বিনোদন ঝলক
তারকা

মৃত্যুর পর দাহ নয়, সমাধি নয়: জৈব সার হয়ে গাছের মধ্যেই বাঁচতে চান কিম নোভাক

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
কিম নোভাকের মৃত্যুর পর কম্পোস্ট হয়ে গাছ হয়ে বাঁচার ইচ্ছা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক
মৃত্যুর পর গাছ হয়ে বাঁচতে চান কিম নোভাক (ছবি: বিনোদন ঝলক)

মৃত্যুর পর দাহ হতে চান না, সমাহিতও হতে চান না হলিউডের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী কিম নোভাক। ৯৩ বছর বয়সে এসে তিনি জানিয়েছেন একেবারেই অন্যরকম এক ইচ্ছার কথা: মৃত্যুর পর নিজের দেহ কম্পোস্টে, অর্থাৎ জৈব সারে পরিণত করার ব্যবস্থা তিনি আগেই করে রেখেছেন। আর সেই কম্পোস্টের ওপর গাছ লাগানো হবে, গাছের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকতে চান। এই সিদ্ধান্তের কথা জানাজানি হতেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে কিম জানান, কয়েক বছর আগেই তিনি তার এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সমস্ত ব্যবস্থা পাকা করে রেখেছেন। তার ভাবনা সহজ, কিন্তু গভীর: তিনি চলে যাওয়ার পরও গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন। বিষয়টি তার কাছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের মতো। মৃত্যুর পর তিনি এটাই চান, তিনি বেঁচে থাকতে চান। নিজের দেহকে ছাই কিংবা মাটিতে পরিণত করার বিষয়টি তিনি কল্পনাতেও আনতে পারেন না বলে জানিয়েছেন, তার কাছে মাটির সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার ধারণাটাই সবচেয়ে সুন্দর।

কেন এমন সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যায় কিম নিজের স্বভাবের কথা বলেছেন। তার মতে, অন্যদের মতো প্রাণবন্ত প্রকৃতির নন তিনি, সবসময় যে বিষয়টি তাকে তাড়া করতো, সেটা ধৈর্যের অভাব। গাছের ধৈর্য আছে, তাই গাছের মতো ধীরস্থিরভাবে নিজের পরজীবনটিকে অনুভব করা যায় বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, ধৈর্যের অভাবে ভুগতেন তিনি, গাছের ধৈর্য আছে, তাই নিজেকে উপলব্ধি করার এটাই সুযোগ, গাছের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে প্রকাশ করে যেতে পারবেন। এই ভাবনাতেই তিনি আলাদা এক প্রশান্তি পান।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আর্থ ফিউনারেল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবস্থা করেছেন কিম। সেখানে মৃত্যুর পর কম্পোস্ট করার আগে ফ্রিজিং করে রাখা হয় বলেও জানান তিনি। ইতিমধ্যে নিজের স্বজন ও বন্ধুদেরও বিষয়টি জানিয়ে রেখেছেন। তিনি তাদের প্রত্যেককে একটি গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগাতে বলেছেন, তবে গাছ লাগানোই তার বেশি পছন্দ, কারণ তিনি আরও বেড়ে উঠতে চান। তার কাছে আসল বিষয়টাই হলো বেড়ে চলা, তিনি চান তার বেড়ে ওঠা যেন থেমে না যায়।

কিম নোভাকের জীবনটাও এই সিদ্ধান্তের মতোই আলাদা। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাদের একজন ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে হলিউডের রুপালী পর্দা ছেড়ে ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগী হন। এরপর থেকে ছবি আঁকাকেই নিজের ভাবনা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। নিজের পরিচয় যেন শুধু চলচ্চিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেই ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাই নিজেকে কম্পোস্টে পরিণত করার মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পরও নিজেকে প্রকাশ করে যাওয়ার ইচ্ছে তার কাছে স্বাভাবিক এক ধারাবাহিকতা।

কম্পোস্ট হয়ে থাকলে গাছপালা আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, এটি প্রাকৃতিক, বাস্তব, অকৃত্রিম ও বিশুদ্ধ, এমনটাই মনে করেন কিম। অনেকের কাছে এই পরিকল্পনা অদ্ভুত মনে হতে পারে, তা তিনি নিজেও জানেন, তবে তার কাছে বিষয়টি মোটেও হাস্যকর নয়। মৃত্যু নিয়ে এমন খোলাখুলি আর প্রকৃতিমুখী ভাবনা হলিউডের একজন প্রবীণ তারকার মুখে শোনা যাওয়ায় তা আলোচনায় এসেছে। গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার এই ইচ্ছা তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটা সুযোগ করে দিচ্ছে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার