বলিউডের অন্যতম আলোচিত তরুণ জুটির প্রেমের গল্পে ইতি পড়ল বলে খবর এসেছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চর্চায় থাকা পলক তিওয়ারি ও ইব্রাহিম আলি খানের সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। তবে এই খবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো, দুজনের কেউই এখনো প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তাই পুরো ঘটনাটি এখনো রিপোর্ট আর সূত্রের দাবির পর্যায়েই আছে, দুই তারকার নিজের মুখে স্বীকৃতি নয়।
কালের কণ্ঠের ৩০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এই বিচ্ছেদের খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সম্পর্কের ইতি টেনেছেন পলক ও ইব্রাহিম। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তটি ইব্রাহিম নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিচ্ছেদের পর দুজনই নিজেদের ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে চান। বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিচ্ছেদ বন্ধুত্বপূর্ণভাবেই হয়েছে।
এই খবরের পেশাগত দিকটাও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলক ও ইব্রাহিমকে নিয়ে একসঙ্গে কিছু শুটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল। সেগুলোর কয়েকটি বাতিল করা হয়েছে, বাকিগুলো আপাতত স্থগিত রয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন সরাসরি কাজের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। যুগান্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি প্রযোজনা সংস্থা এই জুটির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ শুটিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু বিচ্ছেদের পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
অনেক ভক্তের কাছে এই খবর অবাক করার মতো, কারণ মাত্র কিছুদিন আগেও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা গেছে। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতেই রাজস্থানের রণথম্বোরে একসঙ্গে টাইগার সাফারিতে দেখা গিয়েছিল পলক ও ইব্রাহিমকে। অথচ ২৮ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে পলককে একাই ক্যামেরাবন্দি করেছেন পাপারাজ্জিরা। এই আকস্মিক বদলই ভক্তদের মনে প্রশ্ন তুলেছে, হঠাৎ কেন এমন হলো।
পলক ও ইব্রাহিমের সম্পর্কের গল্প শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়। সেই থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ছুটিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে, কিন্তু কখনোই নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি তাঁরা। এক সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম পলককে নিজের ভালো বন্ধু বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই না স্বীকার করা, না অস্বীকার করার অবস্থানই তাঁদের সম্পর্ককে সবসময় রহস্যময় করে রেখেছিল।
পরিচয়ের দিক থেকে দুজনেই তারকা পরিবারের সন্তান। পলক ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির মেয়ে। ইব্রাহিম অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের ছেলে। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইব্রাহিমের বয়স ২৫ আর পলকের ২৬। তারকা পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই ক্যামেরার নজরে থেকেছে, সম্পর্কের গুঞ্জনও সেই নজরদারির বাইরে ছিল না।
বিচ্ছেদের খবর সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। এক পক্ষ বলছে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত, দুজন ক্যারিয়ারে মন দিতে চাইলে সেটাই তাঁদের অধিকার। আরেক পক্ষ মনে করছে, এতদিনের সম্পর্ক হঠাৎ ভাঙার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো বড় কারণ আছে, যা এখনো সামনে আসেনি। তবে সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দুজনই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা করতে চান না, কাদা ছোড়াছুড়িতেও জড়াতে চান না।
একটি বিষয় এখানে পরিষ্কার করে রাখা জরুরি। পলক বা ইব্রাহিম কেউই বিচ্ছেদের কথা নিজে ঘোষণা করেননি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবির ওপর ভিত্তি করেই এই খবর ছড়িয়েছে। বিচ্ছেদের কারণ, সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, যৌথ শুটিংগুলোর ভবিষ্যৎ কী, এসবের কোনোটাই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। তাই এই খবরকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না পড়ে, রিপোর্ট করা দাবি হিসেবে পড়াই সঠিক হবে।
এখন ভক্তদের চোখ থাকবে দুজনের পরের পদক্ষেপের দিকে। ইব্রাহিমের একটি জনপ্রিয় সেলিব্রিটি চ্যাট শোতে বিশেষ পর্বে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে বলে যুগান্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। সেখানে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলেন কি না, সেটাই হয়তো পরের আলোচনার সূত্র হবে। আর পলকের পরের কাজ আর প্রকাশ্য উপস্থিতিও ভক্তদের নজরে থাকবে। আপাতত, তিন বছরের গুঞ্জনময় সম্পর্কের এই অধ্যায়টি প্রশ্নচিহ্ন নিয়েই শেষ হলো বলে মনে হচ্ছে।
