বিনোদন ঝলক
সিনেমা

সোলজার শুটিংয়ে ক্যাটারিং বিল বকেয়া: ১ লাখ ১২ হাজার টাকার অভিযোগ, হুমকির দাবিও

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬5 মিনিটে পড়ুন
সোলজার সিনেমার ক্যাটারিং বিল বিতর্কের নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

শাকিব খানের সিনেমা সোলজার ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। এবারের অভিযোগ শুটিংয়ের খাবার সরবরাহ নিয়ে। ধানমন্ডির শেফ বাংলা ক্যাটারিংয়ের কর্ণধার কমল আরেফিন বিজয় অভিযোগ করেছেন, সোলজার টিম তাঁর ১ লাখ ১২ হাজার টাকার খাবারের বিল এখনো পরিশোধ করেনি। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর বিকেলে এই খবর প্রকাশিত হয়।

শুটিং শুরুর বছর পার হলেও সোলজার এখনো শেষ হয়নি। লাফিং এলিফ্যান্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমার পরিচালক সাকিব ফাহাদ। শুরুর দিকে শাকিব খানের লুক প্রকাশ করে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে তানজিন তিশা, ঐশী, তৌকীর আহমেদ, তারিক আনাম খানের মতো অভিনেতা যুক্ত হওয়ার খবর শোনা যায়। ঈদ সিজনের বাইরে মুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা, এরপর কয়েক দফায় মুক্তির তারিখ বদলেছে। এই পর্যায়ে এসে কেউ কেউ এই সিনেমার আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের বকেয়া পারিশ্রমিক না দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা অনেকেই তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাননি বলে জানা গেছে। মেকআপ আর্টিস্ট থেকে শুরু করে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত গাড়ি ভাড়াও বাকি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাহী প্রযোজক মৌমিতা হোসাইন অবশ্য এসব অভিযোগের জবাবে বলেছেন, শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানী ছবির শুটিং শেষ হওয়ার আগে পরিশোধের বিষয় নয়, এখনো তো সিনেমার শুটিংই শেষ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেকনিশিয়ানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিনেমার সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ মানুষের টাকা পরিষ্কার করা হয়নি। আগে টাকা না দিলে কেউ নতুন করে সময় দিচ্ছে না। বছর পার হলেও শুটিং শেষ করতে না পারা আর টাকা না পাওয়ার কারণে অনেকে এই সিনেমার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই এখন ক্যাটারিং বিলের অভিযোগটি সামনে এলো।

কমল আরেফিন বিজয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বুম ফিল্মসের ব্যাচেলর পয়েন্ট শুটিংয়ে খাবার দেওয়ার সূত্রে সোলজারের নির্বাহী প্রযোজক ইয়াসির আরাফাত তাঁর ক্যাটারিং থেকে শুটিংয়ের জন্য খাবার অর্ডার করেন। প্রথম সাত দিন দুপুরে ৫০ থেকে ৭০ জনের খাবার পাঠানো হয়, রাতে পেমেন্ট করে দেওয়া হতো। কথা ছিল শুটিংয়ের ৩৫ দিন খাবার সরবরাহ করা হবে। এক সপ্তাহ পরে গত বছর অক্টোবরে পূর্বাচলের দিকে শুটিং ছিল, সেদিন দুপুর ও রাত মিলিয়ে ৭০০ মানুষের খাবার অর্ডার ছিল। তাঁর স্টাফরা সঠিক সময়ে খাবার পৌঁছে দেন।

রাতে তাঁর ম্যানেজার ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বিল চাইলে ইয়াসির আরাফাত বলেন, ৭০০ মানুষের খাবার দেওয়া হয়নি, খাবার কম ছিল, তাই বিল দেবেন না। ম্যানেজারের কাছ থেকে খবর পেয়ে কমল আরেফিন ফোন করলে ইয়াসির তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাননি বলে অভিযোগ। রুক্ষ স্বরে বিল দেবেন না, পারলে কিছু করে দেখানোর মতো কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অংশটুকু ক্যাটারিং কর্ণধারের অভিযোগ, এখনো আদালত বা স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

ঘটনার পর কমল আরেফিন তাঁর বড় ভাই কাজল আরেফিন অমিকে জানান। তাঁর ভাষ্য, অমি তখনই ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরে বারণ করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, যেহেতু মিডিয়াতে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তাই ঝামেলা করার দরকার নেই, আর এটি শাকিব খানের সিনেমা বলে ঝামেলা হলে খ্যাতি নষ্ট হতে পারে। সাকিব ফাহাদ অমির পরিচিত, তাই অমি তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই কারণে তখন আর কিছু করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিজয়।

কমল আরেফিনের দাবি, অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার সবকিছু সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষণ করা হয়, সব ডকুমেন্টও রেখে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সংবাদে সবার সঙ্গে টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলার খবর দেখে তিনি সোলজার টিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে ক্যাটারিং ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করছেন তিনি, মিডিয়ার বিভিন্ন শুটিংয়ে খাবার দেন, কিন্তু কোথাও সোলজার টিমের মতো অভিজ্ঞতা হয়নি বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর হালাল ব্যবসা, আর এই পাওনা টাকার দাবি তাঁর অবশ্যই থাকবে।

অভিযোগের বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইন নির্বাহী প্রযোজক ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। মুঠোফোনে তিনি জানান, এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবেন না, পরিচালক সাকিব ফাহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এদিকে নির্মাতা সাকিব ফাহাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অর্থাৎ, অভিযোগের বিষয়ে প্রযোজনা টিমের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি।

কাজল আরেফিন অমির বক্তব্যও প্রতিবেদনে এসেছে। তিনি বলেছেন, শাকিব খানকে তিনি পছন্দ করেন, তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। শুধুমাত্র সোলজার শাকিব খানের সিনেমা বলে বিজয়কে ঝামেলা করতে বারণ করেছিলেন, টাকার চেয়ে তাঁর কাছে প্রায়োরিটি ছিল শাকিব। পরিচালক সাকিব ফাহাদ তাঁর পূর্ব পরিচিত। খাবারের বিল পরিশোধের জন্য তিনি সাকিব ফাহাদকে ভয়েস টেক্সট করেছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। তাঁর মন্তব্য, যার খ্যাতি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই, সে ভালো সিনেমা বানাতে পারবে না, আর চারদিকে সংবাদে যা দেখছেন, এসব অসততার কারণেই সিনেমা ঝুলে গেছে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। ক্যাটারিং কর্ণধারের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাহী প্রযোজক ইয়াসির আরাফাত ও পরিচালক সাকিব ফাহাদ। শাকিব খানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ এই প্রতিবেদনে উঠে আসেনি, বরং তাঁর নাম আসছে সিনেমাটির তারকা হিসেবে এবং ঝামেলা এড়ানোর কারণ হিসেবে। তাই এই বিতর্ককে শাকিব খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে পড়া ঠিক হবে না।

এরপর কী হতে পারে, তা নির্ভর করছে প্রযোজনা টিমের জবাবের ওপর। বিল পরিশোধ হলে বিষয়টি মিটে যেতে পারে, আবার অভিযোগ অস্বীকার করা হলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। শুটিং শেষ হওয়া, বকেয়া সম্মানী আর মুক্তির তারিখ, এই তিনটি প্রশ্ন এখন একসঙ্গে ঝুলে আছে। সোলজার টিমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এলে এই গল্পের পরের পর্বে তা জানানো যাবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার