এটি হতে যাচ্ছে তাঁর তৃতীয় সিনেমা। এর আগে প্রিয় মালতী ও সাবায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ছোট পর্দা ও ওটিটিতে দীর্ঘদিনের সফল যাত্রার পর বড় পর্দায় তাঁর প্রতিটি নতুন কাজই দর্শকের আলাদা নজর কাড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় খলনায়কে অতিথি চরিত্রে আসা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, চরিত্রটি কি গল্পের মোড় ঘোরানো কোনো মুহূর্তে আসবে, নাকি শেষের দিকে চমক হিসেবে থাকবে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো জানা যায়নি, আর অনুমান করে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না।
খলনায়ক সিনেমাটি এমনিতেই শুরু থেকে গোপনীয়তায় মোড়া। ছোট পর্দা ও ওটিটিতে নানা ধরনের গল্পের কনটেন্ট বানিয়ে পরিচিতি পাওয়া ভিকি জাহেদের প্রথম চলচ্চিত্র এটি। ছবির গল্প ও অভিনয়শিল্পীদের চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঢাকা ও কলকাতায় সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। শুটিং শেষ হওয়ার পরও বিস্তারিত গোপন রাখার এই কৌশল দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখারই অংশ বলে মনে হচ্ছে।
সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী তালিকাও ভারী। প্রধান দুই মুখ আফরান নিশো ও তমা মির্জার পাশাপাশি আছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, চঞ্চল চৌধুরী ও ইন্তেখাব দিনার। কলকাতা থেকে যুক্ত হয়েছেন প্রিয়াংকা সরকার। এই নামগুলো একসঙ্গে থাকায় খলনায়ককে শুধু একটি বাণিজ্যিক সিনেমা নয়, অভিনয়নির্ভর একটি বড় প্রজেক্ট হিসেবেই দেখছেন অনেকে। মেহজাবীনের যুক্ত হওয়া সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিশো ও মেহজাবীনের জুটি নিয়েও দর্শকের আগ্রহ নতুন নয়। ভিকি জাহেদের আরেক সিনেমা পুলসিরাত দিয়েই বড় পর্দায় প্রথমবার জুটি বাঁধার খবর এসেছিল এই দুজনের। সেই প্রেক্ষাপটে খলনায়কে মেহজাবীনের অতিথি উপস্থিতি আলাদা তাৎপর্য পায়। তবে এখানে তিনি প্রধান চরিত্রে নন, অতিথি চরিত্রে আসছেন, এই পার্থক্যটা পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রধান জুটি হিসেবে সিনেমাটি এগিয়ে যাচ্ছে নিশো ও তমাকে নিয়েই।
মুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড চলতি বছরের শেষ দিকে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে এ বছরে মুক্তি নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা আছে বলে প্রথম আলো লিখেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে পারে খলনায়ক। অর্থাৎ দর্শককে এখনো অপেক্ষা করতে হবে, আর মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হলে সেটাই হবে পরের বড় ঘোষণা।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পটভূমিও এখানে প্রাসঙ্গিক। এসভিএফ ও আলফা আই এর আগে সুরঙ্গের কাজে একসঙ্গে যুক্ত ছিল, আর সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় দুই বাংলার শিল্পী ও কারিগরি দল নিয়ে কাজ করার নজির খলনায়কেও দেখা যাচ্ছে, ঢাকা ও কলকাতা দুই শহরেই শুটিং হওয়া তারই প্রমাণ।
এরপর কী দেখার আছে, সেটাও এখন পরিষ্কার। প্রথমত, নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মেহজাবীনের চরিত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় কি না। দ্বিতীয়ত, সিনেমার টিজার বা পোস্টারে এই চমক ধরে রাখা হয় কি না, নাকি আগেই প্রকাশ করা হয়। তৃতীয়ত, মুক্তির তারিখ কবে চূড়ান্ত হয়। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর না আসা পর্যন্ত খলনায়ক ঘিরে আলোচনা চলতেই থাকবে, আর মেহজাবীনের গোপন শুটিংয়ের খবর সেই আলোচনায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে।
