তিন দশকেরও বেশি সময় পর আবার বড়পর্দায় ফিরছে অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডন ও সুনীল শেঠি অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা মোহরা। ছবিটির সংরক্ষিত ফোরকে সংস্করণ আগামী ৬ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। মুক্তির খবর জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা ত্রিমূর্তি ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড। নতুন ঝলকও প্রকাশ করা হয়েছে সংস্থাটির ইউটিউব চ্যানেলে। পুরোনো দর্শকের কাছে এটি নস্টালজিয়ার ফেরা, আর নতুন প্রজন্মের কাছে বড়পর্দায় প্রথমবার এই ছবি দেখার সুযোগ।
১৯৯৪ সালের ১ জুলাই প্রথম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল মোহরা। রাজীব রাই পরিচালিত ছবিটি সে সময় বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল। মুক্তির বছরেও বাণিজ্যিক সাফল্যের তালিকায় এগিয়ে ছিল এটি। ১৯৯৪ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি সিনেমা ছিল মোহরা। তালিকার শীর্ষে ছিল হাম আপকে হ্যায় কৌন। অর্থাৎ, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে দর্শক যেসব ছবিকে সবচেয়ে বেশি আপন করে নিয়েছিল, মোহরা ছিল তার একদম সামনের সারিতে।
ছবির গল্পের কেন্দ্রে আছে প্রতিশোধ, সততা আর বিশ্বাসঘাতকতার টানাপোড়েন। স্ত্রীর হত্যার বিচার পেতে মরিয়া এক বন্দি বিশাল অগ্নিহোত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন সুনীল শেঠি। সাংবাদিক রোমা সিংয়ের চরিত্রে ছিলেন রাভিনা ট্যান্ডন। তার সহায়তায় জেল থেকে মুক্তি পায় বিশাল। পরে ক্ষমতাশালী জিন্দলের হয়ে কাজ করতে শুরু করে সে। জিন্দল চরিত্রে অভিনয় করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। অন্যদিকে, পুলিশ ইনস্পেক্টর অমর সাক্সেনার ভূমিকায় ছিলেন অক্ষয় কুমার। একের পর এক খুনের তদন্ত করতে গিয়ে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সন্ধান পায় সে।
মূল তিন তারকার বাইরেও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরেশ রাওয়াল, রজা মুরাদ ও কুলভূষণ খরবন্দা। অপরাধের জাল, ক্ষমতার খেলা আর ব্যক্তিগত প্রতিশোধের গল্প একসঙ্গে এগিয়ে চলে বলেই মোহরা শুধু একটি অ্যাকশন ছবি হয়ে থাকেনি। গল্পের মোড়, চরিত্রগুলোর দ্বন্দ্ব আর টানটান উত্তেজনা দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিল। নতুন সংস্করণে সেই অভিজ্ঞতাই আরও ঝকঝকে ছবি আর শব্দে ফিরছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা।
মোহরার জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল এর গানগুলোর। তু চিজ বড়ি হ্যায় মাস্ত মাস্ত, টিপ টিপ বারসা পানি ও সুবাহ সে লেকার, গানগুলো তিন দশক পরও শ্রোতাদের কাছে সমান পরিচিত। আনন্দ বক্সী, ইন্দীবর ও সমীরের লেখা গানগুলো ছবিটির জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। আজও বিয়ে, অনুষ্ঠান কিংবা পুরোনো গানের আড্ডায় এই গানগুলো বেজে ওঠে। তাই পুনর্মুক্তি শুধু একটি ছবির ফেরা নয়, একটি সময়ের গানেরও ফেরা।
পুনর্মুক্তির সময়টাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩২ বছরের পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই সংস্করণ আসছে। যারা নব্বইয়ের দশকে হলে বসে মোহরা দেখেছিলেন, তারা এবার সেই স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে পারবেন। আর যারা শুধু টিভিতে বা অনলাইনে ছবিটি দেখেছেন, তারা প্রথমবার বড়পর্দার শব্দ আর আলোয় ছবিটি উপভোগ করতে পারবেন। সংরক্ষিত ফোরকে সংস্করণ মানে পুরোনো প্রিন্টের ধুলো আর দাগ সরিয়ে ছবিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা, যাতে আজকের হলের পর্দায়ও তা মানানসই লাগে।
মজার বিষয়, মোহরার মুক্তির ঠিক এক দিন আগেই, ৫ নভেম্বর মুক্তির কথা নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত রামায়ণ-এর। এতে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের জন্য প্রায় ৯ কোটি রুপির টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে পরপর দুই দিনে দুটি বড় ছবির মুক্তি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। একদিকে নতুন মহাকাব্যিক ছবি, অন্যদিকে নব্বইয়ের দশকের কালজয়ী থ্রিলারের ফেরা।
নতুন ঝলকের সঙ্গে প্রকাশিত বার্তায় প্রযোজনা সংস্থা দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ক্ষমতা আর বিশ্বাসঘাতকতার লড়াইয়ে যে কেউ শিকার হতে পারে। গল্পের মোড়, থ্রিল আর গানগুলো আবার উপভোগ করার আমন্ত্রণই এই পুনর্মুক্তির মূল সুর। যারা মোহরা ভালোবাসেন, তাদের জন্য ৬ নভেম্বর তারিখটা এখনই মনে রাখার মতো। কাছের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি আসার পর দর্শকই ঠিক করবেন, তিন দশক পরও মোহরার জাদু একই রকম আছে কি না।
