ভৌতিক সিরিজপ্রেমীদের জন্য বড় খবর। লোককথানির্ভর নতুন ওয়েব সিরিজ দ্য কার্সড টেম্পল অব কৌরিবুড়ি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৬ নভেম্বর। হইচইয়ে বাংলায় মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে একই সময়ে নেটফ্লিক্সে পাওয়া যাবে সিরিজটির হিন্দি, তামিল ও তেলুগু সংস্করণ। ফলে বাংলা গল্পটি একসঙ্গে পৌঁছে যাবে ভারতের বিভিন্ন ভাষার দর্শকের কাছে।
সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিতু কমল, শোলাঙ্কি রায় ও পাওলি দাম। লোকবিশ্বাস, রহস্য ও অতিপ্রাকৃত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এর গল্প। অভিশপ্ত মন্দিরের লোককথা ঘিরে তৈরি হওয়া এই সিরিজে ভয়ের আবহের সঙ্গে মিশে আছে রহস্যের টান। হইচই ও নেটফ্লিক্সের নতুন অংশীদারত্বের আওতায় এটাই প্রথম নতুন সিরিজ, যা দুই প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে আসছে।
এই মুক্তি আসলে একটি বড় চুক্তির প্রথম ফসল। গত ২২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে হইচই ও নেটফ্লিক্সের অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দুই বছরে হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া সব নতুন সিরিজ হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় একচেটিয়াভাবে নেটফ্লিক্সে দেখানো হবে। পাশাপাশি হইচইয়ের আগে মুক্তি পাওয়া নির্বাচিত সিরিজও যুক্ত হবে নেটফ্লিক্সের তালিকায়। কৌরিবুড়ি দিয়ে সেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।
প্রথম তালিকায় মোট ১৪টি সিরিজ রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ দুটি নাম, আশফাক নিপুণ পরিচালিত মহানগর আর অমিতাভ রেজা চৌধুরীর বোহেমিয়ান ঘোড়া। মহানগরের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসি হারুন, যেখানে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। আর বোহেমিয়ান ঘোড়া নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে শাদি কা সিয়াপ্পা নামে। তবে বাংলাদেশের এই দুই সিরিজ ঠিক কবে থেকে নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
তালিকায় আরও আছে কলকাতার বিভিন্ন ঘরানার আলোচিত সিরিজ। ম্যাডাম ইন্সপেক্টর, সম্পূর্ণা, লজ্জা, একেন স্যারজি, আনজান সায়ে, দ্য কার্স অব পর্ণশবরী, ব্লাডলাইনস, দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব দাদি অ্যান্ড জগ্গা, রাত অভি বাকি হ্যায়, অচিন্ত: ট্রায়াল বাই ল, কুইন্স এবং পরিণীতা: আ লাভ স্টোরি। অপরাধ ও রহস্যের অনুসন্ধান, গোয়েন্দা অভিযান, লোককথাভিত্তিক ভৌতিক ঘটনা, নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংকট, আদালতের লড়াই আর প্রেমের নানা গল্প মিলিয়ে সাজানো হয়েছে এই সংগ্রহ।
শুধু সম্প্রচারেই থেমে থাকছে না এই জোট। দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নতুন মৌলিক সিরিজ নির্মাণেরও পরিকল্পনা করেছে। হইচইয়ের নির্বাচিত কিছু গল্প নতুনভাবে রূপান্তর করা হবে, প্রযোজনা করবে হইচই স্টুডিওজ। পরিচিত গল্পগুলোকে ভিন্ন আঙ্গিক আর নতুন নির্মাণশৈলীতে দর্শকের সামনে আনার লক্ষ্য এই উদ্যোগের। তবে কোন গল্পগুলো নতুনভাবে নির্মিত হবে, কারা পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হইচইয়ের পটভূমিটাও এখানে প্রাসঙ্গিক। ২০১৭ সালে ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফের ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে হইচই। বাংলা ভাষার সিনেমা ও ওয়েব সিরিজকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মটি পরে বাংলাদেশেও নিজস্ব কনটেন্ট নির্মাণে গুরুত্ব দেয়। হইচইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের সংগ্রহে রয়েছে দুই হাজার ঘণ্টার বেশি কনটেন্ট, যার মধ্যে শতাধিক মৌলিক সিরিজের পাশাপাশি আছে সিনেমা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র। ২০২৩ সালে হইচই স্টুডিওজ চালুর মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও পা রাখে প্রতিষ্ঠানটি।
কোথায় দেখবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর সোজা। ৬ নভেম্বর থেকে সিরিজটি দেখা যাবে হইচইয়ে, বাংলায়। একই দিনে নেটফ্লিক্সে মিলবে এর হিন্দি, তামিল ও তেলুগু সংস্করণ। তবে একটি সতর্কতা আছে। নেটফ্লিক্সের ঘোষণায় মূলত ভারতজুড়ে বহুভাষিক সম্প্রচারের বিষয়টিই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সিরিজগুলো বিশ্বের সব দেশে একই সময়ে দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই মুক্তির দিন ঘনিয়ে এলে নিজের দেশের প্ল্যাটফর্মে সিরিজটির উপস্থিতি যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বাংলা কনটেন্টের জন্য এই উদ্যোগের অর্থ বড়। মহানগর ও বোহেমিয়ান ঘোড়ার মতো দেশীয় প্রযোজনা ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। আর কৌরিবুড়ির মতো নতুন সিরিজ শুরু থেকেই বহুভাষিক দর্শক পাচ্ছে। বাংলা গল্পের বাজার শুধু বাংলা ভাষার দর্শকের মধ্যে আটকে না থেকে বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার পথে, সেটাই এই অংশীদারত্বের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত।
