বিনোদন ঝলক
তারকা

মঞ্চে উঠলেই মনে হতো মৃত্যুকে দেখছি: এ আর রহমানের ভয় কাটানোর ৩০ বছরের গল্প

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
এ আর রহমানের মঞ্চের ভয় ও লাইভ যাত্রা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক
মঞ্চের ভয় কাটিয়ে ৩০ বছরের লাইভ যাত্রা (ছবি: বিনোদন ঝলক)

সিনেমার গানে সুরের জাদু ছড়ালেও একসময় মঞ্চে উঠে দর্শকের সামনে গান পরিবেশন করা এ আর রহমানের কাছে ছিল ভীষণ কঠিন এক পরীক্ষা। ভয় এতটাই প্রবল ছিল যে মঞ্চে দাঁড়ালে তার মনে হতো, তিনি যেন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই শুরুর দিনগুলোর কথা খোলাখুলি বলেছেন অস্কারজয়ী এই ভারতীয় সুরকার। আর সেই ভয়ের গল্পই এখন আলোচনায়, কারণ আজ তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তে বড় বড় আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করছেন, যে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় তিন দশক আগে।

রহমানের লাইভ পরিবেশনার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম লাইভ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। এই দীর্ঘ পথে তিনি শুধু ভয় কাটাননি, মঞ্চের জন্য নিজের সংগীতকে নতুন করে সাজানোর কৌশলও আয়ত্ত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার মনে হতো যেন মৃত্যুকে দেখছেন, তিনি ভীষণ ভয় পেতেন। এমন একজন শিল্পীর মুখে এই স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই চমকপ্রদ, কারণ পর্দার আড়ালে সুর তৈরি করা আর হাজারো দর্শকের সামনে সরাসরি গাওয়া এক কথা নয়।

ভয় কাটানো সহজ ছিল না, তার বড় কারণ ছিল রহমানের সুরের ধরন। তার সংগীতের কাঠামো অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল বলে মঞ্চে থাকা শিল্পীদের পক্ষে তা নিজেদের মতো করে পরিবেশন করা কঠিন হতো। স্টুডিওতে কয়েক মাস ধরে যত্ন করে তৈরি করা সংগীতকে মঞ্চে উপস্থাপনের উপযোগী করে তুলতে সময় লেগেছে। উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে পাওয়াও ছিল গুরুত্বপূর্ণ, যারা মূল সুরের কাঠামো ঠিক রেখে তাতে নতুন কিছু যোগ করতে পারবেন, আবার মাসের পর মাসের পরিশ্রমকে নষ্ট করবেন না। এই ধৈর্যের পর্ব পেরিয়েই ধীরে ধীরে মঞ্চ তার কাছে সহজ হয়েছে।

এখনকার রহমান একেবারেই অন্য ছবি। যুক্তরাষ্ট্রে সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি তিনি যুক্ত হচ্ছেন ওয়ান্ডারমেন্ট ট্যুরের মতো বড় আয়োজনে। এই ট্যুর নিয়ে তিনি ভারতের মুম্বাই ও দিল্লিতে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড গার্ডেন এবং ২১ নভেম্বর দিল্লির ব্যাকইয়ার্ড স্পোর্টস ক্লাবে পারফর্ম করবেন তিনি। তিন ঘণ্টার এই আয়োজনে নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সুরের পাশাপাশি থাকবে তার সাম্প্রতিক সময়ের সংগীতও, ফলে পুরোনো শ্রোতা আর নতুন প্রজন্ম দুই পক্ষই নিজেদের প্রিয় গান খুঁজে পাবেন বলে আশা করা যায়।

রহমানের পরের কাজের তালিকায় রয়েছে রামায়ণ। এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো হলিউডের সুরকার হ্যান্স জিমারের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি, যা সংগীতপ্রেমীদের কাছে আলাদা আগ্রহের বিষয়। দুই ভিন্ন ধারার সুরকারের একসঙ্গে কাজ করা মানে পর্দায় সংগীতের পরিসর আরও বড় হওয়া। মঞ্চের ভয় থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে সিম্ফনি আর বড় ট্যুর, রহমানের এই যাত্রা আসলে দেখিয়ে দেয় যে ভয় থাকলেও তা নিয়েই এগিয়ে যাওয়া যায়। আর ঠিক এই কারণেই তার পুরোনো স্বীকারোক্তি আজ নতুন করে আলোচিত হচ্ছে: যিনি একসময় মঞ্চকে মৃত্যুর মতো ভয় পেতেন, তিনিই এখন মঞ্চেই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ।

ভক্তদের জন্য এরপরের নজর থাকবে ওয়ান্ডারমেন্ট ট্যুরের মুম্বাই ও দিল্লি পর্বের দিকে। সেখানে নব্বইয়ের দশকের গানগুলো সরাসরি শোনার সুযোগ মিলবে, সঙ্গে থাকবে নতুন কাজের ঝলক। আর রামায়ণের সংগীত কেমন হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সংগীতপ্রেমীদের। মঞ্চের ভয় জয় করার এই গল্প তাই শুধু একজন সুরকারের ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, বরং ধৈর্য আর পরিশ্রম দিয়ে কীভাবে দুর্বলতাকে শক্তিতে বদলানো যায়, তারও একটা উদাহরণ।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার