বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

নাটকের কাস্টিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ পারসা ইভানার: নায়ক-প্রযোজকের চাপে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় কাস্ট?

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩১ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
পারসা ইভানার নাটকের কাস্টিং অভিযোগ নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

দেশের টেলিভিশন নাটকের কাস্টিং নিয়ে এত খোলামেলা কথা খুব কম শোনা যায়। সেই নীরবতা ভেঙে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পারসা ইভানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, চরিত্রের জন্য উপযুক্ত অভিনয়শিল্পীকে অনেক সময় বাদ দিতে হয় নায়ক কিংবা প্রযোজকের চাপে। এমনকি শেষ মুহূর্তেও বদলে যায় পছন্দের কাস্ট। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে দর্শকমহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

জাগো নিউজ ২৪ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর রাতে প্রকাশিত খবরে পারসা ইভানার বক্তব্যের বিস্তারিত উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাচেলর পয়েন্টখ্যাত এই অভিনেত্রী দেশের নাটকের নির্মাণপ্রক্রিয়া ও কাস্টিং নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মূল অভিযোগ, লেখক ও পরিচালকের পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নায়ক বা প্রযোজকের পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হয়। ফলে চরিত্রের জন্য উপযুক্ত অভিনয়শিল্পী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়।

পারসা ইভানা শুধু কাস্টিং নিয়েই থামেননি। নাটক নিয়ে আলোচনার সংস্কৃতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর ভাষায়, আশেপাশের দেশগুলোতে নাটক নিয়ে খোলামেলা বিশ্লেষণ হয়। কে কেমন অভিনয় করল, কার উচ্চারণে ভুল হলো, কোথায় পরিচালনায় ঘাটতি রইল, লেখক আসলে কী বলতে চেয়েছেন, এসব নিয়েই সেখানে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে সেই চর্চা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এখানে অনেক সময় অভিনেতার ভুল উচ্চারণ বা অভিনয়ের ঘাটতিও শুধরে দেওয়া হয় না।

এই বক্তব্যের গুরুত্ব বুঝতে হলে কাস্টিংয়ের ভূমিকাটা মনে রাখতে হবে। একটি নাটকের গল্প যত ভালোই হোক, চরিত্রের সঙ্গে অভিনয়শিল্পী না মিললে গল্পটি দর্শকের কাছে পৌঁছায় না। লেখক একটি চরিত্রকে মাথায় রেখে সংলাপ লেখেন, পরিচালক সেই চরিত্রের শরীরী ভাষা, বয়স, উচ্চারণ আর আবেগের ধরন কল্পনা করেন। সেই জায়গায় যদি বাইরের চাপে অন্য কাউকে নিতে হয়, তাহলে পুরো নির্মাণের ভারসাম্যই বদলে যায়। পারসা ইভানার অভিযোগ ঠিক এই জায়গাটাতেই আঘাত করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রকাশিত প্রতিবেদনে পারসা ইভানা কোনো নির্দিষ্ট নাটক, পরিচালক, নায়ক বা প্রযোজকের নাম করে অভিযোগ করেননি। তাঁর বক্তব্য একটি ব্যবস্থাগত সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে আসেনি। তাই এই খবরকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। এটি একজন অভিনয়শিল্পীর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তোলা প্রশ্ন, যার জবাব এখনো সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

পারসা ইভানার এই পোস্টে দর্শকদের একাংশ সমর্থন জানিয়েছেন বলে রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক দর্শক মনে করেন, নাটক নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা হলে নির্মাণের মান বাড়বে। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ কেন এমন বক্তব্য এলো, এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা আছে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর পারসা ইভানা নিজে এখনো বিস্তারিতভাবে দেননি।

এর আগে পারসা ইভানা আরেকটি বিতর্কেও প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন। ২০২৬ সালের জুনে নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস নাটকের পারিশ্রমিক নিয়ে পরিচালক ফরহাদ আহমেদ ইশানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সেসময় তিনি দাবি করেছিলেন, মুক্তির সাত মাস পরও পুরো পারিশ্রমিক পাননি। পরিচালক তখন স্বীকার করেছিলেন, ১০ হাজার টাকা বাকি আছে, তবে বেশিরভাগ কলাকুশলীর পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর থেকেই পারসা ইভানাকে পেশাগত স্বচ্ছতা নিয়ে সোচ্চার একজন শিল্পী হিসেবে চেনেন অনেকে।

ব্যাচেলর পয়েন্টের ইভা চরিত্র দিয়ে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন পারসা ইভানা। নৃত্যশিল্পী ও মডেল হিসেবে শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে অভিনয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাই তাঁর মতো একজন পরিচিত মুখ যখন কাস্টিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সেটি শুধু একটি ফেসবুক পোস্ট হয়ে থাকে না। নির্মাতা, লেখক, প্রযোজক আর দর্শক, সব পক্ষের কাছেই এটি একটি আলোচনার সূত্র হয়ে দাঁড়ায়।

এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনা কতদূর গড়ায়। নির্মাতা বা প্রযোজকদের কেউ এ নিয়ে প্রকাশ্যে মত দেন কি না, পারসা ইভানা নিজে আরও বিস্তারিত কিছু বলেন কি না, সেটাই ঠিক করবে এই বিতর্ক শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নাটকের কাস্টিং নিয়ে বড় কোনো সংলাপের সূচনা করবে। আপাতত এটুকু নিশ্চিত, নাটকপ্রেমীদের চোখ এখন পারসা ইভানার পরের পোস্টের দিকে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন