বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ওয়েব সিরিজ

সত্যি অপরাধের গল্পে কোটি কোটি ভিউ: নেটফ্লিক্সে ট্রু ক্রাইমের ঝড় কেন, সেরা ১০-এ যা আছে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৮ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
ট্রু ক্রাইম স্ট্রিমিং নিয়ে আর্টিকেলের নিজস্ব গ্রাফিক থাম্বনেইল
সত্যি অপরাধের গল্পে কোটি কোটি ভিউ (ছবি: বিনোদন ঝলক)

বাস্তব অপরাধের গল্প এখন স্ট্রিমিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুন, নিখোঁজ রহস্য, সাজানো দুর্ঘটনা আর পারিবারিক ষড়যন্ত্র নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ও সিরিজ এ বছরও বিপুল দর্শক টানছে। নেটফ্লিক্সের কয়েকটি তথ্যচিত্রের ভিউ কয়েক কোটি ছাড়িয়েছে। এইচবিও ও হুলুতেও আলোচনায় এসেছে পুরোনো খুনের মামলা, সন্দেহভাজনদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং তদন্তের ফাঁকফোকর।

সংখ্যাগুলোই এই ধারার জনপ্রিয়তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ। নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের দর্শক-প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছে। ১৫ মে মুক্তি পাওয়া দ্য ক্র্যাশ ওই ছয় মাসে পেয়েছে ৬ কোটি ৫২ লাখ ভিউ। ১২ জুন মুক্তি পাওয়া ম্যাটারনাল ইনস্টিংক্ট দেখা হয়েছে ৫ কোটি ৪ লাখ বার। এ ধরনের সংখ্যা বোঝায়, ট্রু ক্রাইম এখন আর কুলুঙ্গি ধারা নয়, মূলধারার দর্শকের নিয়মিত পছন্দ।

দ্য ক্র্যাশের গল্পটি একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনা দিয়ে শুরু হয়। গ্যারেথ জনসন পরিচালিত এই তথ্যচিত্রে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। শুরুতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্ত এগোতে থাকলে অন্য সম্ভাবনা সামনে আসে। পুলিশের ক্যামেরার ফুটেজ, নজরদারি ক্যামেরার ছবি, মুঠোফোনের রেকর্ডিং, আদালতের দৃশ্য আর পরিবারের সাক্ষাৎকার মিলিয়ে নির্মাতা দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি তদন্তের গতিপথ বদলে যেতে পারে। মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই এটি নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষে ওঠে।

ম্যাটারনাল ইনস্টিংক্টের বিষয় আরও ভিন্ন। জেসিকা ডিমক পরিচালিত এই তথ্যচিত্রে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করা হয়েছে। গর্ভধারণের মিথ্যা দাবি, প্রতারণার দীর্ঘ প্রক্রিয়া আর পারস্পরিক বিশ্বাসের ভাঙন এখানে মূল বিষয়। জুনের মাঝামাঝি মুক্তি পেয়েও ছবিটি প্রথম ছয় মাসে ৫ কোটি ৪ লাখ ভিউ পেয়েছে।

তালিকায় আরও আছে স্কাই বার্গম্যান পরিচালিত দ্য আইডাহো মার্ডার্স। ২০২২ সালে আইডাহোতে চার বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিন পর্বের এই সিরিজ ২৯ জুলাই নেটফ্লিক্সে আসার পর প্রথম সপ্তাহেই পায় ১ কোটি ৮২ লাখ ভিউ। লুসি বাউডেনের দ্য মার্ডার অব র‍্যাচেল নিকেল ১৯৯২ সালের লন্ডনের একটি হত্যাকাণ্ডকে নতুন করে সামনে এনেছে, প্রথম ছয় মাসে এর ভিউ ১ কোটি ৩৯ লাখ। ডমিনিক সিভিয়ারের দ্য ইনভেস্টিগেশন অব লুসি লেটবি ব্রিটেনের নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটের মামলা নিয়ে, এর ভিউ ২ কোটি ৮৪ লাখ।

মারিনা জেনোভিচের দ্য ট্রুথ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি অব মোরিয়াহ উইলসন একজন প্রতিভাবান সাইক্লিস্টের জীবন ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে, প্রথম ছয় মাসে ২ কোটি ২৮ লাখ ভিউ পেয়েছে। আলেকজান্দ্রা লেসির আ টক্সিক লাভ স্টোরি সম্পর্কের ভাঙন, হুমকিমূলক বার্তা ও প্রতিশোধের পরিকল্পনা নিয়ে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ১ কোটি ৮০ লাখ ভিউ পেয়েছিল। এইচবিও ম্যাক্সের মার্ডার ইন গ্লিটারবল সিটি ২০১০ সালের লুইসভিলের একটি খুনের মামলায় দুই সন্দেহভাজনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তুলে ধরেছে। ম্যাথিউ গ্যালকিনের আ কিলার স্টোরি ২০০২ সালের কানসাসের একটি জোড়া হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে। হুলুর ওয়েলকাম টু দ্য ফ্যামিলি ২০১৪ সালে ফ্লোরিডায় আইনজীবী ড্যান মার্কেলের হত্যাকাণ্ডের পারিবারিক বিরোধ ও পরিকল্পনার অভিযোগ নিয়ে।

এত ভিন্ন ঘটনা একসঙ্গে জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ আছে। প্রথমত, দর্শক জানেন ঘটনাগুলো বাস্তবে ঘটেছে, তাই কোনো অস্বাভাবিক মোড়কে নিছক চিত্রনাট্যের কৌশল বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, পুলিশি ফুটেজ, সাক্ষাৎকার, ফোনের বার্তা আর আদালতের নথি সামনে এলে দর্শক নিজেও সূত্র মেলানোর চেষ্টা করেন। তৃতীয়ত, একাধিক পর্বে গল্প বলার সুযোগ থাকায় তদন্তের ধাপ, সন্দেহভাজনদের অতীত আর পরিবারের প্রতিক্রিয়া বিস্তারিতভাবে দেখানো যায়।

তবে এই জনপ্রিয়তার একটি সতর্ক দিকও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা নতুন দর্শক আনলেও অনেক সময় প্রমাণের চেয়ে অনুমান বেশি ছড়িয়ে পড়ে, আর বাস্তব মানুষ অনলাইন বিচারের শিকার হন। আদালতে প্রমাণিত তথ্য, অভিযোগ আর বিশেষজ্ঞদের মতামতকে আলাদা করে দেখানোই এ ধরনের তথ্যচিত্রের বড় দায়িত্ব। দর্শককে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া আর কোনো প্রমাণিত ঘটনাকে অস্বীকার করা এক বিষয় নয়।

বাংলাদেশের দর্শকের জন্য এই তালিকার তাৎপর্য হলো, নেটফ্লিক্স, এইচবিও ম্যাক্স ও হুলুর এই ট্রু ক্রাইম কাজগুলো এক জায়গায় করে দেখা যায়, কোন ধারা এখন সবচেয়ে বেশি দেখা হচ্ছে। দ্য ক্র্যাশ আর ম্যাটারনাল ইনস্টিংক্টের কোটি কোটি ভিউ বোঝায়, বাস্তব অপরাধের গল্প এখন স্ট্রিমিংয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আকর্ষণগুলোর একটি। তবে দেখার সময় মনে রাখা জরুরি, পর্দার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন বাস্তব মানুষ, তাঁদের পরিবার আর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন