প্রথমবারের মতো একসঙ্গে পর্দায় আসছেন আব্দুন নূর সজল ও অধরা খান। জাহিদ হোসেন পরিচালিত ঋতুকামিনী ছবিতে এই জুটির প্রথম দেখা মিলবে বলে জানিয়েছে ডেইলি স্টার। ছবিটি পরিচালনা করছেন জাহিদ হোসেন, যিনি এর আগে মাতৃত্ব ছবির জন্য প্রশংসা পেয়েছেন। দুই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীর প্রথম জুটি হওয়ায় খবরটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শকমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ছবিতে অধরা খান অভিনয় করছেন কুমকুম চরিত্রে। কুমকুম একজন কলেজছাত্রী। এর আগে বেশ কয়েকটি ছবিতে গ্ল্যামারাস চরিত্রে দেখা গেছে অধরাকে, আর কুমকুম সেই ধারা থেকে সরে আসা একটি চরিত্র। চরিত্রটি অভিনয়ের ভিন্ন একটি দিক খুঁজে দেখার সুযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। প্রথমবারের মতো এমন সাদামাটা, গ্ল্যামারহীন চরিত্রে অভিনয় করাটা তার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
সজল অভিনয় করছেন জামাল চরিত্রে। আগের চরিত্রগুলোর চেয়ে জামাল একেবারেই আলাদা বলে জানানো হয়েছে। সজল নিজে ঋতুকামিনীকে এমন একটি ছবি হিসেবে বর্ণনা করেছেন যার গল্প দর্শকের ভালো লাগবে বলে তার বিশ্বাস। ছবির জন্য কলাকুশলীরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কুমকুমের মায়ের চরিত্রে আছেন অভিজ্ঞ অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। অধরার কাছে এই বিষয়টিও ছবিটিকে বিশেষ করে তুলেছে, কারণ দীপা খন্দকারের সঙ্গে মা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তার কাছে অর্থবহ। এছাড়া সজলের বিপরীতে প্রথমবার কাজ করাটাও অধরার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উঠে এসেছে।
সজলের ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গেও ছবিটি আলাদা জায়গা পায়। একসময় ছোটপর্দায় নিয়মিত ব্যস্ত থাকলেও এখন তিনি বেছে বেছে কাজ করেন বলে ডেইলি স্টারের আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছিলেন, ঋতুকামিনীতে তিনি একজন বখাটে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্রটির জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন।
পরিচালক জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সজলের কাজের সম্পর্কও নতুন নয়। এর আগে একই পরিচালকের ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে, আর সেই বোঝাপড়া এই ছবিতেও কাজে লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অধরাও জাহিদ হোসেনকে একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
এখনো যা জানা যায়নি তা স্পষ্ট রাখা দরকার। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে ছবিটি শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ সেখানে দেওয়া হয়নি। ছবির গল্পের বিস্তারিতও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাই মুক্তির তারিখ বা গল্প নিয়ে আগাম কোনো দাবি করা ঠিক হবে না, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
ছবিটির পেছনের সময়রেখাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ডেইলি স্টারের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনেই জানানো হয়েছিল, সজল ঋতুকামিনী নামের একটি নতুন ছবির কাজ শেষ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজীপুর, কালীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছবিটির শুটিং হয়েছিল। অর্থাৎ ছবিটি হঠাৎ করে আসা কোনো প্রকল্প নয়, এর কাজ অনেক আগেই এগিয়েছিল, আর এখন প্রথম জুটির খবরটি সামনে আসায় আবার আলোচনায় ফিরেছে।
পরিচালক জাহিদ হোসেনের আগের কাজ মাতৃত্বের প্রশংসার প্রসঙ্গও এখানে প্রাসঙ্গিক। মাতৃত্বের পর তার নতুন ছবিতে সজল ও অধরার মতো দুই ভিন্ন ধারার অভিনয়শিল্পীকে একসঙ্গে আনা হচ্ছে। সজল মূলত ছোটপর্দা থেকে উঠে আসা অভিনেতা, অধরা বড়পর্দায় পরিচিত মুখ। এই দুই ধারার মিলন কেমন হয়, সেটাই ছবিটির আরেকটি দেখার বিষয়।
তবু প্রথম জুটির কারণেই ছবিটি নিয়ে আগ্রহ স্বাভাবিক। ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সজল আর বড়পর্দার অধরার রসায়ন কেমন হয়, গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে অধরার কুমকুম দর্শকের কেমন লাগে, আর জামাল চরিত্রে সজলের নতুন রূপ কতটা মনে থাকে, এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনায়। মুক্তির তারিখ, ট্রেলার আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই ছবিটির পরের ধাপ পরিষ্কার হবে।
