সাই পল্লবীর নতুন লুক সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটাই মন্তব্য ঘুরছে: কুইন ইজ ব্যাক। ধানুশ ও মাম্মুটির আসন্ন সিনেমা ওএম: চ্যাপ্টার ১: উদিরাম: দ্য ব্লাড উড-এ একজন সিবিআই কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর নির্মাতারা সিনেমাটিতে তাঁর চরিত্রের প্রথম ঝলক প্রকাশ করেন। তারপর থেকেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস আর থামছে না।
সিনেমায় সাই পল্লবীর চরিত্রের নাম নিত্যা রেড্ডি। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, লাল চন্দনকাঠ পাচারের একটি ঘটনা তদন্ত করছেন তিনি। এই এক লাইনেই চরিত্রটির ধরনটা বোঝা যায়। এটা শুধু গ্ল্যামারাস উপস্থিতি নয়, তদন্ত, চাপ আর সিদ্ধান্তের গল্প। চন্দনকাঠ পাচারের মতো অপরাধের তদন্তে একজন নারী কর্মকর্তাকে কেন্দ্রে রাখা হলে দর্শকের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
নিত্যার সঙ্গে বনাঞ্চলের সম্পর্কটা শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগতও। তিনি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর জেলার নাইদুপেটের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ভারতীয় বন পরিষেবার কর্মকর্তা ছিলেন। বন রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান তিনি। বাবার সেই স্মৃতি আর বনাঞ্চলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিত্যার চরিত্রকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। অর্থাৎ তদন্তের পেছনে আছে পারিবারিক ক্ষত, আর সেই ক্ষতই চরিত্রের সততা আর জেদকে ব্যাখ্যা করে।
নির্মাতাদের ভাষায় নিত্যার মধ্যে রয়েছে সততা, বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়। এই তিনটি গুণ একসঙ্গে থাকলে চরিত্রটি শুধু কঠোর হয় না, বিশ্বাসযোগ্যও হয়। প্রথম ঝলক প্রকাশের পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়া সেটাই বলছে। একজন লিখেছেন, কুইন ইজ ব্যাক। আরেকজনের মন্তব্য, সাই এমন কিছু করছেন, যা দারুণ হতে যাচ্ছে। কেউ কেউ চরিত্রটিকে সাই পল্লবীর দেখা সবচেয়ে কুল চরিত্রগুলোর একটি বলেও মন্তব্য করেছেন।
ধানুশের সঙ্গে সাই পল্লবীর পর্দার রসায়ন নিয়েও উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। এর আগে রাউডি বেবি গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এই জুটি। নতুন সিনেমায় তাঁদের একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা। এক ভক্ত লিখেছেন, রাউডি বেবি জুটি আবার ফিরেছে। গানের জুটি থেকে তদন্তের গল্পে একসঙ্গে আসা, এই পরিবর্তনটাই অনেক ভক্তের আগ্রহের কারণ।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। এতে ধানুশ ও মাম্মুটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সাই পল্লবী তাঁদের সঙ্গে থাকায় ছবিটির অভিনয়শক্তি নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এর আগে সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর মুক্তির কথা ছিল। তবে রজনীকান্তের জেলার ২-এর মুক্তির সময়সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। ধানুশ নিজেই গত মাসে মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের কথা জানান এবং সিদ্ধান্তটির পেছনে রজনীকান্তের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এই নতুন লুকের আলোচনা এমন সময়ে এসেছে, যখন সাই পল্লবীর বলিউড অভিষেকের সিনেমা রামায়ণ নিয়েও চলছে আলোচনা। এতে সীতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। রামের ভূমিকায় রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং রাবণের চরিত্রে যশ। আগামী ৫ নভেম্বর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা। অর্থাৎ দর্শকেরা প্রথমে রামায়ণে সীতারূপে তাঁকে দেখবেন, তার কয়েক দিন পরই ওএম: চ্যাপ্টার ১-এ সিবিআই কর্মকর্তার রূপে। দুটি চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য এতটাই বড় যে এই বৈপরীত্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
রামায়ণ নিয়ে আলোচনা শুধু অভিনয় নিয়ে নয়। সম্প্রতি সিনেমাটির মঙ্গল রং শিরোনামের একটি গান প্রকাশিত হয়েছে। রাম ও সীতার সম্পর্ক এবং তাঁদের একসঙ্গে পথচলাকে কেন্দ্র করে তৈরি গানটি সংগীতের বাইরেও নানা কারণে আলোচনায় এসেছে। গানে কাওয়ালির আদলের সুর ব্যবহার করায় এ আর রহমানের সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি রামের গায়ে হলুদ লাগানোর একটি দৃশ্যে সীতার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, দৃশ্যটি অভিষেক বা রাজ্যাভিষেকের কোনো আয়োজনের অংশ হতে পারে।
এই আলোচনা আর সমালোচনার মধ্যেই ওএম: চ্যাপ্টার ১-এ সাই পল্লবীর নতুন লুক ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। একটি চরিত্র নিয়ে বিতর্ক চলার সময় আরেকটি শক্তিশালী চরিত্রের ঝলক এলে দর্শকের মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়, এটা স্বাভাবিক। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিত্যা রেড্ডি শুধু লুক দিয়ে আলোচনায় আসেনি, চরিত্রের পেছনের গল্প দিয়েও এসেছে। বাবার মৃত্যু, বনের প্রতি দায়, তদন্তের চাপ, এই তিনটি স্তর মিলেই চরিত্রটি দাঁড়িয়েছে।
এরপর দর্শকেরা কী দেখবেন, সেটা এখন পরিষ্কার। ৫ নভেম্বর রামায়ণ, তারপর ২০ নভেম্বর ওএম: চ্যাপ্টার ১। প্রথমটিতে মহাকাব্যের সীতা, দ্বিতীয়টিতে বর্তমান সময়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা। দুটি ছবির মুক্তির মাঝখানে ট্রেলার আর প্রচারণা নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। সাই পল্লবীর ভক্তদের জন্য নভেম্বর তাই শুধু একটি ছবির মাস নয়, দুটি ভিন্ন রূপের মাস হতে চলেছে।
