বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে সাত লাখ পর্যটকের ঢল, হোটেলে ৯০ শতাংশ বুকিং

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ছবি: Wikimedia Commons (ছবি: Kritzolina, CC BY-SA 4.0)

শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। ছুটির প্রথম দিন গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকেই সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন নগরীর হোটেল-মোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পূজার এই পাঁচ দিনের ছুটিতে সাত লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে কক্সবাজারে। সাধারণত নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সমুদ্রের ঢেউ, সৈকতের মনোরম পরিবেশ ও অনুকূল আবহাওয়া উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুটির শুরুতেই লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তিনি জানান, পাঁচ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ পর্যটক আসার প্রত্যাশা, সেই হিসাবে পাঁচ দিনে সাত লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে, এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকেরা। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠছেন, কেউ বালুচরে হাঁটছেন, আবার কেউ প্রিয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করছেন। ঘোড়ায় চড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়াসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত এলাকা। কয়েকজন পর্যটক জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে বেশ ভালো সময় উপভোগ করছেন।

সৈকতের ব্যবসায়ীরা বলেন, ছুটির প্রথম দিন সকাল থেকেই সৈকতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক মানুষও সৈকতে ঘুরতে আসছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকসহ জেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে।

এত বড় ভিড়ে নিরাপত্তাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। বিশেষ করে সাগরে গোসলের সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা। সংস্থাটির উদ্ধারকর্মী মো. সেলিম উদ্দীন জানান, ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামা জরুরি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতসহ জেলার সব পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটনশিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সব সময় তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাঁরা নজরদারি করছেন যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঢল? নভেম্বরে আনুষ্ঠানিক শীত-মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই চাপ আসলে আগাম সংকেত: আসন্ন মৌসুমে হোটেল-সংকট আরও তীব্র হতে পারে। যারা শীতকালে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখনই হোটেল বুকিং করা ও নিরাপত্তা-নির্দেশনা মেনে সাগরে নামার বার্তা এই খবরের মূল শিক্ষা। পাশাপাশি এটি সেন্টমার্টিনের চলতি মৌসুম-শুরুর পর্যটক-চাপের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে, দেশের উপকূলীয় পর্যটনের একযোগে জেগে ওঠার চিত্র তৈরি করছে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার