কলকাতার অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার বাংলাদেশের সিনেমা গুলশানের চামেলি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুটিং শুরুর আগেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় দুই বাংলার দর্শকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি প্রথমবারের মতো ঢাকাই সিনেমায় মধুমিতার অভিষেক আটকে যাচ্ছে। সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন সিনেমাটির পরিচালক মোহাম্মাদ ইকবাল নিজে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মধুমিতাকে নিয়েই শুটিং শুরু হবে।
জাগো নিউজকে পরিচালক জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে এফডিসির ফ্লোরে গুলশানের চামেলির সেট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ২৮ তারিখে মধুমিতা ঢাকায় আসবেন। এরপর কয়েকদিন রিহার্সাল হবে। বছরের শেষ মাসের ১ ডিসেম্বর এফডিসির ফ্লোরে মধুমিতাকে নিয়েই ক্যামেরা ওপেন করা হবে। ঢাকা পোস্টকেও একই কথা বলেছেন ইকবাল। সেখানে তিনি বলেছেন, কে এসব কথা বলেছে তা তিনি জানেন না, তবে ডিসেম্বর থেকেই শুটিং শুরু হবে।
গুঞ্জন নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন পরিচালক। বরং তার মতে, এই আলোচনা সিনেমাটির প্রচারে কাজে এসেছে। তার ভাষায়, কথাগুলো ছড়িয়ে পড়ায় সিনেমাটি পাবলিসিটি পেয়েছে। অন্যদিকে মধুমিতা নিজেও এক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন উড়িয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তার ধারণা, একটি চক্র পরিকল্পনা করে তার সরে দাঁড়ানোর কথা ছড়াচ্ছে। অর্থাৎ পরিচালক ও অভিনেত্রী, দুই পক্ষই একই সুরে বলছেন, মধুমিতা সিনেমাটিতেই আছেন।
গুলশানের চামেলির গল্পটা দীর্ঘদিনের। প্রায় পাঁচ বছর আগে সিনেমাটির ঘোষণা দিয়েছিলেন পরিচালক মোহাম্মাদ ইকবাল। তবে নানা কারণে এতদিন শুটিং শুরু হয়নি। অবশেষে গত আগস্টে ঢাকায় সিনেমাটির মহরত হয়। ১ আগস্টের সেই মহরতে উপস্থিত ছিলেন মধুমিতা নিজে। প্রথমবারের মতো ঢাকাই সিনেমায় যুক্ত হতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাসের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। মহরতের পর থেকেই শুটিং শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন দুই বাংলার দর্শক। এর মধ্যেই হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
মধুমিতা সরকার পশ্চিমবঙ্গের ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ। বোঝে না সে বোঝে না সিরিয়ালে পাখি চরিত্রে অভিনয় করে দুই বাংলার দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি। বাংলাদেশেও তিনি আগেই অভিনয় করেছেন, তবে সেটা নাটকে। ২০১৬ সালে পারভেজ আমিন পরিচালিত মেঘবালিকা নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে দেখা গিয়েছিল তাকে। গুলশানের চামেলিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সিনেমায় তার প্রথম কাজ। সেই কারণেই এই সিনেমা নিয়ে আগ্রহটা একটু বেশি।
আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে নির্মিত হতে যাওয়া এই সিনেমায় মধুমিতার পাশাপাশি আরও অভিনয় করার কথা রয়েছে রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, আমিন খান, বাপ্পারাজ ও মিশা সওদাগরের। অর্থাৎ অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় মুখের একটা বড় দল নিয়েই সিনেমাটি সাজানো হচ্ছে। মহরতের সময়ই জানানো হয়েছিল, এই সিনেমার মাধ্যমেই ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে মধুমিতার।
এখন সবার চোখ ২৩ নভেম্বরের দিকে, যেদিন সেট নির্মাণ শুরু হবে। তারপর ২৮ নভেম্বর মধুমিতার ঢাকায় আসা, রিহার্সাল, আর ১ ডিসেম্বর ক্যামেরা ওপেন। এই তারিখগুলো ঠিক থাকলে পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে ফ্লোরে যাবে গুলশানের চামেলি। সিনেমাটির মুক্তির তারিখ নিয়ে এই প্রতিবেদনগুলোতে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাই শুটিং শুরুর খবরটাই আপাতত সবচেয়ে বড় আপডেট। গুঞ্জন নয়, পরিচালকের ঘোষণা অনুযায়ীই এগোচ্ছে সিনেমাটি।
