প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নুসরাত ফারিয়া জানালেন, এম এইচ খোকনের নতুন সিনেমা 'লজ্জা'য় তিনি অভিনয় করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। ছবিটির শুটিং শেষ হয়েছে ৬০ শতাংশ, বাকি আছে আরও ৪০ শতাংশ। একই সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন বিয়ে, সুখ, ক্যারিয়ার আর নিজের বদলে যাওয়া নিয়েও। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকার ঘিরে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
'লজ্জা' নির্মিত হচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায়। ছবির গল্প লিখেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। ফারিয়ার সহশিল্পী হিসেবে আছেন আজমেরী হক বাঁধন, যিনি ছবির আরেকটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। গত সেপ্টেম্বরে চ্যানেল আই কার্যালয়ে ছবিটির চুক্তি সই হয়, আর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুটিং শুরুর কথা ছিল। মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
গল্পটি ফারিয়ার কাছে এসেছিল এক বছর আগে, 'কন্যা' গানের শুটিংয়ের ফাঁকে। তখনই পরিচালক এম এইচ খোকন তাঁকে 'লজ্জা'র গল্প শোনান। ফারিয়ার ভাষায়, "আমাদের দেশে এ ধরনের অপরাধনির্ভর গল্পে কাজ খুব একটা হয় না।" গল্প শুনে তাঁর মনে হয়েছিল এতে অনেক সম্ভাবনা আছে। এরপর প্রায় এক বছর ধরে নির্মাতারা গল্পটি নিয়ে কাজ করেছেন। বাঁধনের চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্য উপস্থাপন যেমন জরুরি ছিল, ফারিয়ার নিজের চরিত্রের ক্ষেত্রেও একই বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
চরিত্রের প্রয়োজনে ফারিয়া শারীরিকভাবেও বদলেছেন। তিনি জানান, চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অনেকটা ওজন কমিয়েছেন। তাঁর কথায়, "আমার কাছে চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" মজার ব্যাপার হলো, পুলিশের পোশাক তাঁর গায়ে নতুন নয়। 'ইন্সপেক্টর নটি কে' সিনেমাতেও তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছিলেন, তবে সেটি ছিল গ্ল্যামারনির্ভর বাণিজ্যিক ঘরানার চরিত্র। ফারিয়ার মতে, 'লজ্জা'র চরিত্রের সঙ্গে সেটির "আকাশ-পাতাল পার্থক্য"। সে কারণেই চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য শারীরিক পরিবর্তন আনতেও তাঁর আপত্তি নেই।
একই ছবিতে সমসাময়িক দুই শিল্পী থাকলে চরিত্রের তুলনা টানার ভয় থাকে, এই প্রশ্নের জবাবে ফারিয়া বলেন, বাঁধনের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই ভালো বোঝাপড়া ছিল, তাই একসঙ্গে কাজ করতে কোনো সমস্যা হয়নি। তাঁর বিশ্বাস, দর্শক পর্দায় অভিনয়ের একটি সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে পাবেন। "বাঁধন আপু খুব ভালো অভিনয় করেন," বলেন ফারিয়া। দুজনকে একসঙ্গে পর্দায় দেখে দর্শক গল্পটির নতুন একটি দিক আবিষ্কার করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বিয়ে নিয়ে তাঁর ভাবনা। ফারিয়ার মতে, নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে মানসিক পরিপক্বতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই। "একা থাকা সহজ, কিন্তু সংসার করতে হলে বিশেষ বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও বোঝাপড়া প্রয়োজন," বলেন তিনি। জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার আগে মানুষটিকে ভালোভাবে চেনা, বোঝা এবং নিজের অহংবোধ নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি। নিজের বিয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা: যখন মনে হবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে কিছুটা থিতু হতে চান, তখনই বিয়ে করবেন। "আশা করছি, এই মানসিক প্রস্তুতি শিগগিরই চলে আসবে, তখন বিয়ে করব," হেসে বলেন তিনি।
জীবনসঙ্গীর মধ্যে কোন গুণ সবচেয়ে জরুরি, এই প্রশ্নে ফারিয়ার উত্তর ছিল বন্ধুত্ব। তাঁর মতে, দুজন মানুষের একে অপরকে ভালো লাগতে হবে, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পেতে হবে। জীবনে অনেক কিছু বদলে যাবে, সন্তান বড় হয়ে নিজের পথে চলে যাবে, কিন্তু দিন শেষে দুজন মানুষই একসঙ্গে থাকবে। তাই ভালোবাসার পাশাপাশি বন্ধুত্ব থাকাটা জরুরি।
সুখ নিয়েও গভীর কথা বলেছেন তিনি। "জীবনে এমন সময় গেছে, যখন সবকিছু ছিল, শুধু সুখটা ছিল না," বলেন ফারিয়া। তাঁর মতে সুখ নির্ভর করে না ব্যাংকে কত টাকা আছে বা কত দামি গাড়ি-ফ্ল্যাটে থাকেন তার ওপর। এখন তিনি নিজের ভালো থাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তারকাদের সংসার ভাঙা নিয়েও মত দিয়েছেন তিনি: দুজন মানুষ একসঙ্গে সুখী না হলে শুধু লোকের কথার ভয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে ফারিয়া জানান, প্রায় ১১ বছর ধরে অভিনয় করছেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু বেশি কাজ করাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকাটাই আসল। ২০২৬ সালে এমন কাজ করতে চান যা এই সময়ের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। 'লজ্জা' ছাড়াও তাঁর হাতে আছে মেহেদী হাসানের ওয়েব ফিল্ম 'লাপাত্তা', যার শুটিং শেষ হলেও একটি গানের কাজ বাকি থাকতে পারে। অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় ডিসেম্বরে তাঁর একটি সিনেমা মুক্তির কথা রয়েছে। আগামী ঈদে নতুন গান রিলিজের পরিকল্পনাও চলছে। তবে আপাতত কলকাতায় কোনো কাজ করছেন না তিনি।
২০১৫ সালে 'আশিকী' দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ফারিয়া একে একে করেছেন 'হিরো ৪২০', 'বাদশা: দ্য ডন', 'বস ২', 'অপারেশন সুন্দরবন'। ২০২৩ সালে শ্যাম বেনেগালের 'মুজিব: একটি জাতির রূপকার' ছবিতে শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এবার 'লজ্জা'র পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্র তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন ভক্তরা। বাকি ৪০ শতাংশ শুটিং শেষ হলেই জানা যাবে ছবিটি কবে প্রেক্ষাগৃহে আসছে।
