গত বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে শিহাব শাহীনের ওয়েব ফিল্ম ক্যাফে আমব্রেলা। মুক্তির দুই দিন পর, ৩১ অক্টোবর সমকালে প্রকাশিত দুটি সাক্ষাৎকারে ছবির দুই মুখ্য শিল্পী বিদুষী বর্ণিতা ও তৌসিফ মাহবুব জানিয়েছেন, প্রথম সাড়া কেমন পাচ্ছেন, চরিত্রগুলো ধরতে কতটা কষ্ট হয়েছে, আর এই গল্প কেন শুধু প্রেমের মিষ্টি মুহূর্তের গল্প নয়। লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর মঞ্চ থেকে অভিনয়ে আসা তিন নতুন মুখের অভিষেক হিসেবেও ছবিটি নিয়ে আগ্রহ ছিল আগে থেকেই, মুক্তির পর সেই আগ্রহ এখন শিল্পীদের নিজের কথায় নতুন করে সামনে এলো।
বিদুষী বর্ণিতার জন্য ক্যাফে আমব্রেলা প্রথম কাজ, আর সেই কারণেই ছবিটি তাঁর কাছে ভীষণ বিশেষ। সমকালকে তিনি বলেছেন, দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। মুক্তির পর তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা কাজটি দেখছেন, তাদের কাছ থেকে ভালো লাগার কথা শুনছেন। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে দর্শকের কাছ থেকে এমন সাড়া পাওয়া অনেক বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন তিনি। আশা করছেন, আরও বেশি মানুষ কাজটি দেখবেন এবং তাদের মতামত জানাবেন।
চরিত্রের দিক থেকে বিদুষীর চ্যালেঞ্জটা ছিল উল্টো। তিনি অভিনয় করেছেন সামিরা নামের এক অভিনেত্রীর চরিত্রে। বাস্তব জীবনে তিনি অভিনয়ের জগতে একেবারে নতুন, অথচ সামিরা পেশায় একজন অভিনেত্রী। ফলে তাঁর জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদুষী। তবে এই ভিন্নতাই তাঁকে চরিত্রটির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল। গল্পে ভালোবাসা, সম্পর্কের সমঝোতা এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্যের বিষয়গুলো রয়েছে, আর তাঁর মনে হয়েছে, দর্শকও গল্পের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন।
শিহাব শাহীনের মতো অভিজ্ঞ নির্মাতার সঙ্গে প্রথম ওয়েব ফিল্মে কাজ করাকে নিজের সৌভাগ্য বলেছেন বিদুষী। তাঁর ভাষায়, লাক্স সুপারস্টারের মতো এত বড় একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে না আসলে এটি সম্ভব হতো না, হয়তো অনেক বছর পাড়ি দিয়ে তাঁর সেটে কাজ করতে হতো। নির্মাতার কাজের ধরন, গল্প বলার কৌশল এবং একটি চরিত্রকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছেন তিনি, অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। সহশিল্পীদের প্রসঙ্গেও তিনি কৃতজ্ঞ। লাক্স সুপারস্টারের তিন বন্ধুর সঙ্গে আবারও একসঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দ পেয়েছেন, আর পার্থ শেখ, জিলানী ও তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে শুটিংয়ের সময় তৌসিফের সহযোগিতা তাঁর জন্য বেশ সহায়ক ছিল।
বিদুষীর ব্যক্তিগত যাত্রাটাও এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু হয়েছিল খুব ছোটবেলায়, শিশুশিল্পী হিসেবে। এরপর দীর্ঘ বিরতি গেছে, বড় পরিসরে কাজ করার মতো একটি প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলেন তিনি। অডিশন দিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে কাজ করা সম্ভব নয়, অনেক কষ্টদায়ক বলে মনে করেন তিনি। লাক্স সুপারস্টার তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রতিযোগিতার সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল, কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি, সুস্থ হয়ে আবার চেষ্টা করেছেন। এই অর্জন তাঁকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে। এখনো পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, ছোটবেলা থেকেই সেটে বই খাতা নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে।
বড় পর্দায় অভিষেক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল বিদুষীকে। রায়হান রাফির সিনেমায় শরিফুল রাজের বিপরীতে অভিনয়ের যে খবর শোনা যাচ্ছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মানুষ এসব গুঞ্জন ছড়াচ্ছে, তিনি নিজেও জানেন না। তবে একটি সিনেমায় কাজের বিষয়ে কথা হচ্ছে, এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না, প্রোডাকশন হাউস থেকে বিস্তারিত জানাবে। বেশ কিছুদিন ধরে কাজের প্রস্তুতি ও রিহার্সাল চলছে, চূড়ান্ত বিষয়গুলো পরিচালকই জানাবেন। অর্থাৎ বড় পর্দার খবরটি এখনো গুঞ্জনের স্তরেই আছে, নিশ্চিত ঘোষণা নয়।
তৌসিফ মাহবুবের কথায় ক্যাফে আমব্রেলার গল্পের আরেকটি দিক স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, নাম শুনে অনেকে হয়তো ক্যাফেকেন্দ্রিক গল্প ভাবতে পারেন, কিন্তু এটি মূলত মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সম্পর্কের গল্প। এতে চারটি আলাদা গল্প রয়েছে, গল্পগুলো আলাদাভাবে এগোলেও একপর্যায়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হবে। শুধু প্রেমের মিষ্টি মুহূর্ত নয়, সম্পর্কের জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝি, মান অভিমান, সবই উঠে এসেছে এই গল্পে। তাঁর মনে হয়, দর্শক নিজেদের জীবনের সঙ্গে মেলানোর মতো অনেক কিছুই এতে খুঁজে পাবেন। ছবিতে তৌসিফ অভিনয় করেছেন একজন পেশাদার পাইলটের চরিত্রে, যা তাঁর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল।
সব মিলিয়ে ক্যাফে আমব্রেলা এখন শুধু মুক্তির খবর নয়, মুক্তি পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার পর্যায়ে ঢুকেছে। লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর সেরা তিন প্রতিযোগী বিদুষী বর্ণিতা, নাযাহ নাওয়ার ও আমিনা ইসলামের অভিনয় অভিষেক, শিহাব শাহীনের পরিচালনা, চার জুটির সমান্তরাল গল্প আর আইস্ক্রিনে দেখার সুযোগ, এই সবকিছু মিলেই ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছে। যারা এখনো দেখেননি, তারা আইস্ক্রিনে গিয়ে দেখতে পারবেন, আর যারা দেখেছেন, তাদের মতামতই এখন ঠিক করবে, নতুন এই তিন মুখের যাত্রা কতদূর যাবে।
