বিনোদন ঝলক
সিনেমা

আজ স্টার সিনেপ্লেক্সে 'ক্লেফেইস': ডিসির বডি-হরর ভিলেন, গল্পটা কী

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৩ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
'ক্লেফেইস' সিনেমার মুক্তি নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

গ্ল্যামারের ঝলমলে দুনিয়া থেকে মুহূর্তেই অন্ধকার জগতে রূপান্তরের গল্প নিয়ে আজ প্রেক্ষাগৃহে এলো ডিসি কমিকসের 'ক্লেফেইস'। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি, আর আন্তর্জাতিক মুক্তির এই বিশেষ দিনেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে এসেছে স্টার সিনেপ্লেক্স। ফলে বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে ঢাকার দর্শকও দেখতে পারবেন ডিসির এই ব্যতিক্রমী ছবি।

প্রচলিত সুপারহিরো অ্যাকশনের গণ্ডি পেরিয়ে 'ক্লেফেইস'কে সাজানো হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক ও বডি-হরর ধাঁচে। ব্যাটম্যানের চেনা কমিক দুনিয়ায় ক্লেফেইস এমন এক চরিত্র, যার শরীর কাদার মতো অনায়াসে রূপান্তরিত হতে পারে। ক্ষণে ক্ষণে নিজের রূপ বদলে অন্য মানুষের চেহারা ধারণ করার এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর ক্ষমতা রয়েছে তার। ফলে এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্পের পরতে পরতে জমে উঠেছে ভয়, পরিচয়-সংকট আর অস্বাভাবিক শারীরিক রূপান্তরের নানা রহস্য।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ম্যাট হ্যাগেন নামের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতা। নিজের মেধা ও পরিশ্রমে গোথাম শহর থেকে ধীরে ধীরে হলিউডের জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই স্থানীয় এক অপরাধী চক্রের হামলায় মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যায় তাঁর সুন্দর মুখমণ্ডল। এক লহমায় তছনছ হয়ে যায় তাঁর ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও স্বপ্নের ভবিষ্যৎ। আপনজন ও সহকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিলে নিজের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরে পেতে তিনি দ্বারস্থ হন এক অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার।

চিকিৎসাটি তাঁকে আগের চেহারা ফিরিয়ে দিলেও সঙ্গে নিয়ে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর শরীর ও মননে শুরু হয় বিকৃতি। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় তাঁর মানবিকতা ও বাস্তবতার সমীকরণ, আর ভর করে শুধুই হিংস্র প্রতিশোধের নেশা। এভাবেই একজন স্বপ্নবাজ অভিনেতা রূপ নেন ডিসি কমিকসের অন্যতম ভয়ংকর ভিলেনে। সৌন্দর্য হারানোর যাতনা, মানসিক বিপর্যয় আর প্রতিশোধের তীব্র বাসনা, এই তিনটি স্রোত মিলেই ছবির গল্প এগিয়ে যায়।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন জেমস ওয়াটকিন্স, আর চিত্রনাট্য লিখেছেন মাইক ফ্ল্যানাগান। এই যুগলবন্দিই ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। ফ্ল্যানাগান হরর ধাঁচের গল্প বলায় সিদ্ধহস্ত, আর ওয়াটকিন্সের পরিচালনায় সেই গল্প পেয়েছে সিনেমাটিক গভীরতা। মুখ গলে যাওয়া বা আকৃতি পরিবর্তনের অস্বস্তিকর দৃশ্য এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার অন্ধকার দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে, এমনটাই বলা হচ্ছে।

অভিনয়ে আছেন একঝাঁক তারকা। নাম ভূমিকায় টম রিস হ্যারিস, আর তাঁর সঙ্গে নাওমি অ্যাকি, ম্যাক্স মিঙ্গেলা, ডেভিড ডেনসিক এবং এডি মারসন। সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে 'ক্লেফেইস'। চিত্রনাট্যের গভীরতা, অনবদ্য ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং মেকআপের নিখুঁত কারসাজির কারণে ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের নজর কেড়েছে এটি।

বাংলাদেশের দর্শকের জন্য সুখবর হলো, আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই স্টার সিনেপ্লেক্স ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে এনেছে। ফলে স্পয়লারের ভয় ছাড়াই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেখা যাবে এই বডি-হরর অভিজ্ঞতা। যাঁরা প্রচলিত সুপারহিরো ছবির বাইরে ভিন্ন স্বাদের সিনেমা খোঁজেন, তাঁদের জন্য 'ক্লেফেইস' হতে পারে এই সপ্তাহের সেরা পছন্দ।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার