স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক কুমকুম ২০২৬ সালের ১৯ জুন থেকে সম্প্রচার শুরু করেছে, আর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সন্ধ্যার স্লটের আলোচিত ধারাবাহিকগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় স্টার জলসায় পর্ব সম্প্রচার হয়, আর পূর্ণ পর্ব দেখা যায় জিওহটস্টারে। এই ধারাবাহিক দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরেছেন অভিনেতা আদৃত রায়, আর নামভূমিকায় আছেন নবাগত অভিনেত্রী অনুষ্কা গোস্বামী। দর্শকের মনে এখন একগুচ্ছ প্রশ্ন ঘুরছে, কুমকুম কখন আসে, কোথায় দেখা যাবে, গল্পটা আসলে কী নিয়ে, আর কাস্টে আর কারা আছেন। এই সম্পূর্ণ গাইডে সেই সব প্রশ্নের যাচাই করা উত্তর এক জায়গায় সাজানো হলো।
কুমকুমের গল্পের কেন্দ্রে আছে নামের চরিত্রটি নিজে, এক তরুণী বিধবা যে অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে সমাজের চোখে অলক্ষুণে বলে দাগিয়ে গেছে। স্বামী হারানোর পর থেকেই তার জীবনটা যেন একটানা প্রত্যাখ্যানের সারি, যেখানে পদে পদে তাকে শুনতে হয় সে অপয়া, তার উপস্থিতি নাকি অমঙ্গল ডেকে আনে। কিন্তু কুমকুম ভেঙে পড়ে না। সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইটা বেছে নেয়, পরিশ্রম করে নিজেকে চালায়, আর মর্যাদা নিয়ে বাঁচার দাবিটা ছাড়ে না। ধারাবাহিকের শুরুর পর্বগুলোতে এই লড়াইটাই সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে, একজন মেয়ে কীভাবে সমাজের দেওয়া দাগ মুছে নিজের পরিচয় নিজে গড়তে চায়।
গল্পে মোড় আসে ঈশানের আগমনে। ঈশান আধুনিক, ধনী পরিবারের যুবক, যার জগৎ কুমকুমের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। একজনের জীবনে অভাব, কুসংস্কার আর প্রতিদিনের সংগ্রাম, আরেকজনের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আর আধুনিকতা। দুজনের দেখা হয়, আর সেই দেখা থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আবেগের সম্পর্ক। এটি গতানুগতিক প্রেমের গল্প নয়, বরং দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষের মধ্যে অপ্রচলিত প্রেমের গল্প, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে শ্রেণি, মর্যাদা আর সমাজের চোখ নিয়ে। ঈশানের চরিত্রে আদৃত রায়ের উপস্থিতি এই গল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি, কারণ এই চরিত্র দিয়েই তিনি দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরেছেন।
কুমকুমের গল্প শুধু প্রেমে থেমে থাকে না, পারিবারিক ব্যবসার সংকটও এখানে বড় জায়গা নিয়ে আছে। একটি সংকটে পড়া পারিবারিক ব্যবসায় কুমকুম নিজের ভাবনা আর দৃঢ়তা দিয়ে অবদান রাখে, আর সেখানেই সে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। যাকে সমাজ অলক্ষুণে বলে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, সেই মেয়েটাই যখন ব্যবসার কঠিন সময়ে কাজের বুদ্ধি দেয়, তখন গল্পটা আর শুধু আবেগের থাকে না, হয়ে ওঠে আত্মসম্মান আর স্বীকৃতির লড়াই। এই মোড়টাই কুমকুমকে অন্য ধারাবাহিকের নায়িকাদের থেকে আলাদা করে, কারণ এখানে নায়িকা শুধু কষ্ট পায় না, সে কাজ দিয়ে, ভাবনা দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করে নেয়।
কাস্টের দিক থেকে ধারাবাহিকটির দুটি প্রধান মুখ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। আদৃত রায় অভিনয় করছেন ঈশানের ভূমিকায়, চ্যানেলের প্রোমোতে যাকে ঈশান নামে চেনানো হয়েছে, আর পর্বের ক্লিপে তার পদবি সিনহা বলে উল্লেখ আছে, পেশায় সে গেম ডেভেলপার। নামভূমিকায় আছেন নবাগত অভিনেত্রী অনুষ্কা গোস্বামী, যার ক্যারিয়ার শুরুই হয়েছে এই ধারাবাহিক দিয়ে। সাম্প্রতিক পর্বগুলোতে নতুন চরিত্র হিসেবে এসেছেন ভিক্টর, কোম্পানির সিইও, যার ভূমিকায় আছেন সান্দ্রো পুলেও। পর্ব ১৪০-এর একটি দৃশ্যে ভিক্টরকে ফোনে সিনহার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে, যা বোঝায় ব্যবসায়িক টানাপোড়েনের মোড়ে গল্প এগোচ্ছে। সহশিল্পীদের পূর্ণ তালিকা চ্যানেলের পর্ব-বিবরণে ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে, আর নতুন চরিত্র এলে এই গাইডে তা যোগ করা হবে।
আদৃত রায়ের ফেরাটা এই ধারাবাহিকের সবচেয়ে বড় খবরগুলোর একটি। আনন্দবাজার ২০২৬ সালের ১ জুনের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, এই ধারাবাহিক দিয়েই লম্বা বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরছেন আদৃত। বাংলা ধারাবাহিকের দর্শকের কাছে আদৃত পরিচিত মুখ, তাই তার ফেরা নিয়ে ঘোষণার সময় থেকেই আগ্রহ ছিল। কুমকুমে ঈশান চরিত্রটি তার ফেরার মঞ্চ, আর শুরুর পর্বগুলোতে তার উপস্থিতি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। নবাগত অনুষ্কা গোস্বামীর সঙ্গে তার জুটি, যাকে চ্যানেলের প্রোমোতে সংক্ষেপে ইশক নামে চেনানো হয়েছে, সেটিও দর্শকের কৌতূহলের কেন্দ্রে আছে।
সময়সূচির দিক থেকে কুমকুম এখন স্টার জলসার নিয়মিত সন্ধ্যার ধারাবাহিক। চ্যানেলের অফিশিয়াল প্রোমো অনুযায়ী, সোম থেকে রবি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় নতুন পর্ব সম্প্রচার হয়। টিভিতে দেখা না গেলে পূর্ণ পর্ব জিওহটস্টারে পাওয়া যায়, প্রোমোতে সরাসরি জিওহটস্টারের লিংক দেওয়া থাকে। দিনের বেলায় পুনঃপ্রচারও আছে, টিভি তালিকা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৬টা ও সকাল ১০টায় পর্ব দেখানো হয়, তাই সন্ধ্যায় মিস হলেও পরে ধরা যায়। নতুন দর্শকের জন্য সহজ উপায় হলো, জিওহটস্টার অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে কুমকুম খুঁজে পর্ব ধারাবাহিকভাবে দেখা শুরু করা।
পর্বের হাল হিসেবে ধারাবাহিকটি এখন প্রতিদিনের পর্বে এগোচ্ছে। টিভি তালিকা অনুযায়ী ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পর্ব ১৪৩ সম্প্রচারিত হচ্ছে, আর তার দুদিন আগের পর্ব ১৪০-এর ক্লিপ চ্যানেলের ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯ জুন শুরু হওয়া ধারাবাহিকের এই হিসেব মিলে যায়, প্রায় প্রতিদিন একটি করে পর্ব এসেছে। পুজোর সময়েও ধারাবাহিকটি বিশেষ পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছিল, ২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের পুজো-সপ্তাহে গুদাম-কেন্দ্রিক টুইস্ট দেখানো হয় বলে চ্যানেলের প্রোমোতে জানানো হয়েছিল। পুজোর পর গল্প আবার মূল ধারায় ফিরেছে, আর ভিক্টরের মতো নতুন চরিত্রের আগমনে ব্যবসা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মোড় নিচ্ছে।
কুমকুম কেন দেখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এর বিষয়বস্তুতে। বাংলা ধারাবাহিকে বিধবার গল্প নতুন নয়, কিন্তু কুমকুম সেই গল্পকে শুধু কান্না আর ত্যাগের মধ্যে আটকে রাখে না। এখানে নায়িকা কাজ করে, ভাবে, সিদ্ধান্ত নেয়, আর নিজের যোগ্যতায় পরিবারের সংকটে অবদান রাখে। বিধবাদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, অলক্ষুণে বলে দাগিয়ে দেওয়ার মানসিকতা, আর নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন, এই বিষয়গুলো গল্পের ভেতর দিয়ে উঠে আসে। একই সঙ্গে আছে দুটি ভিন্ন জগতের মানুষের প্রেম, যেখানে শ্রেণি-ব্যবধান আর পারিবারিক প্রত্যাশা বারবার পরীক্ষা নেয়। যারা পারিবারিক ড্রামা পছন্দ করেন, আবার যারা সামাজিক প্রশ্ন নিয়ে ভাবা গল্প খোঁজেন, দুই ধরনের দর্শকের জন্যই এখানে কিছু আছে।
কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের সোজা উত্তর হলো দুটি জায়গা। প্রথমত, টেলিভিশনে স্টার জলসা, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা, সোম থেকে রবি। দ্বিতীয়ত, জিওহটস্টার, যেখানে পূর্ণ পর্ব স্ট্রিমিং হয়। যারা বাংলাদেশ থেকে দেখেন, তারা জিওহটস্টার অ্যাপে শোটি খুঁজে নিতে পারেন, আর চ্যানেলের অফিশিয়াল ইউটিউবে প্রোমো ও পর্বের ক্লিপ দেখা যায়। টিভিতে সরাসরি দেখতে না পারলে সকালের পুনঃপ্রচারও একটি উপায়। কোনো অবৈধ স্ট্রিমিং বা ডাউনলোডের দরকার নেই, বৈধ এই দুটি মাধ্যমেই ধারাবাহিকটি নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে।
কুমকুমের শুরুটা হয়েছিল বাংলা টেলিভিশনের একটি ব্যস্ত সময়ে। ২০২৬ সালের জুনে জি বাংলা, স্টার জলসা আর সান বাংলা, তিন চ্যানেলই নতুন ধারাবাহিক আর পুরনো মেগার নতুন মোড় নিয়ে একসঙ্গে মাঠে নেমেছিল, কারণ আইপিএলের মৌসুম শেষে দর্শক আবার সন্ধ্যার ধারাবাহিকে ফিরছিল, আর রেটিংয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চাইছিল সবাই। আনন্দবাজারের সেই সময়ের প্রতিবেদনে এই প্রস্তুতির ছবিটাই উঠে এসেছিল, যেখানে স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক হিসেবে কুমকুমের নাম ছিল সবার আগে। একই সময়ে স্টার জলসায় এসেছিল বাবলি সুন্দরীও, আর জি বাংলায় শুরু হয়েছিল অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা। এই প্রেক্ষাপটটা বোঝা দরকার, কারণ কুমকুম শুধু একটি নতুন গল্প হিসেবে আসেনি, এসেছিল চ্যানেলের সন্ধ্যার স্লটের বড় বাজি হিসেবে, আর আদৃত রায়ের ফেরাকে কেন্দ্র করে সাজানো সেই বাজিতে চ্যানেলের আস্থা ছিল স্পষ্ট।
চ্যানেলের প্রোমোতে কুমকুম আর ঈশানের জুটিকে সংক্ষেপে ইশক বলে চেনানো হয়েছে, আর এই নামটাই এখন দর্শকের মুখে মুখে ঘুরছে। ইশক শব্দটা এখানে দুটি নামের মিলন, ঈশান আর কুমকুম, আর একই সঙ্গে ভালোবাসার ইঙ্গিতও আছে তাতে। প্রোমোর হ্যাশট্যাগে ঈশানের নাম আলাদা করে থাকা আর স্টার জলসা অরিজিনালের তকমা, দুটো মিলে বোঝায় চ্যানেল এই জুটিকেই ধারাবাহিকের মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। সোম থেকে রবি সন্ধ্যা ৭টার স্লটটাও সেই বার্তাই দেয়, প্রতিদিনের পর্বে এই জুটির গল্পই এগোবে। দর্শক যারা সোশ্যালে ধারাবাহিকটি খোঁজেন, তারা এই নামেই ক্লিপ আর প্রোমো পেয়ে যান।
ঈশান চরিত্রটির একটি দিক আলাদা করে লক্ষ করার মতো, তার পেশা। পর্বের ক্লিপে তাকে গেম ডেভেলপার হিসেবে চেনানো হয়েছে, আর ভিক্টর নামের চরিত্রটি একটি কোম্পানির সিইও। বাংলা ধারাবাহিকে নায়কের পেশা হিসেবে গেম ডেভেলপার খুব চেনা ছবি নয়, আর এই আধুনিক পেশাই ঈশানকে কুমকুমের জগৎ থেকে আরও আলাদা করে দেয়। একদিকে কুমকুমের সংগ্রাম, অন্যদিকে কর্পোরেট জগতের চাপ, এই দুই জগতের সংঘর্ষ থেকেই গল্পে ব্যবসায়িক টানাপোড়েনের মোড় এসেছে। পর্ব ১৪০-এর দৃশ্যে ভিক্টরের ফোনালাপে সেই টানাপোড়েনের ইঙ্গিত স্পষ্ট, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সিনহার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই ব্যবসার গল্পটা কুমকুমের নিজের অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলেই আগামী পর্বগুলোতে এর গুরুত্ব বাড়বে বলে মনে হয়।
কুমকুমের গল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিকটি হলো বিধবা নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি। অল্প বয়সে স্বামী হারানো মেয়েকে অলক্ষুণে বলে দাগিয়ে দেওয়ার মানসিকতা বাংলার সমাজজীবনে নতুন নয়, আর ধারাবাহিকটি সেই প্রশ্নটাকেই সামনে এনেছে। কুমকুমের লড়াই তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, একটি ধারণার বিরুদ্ধে লড়াই, যেখানে একজন মেয়ের মূল্য নির্ধারিত হয় তার বৈবাহিক অবস্থা দিয়ে। গল্পে কুমকুম যখন কাজ করে নিজেকে চালায়, যখন ব্যবসার সংকটে নিজের ভাবনা দিয়ে অবদান রাখে, তখন সেই ধারণাটাই ভেঙে পড়ে। বাংলা টেলিভিশনে এমন নায়িকা আগেও এসেছে, কিন্তু কুমকুমের বিশেষত্ব হলো, সে কষ্টের মধ্যে আটকে থাকে না, সে প্রতিদিনের কাজ আর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করে। এই কারণেই গল্পটি শুধু বিনোদন নয়, অনেক দর্শকের কাছে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবিও বটে।
যারা এখনো কুমকুম দেখা শুরু করেননি, তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ পথ হলো জিওহটস্টার। সেখানে পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায়, তাই প্রথম পর্ব থেকে শুরু করে নিজের সময়ে এগোনো যায়। টিভিতে নিয়মিত দেখতে চাইলে সন্ধ্যা ৭টার স্লটটাই মূল সময়, আর সকালে সাড়ে ৬টা ও ১০টার পুনঃপ্রচার মিস হওয়া পর্ব ধরার সুযোগ দেয়। চ্যানেলের অফিশিয়াল ইউটিউবে প্রোমো আর পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্লিপ পাওয়া যায়, যেখান থেকে গল্পের হাল বোঝা যায়। নতুন দর্শকের জন্য পরামর্শ হলো, শুরুর কয়েকটি পর্ব দেখে কুমকুমের জগৎটা বুঝে নেওয়া, তারপর প্রতিদিনের পর্বের সঙ্গে তাল মেলানো। পর্ব ১৪৩ পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া গল্পে এখন ব্যবসা, সম্পর্ক আর নতুন চরিত্রের মোড় একসঙ্গে চলছে, তাই এখন শুরু করলে গল্পের সবচেয়ে জমজমাট অংশটাই ধরা যাবে।
নবাগত অনুষ্কা গোস্বামীর জন্য কুমকুম শুধু একটি চরিত্র নয়, ক্যারিয়ারের শুরু। তার জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক দিয়েই তিনি অভিনয় জীবন শুরু করেছেন, আর প্রথম কাজেই নামভূমিকার দায়িত্ব পেয়েছেন। নবাগত নায়িকার সঙ্গে আদৃত রায়ের মতো পরিচিত মুখের জুটি চ্যানেলের একটি হিসেবি সিদ্ধান্তও বটে, একদিকে অভিজ্ঞতার ভরসা, অন্যদিকে নতুন মুখের সতেজতা। কুমকুম চরিত্রটির জন্য এই সতেজতাটা জরুরি, কারণ গল্পে কুমকুমের বয়স কম, তার লড়াইটা তরুণ বয়সের, আর তার চোখে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্নটা নতুন। সন্ধ্যা ৭টার স্লটে প্রতিদিন পর্ব আসায় দর্শকের সঙ্গে চরিত্রগুলোর সম্পর্কটাও প্রতিদিনের হয়ে উঠেছে, আর এই নিয়মিততাই ধারাবাহিকের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ইউটিউবে কুমকুমের ক্লিপ আর প্রোমো দেখে অনেক নতুন দর্শক ধারাবাহিকটির খোঁজ পাচ্ছেন। চ্যানেলের অফিশিয়াল ইউটিউবে পর্বের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য, যেমন ভিক্টরের ফোনালাপ বা ঈশান-কুমকুমের মুহূর্ত, ক্লিপ আকারে প্রকাশিত হয়, আর সেখান থেকেই দর্শক গল্পের হাল বুঝে পূর্ণ পর্বের দিকে যান। সন্ধ্যা ৭টার পর্ব মিস হলে সকালের পুনঃপ্রচার বা জিওহটস্টারের পর্ব, দুটি উপায়ই খোলা আছে। এই তিনটি মাধ্যম, টিভি, জিওহটস্টার আর ইউটিউব ক্লিপ, একসঙ্গে মিলে কুমকুমকে এখন সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, আর নতুন দর্শকের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।
দর্শকের সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নগুলোর উত্তর সংক্ষেপে এখানে রইল। কুমকুম কখন আসে, উত্তর, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় স্টার জলসায়। কুমকুমের ভূমিকায় কে, উত্তর, নবাগত অভিনেত্রী অনুষ্কা গোস্বামী। ঈশানের ভূমিকায় কে, উত্তর, আদৃত রায়, পেশায় গেম ডেভেলপার। কুমকুম কোথায় দেখবেন, উত্তর, টিভিতে স্টার জলসা আর অনলাইনে জিওহটস্টারে পূর্ণ পর্ব। ধারাবাহিকটি কবে শুরু হয়েছে, উত্তর, ১৯ জুন ২০২৬। গল্পটা কী ধরনের, উত্তর, রোমান্স আর পারিবারিক ড্রামা, যেখানে বিধবা কুমকুমের মর্যাদার লড়াই আর ঈশানের সঙ্গে তার অপ্রচলিত প্রেমের গল্প। কত পর্ব হয়েছে, উত্তর, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পর্ব ১৪৩-এর ঘরে পৌঁছেছে।
এরপর কী হতে পারে, সেটা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে পর্বের ধারা থেকে কিছু আভাস পাওয়া যায়। ভিক্টরের আগমন ব্যবসায়িক টানাপোড়েনের নতুন অধ্যায় খুলেছে, আর কুমকুমের ভাবনা সেখানে কতটা কাজে আসে, সেটাই আগামী পর্বগুলোর দেখার বিষয়। ঈশান আর কুমকুমের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নেয় কি না, আর সমাজের দাগ মুছে কুমকুম নিজের জায়গা কতটা পাকা করতে পারে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে সামনের পর্বগুলোতে। নতুন কোনো ঘোষণা বা বড় মোড় এলে এই গাইড আপডেট করা হবে।
সব মিলিয়ে কুমকুম এমন একটি ধারাবাহিক, যেখানে পারিবারিক গল্পের সঙ্গে সামাজিক প্রশ্ন মিশে আছে, আর নতুন-পুরনো মুখের জুটি দর্শকের আগ্রহ ধরে রেখেছে। যারা স্টার জলসার সন্ধ্যার স্লটের নিয়মিত দর্শক, তারা পর্ব ১৪৩ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছেন, আর যারা নতুন শুরু করতে চান, তারা জিওহটস্টারে আগের পর্বগুলো ধরে নিতে পারেন। গাইডটি নিয়মিত আপডেট করা হবে, যাতে সময়সূচি, পর্বসংখ্যা বা গল্পের বড় মোড়ের খবর এলে পাঠক এখানেই পেয়ে যান।
