ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫ শেষ হচ্ছে। ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি নিজেই জানালেন এই খবর। ১৭তম চ্যাপ্টার দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে এই সিজন। শেষ চ্যাপ্টার এ মাসেই, অর্থাৎ নভেম্বরেই মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন অমি। তবে ঠিক কোন তারিখে চ্যাপ্টার ১৭ আসবে, সেটা এখনো জানাননি তিনি। যারা সিজন ৫-এর শুরু থেকে সঙ্গে আছেন, তাদের জন্য এই ঘোষণা একই সঙ্গে অপেক্ষার আর বিদায়ের খবর। এই গাইডে অমির ঘোষণা, সিজন ৫-এর পুরো যাত্রা, চ্যাপ্টার ১৬-এ কী হলো, ফিনালেতে কী নিশ্চিত আর কী শুধুই ভক্তদের অনুমান, সিজন ৬-এর প্রশ্ন, আর কোথায় দেখবেন, সব যাচাই করা তথ্য এক জায়গায় সাজানো হয়েছে।
অমি তার ভিডিও বার্তায় বলেন, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ফাইভের শেষ চ্যাপ্টার এ মাসেই রিলিজ হতে যাচ্ছে। এই লাস্ট চ্যাপ্টারে এমন অনেক জিনিস থাকছে, যেটা আপনারা অনেক বছর ধরে চাইছেন। সবাই প্রস্তুতি নিন লাস্ট চ্যাপ্টারের জন্য। এই কথাটুকুই এখন পর্যন্ত ফিনালে নিয়ে নির্মাতার পক্ষ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় সূত্র। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দর্শকদের দীর্ঘদিনের চাওয়া কিছু জিনিস শেষ চ্যাপ্টারে থাকবে। কিন্তু সেগুলো ঠিক কী, কোন চরিত্রের কোন গল্পের সমাপ্তি হবে, তা তিনি খোলাসা করেননি। তাই শেষ চ্যাপ্টারের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কিছু লেখা যাবে না। ঘোষণা এলে অফিসিয়াল মাধ্যমেই প্রথম জানা যাবে।
অমির এই ভিডিও বার্তার আরেকটি দিকও দর্শকের নজর কেড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। দাঁত ও গলার সমস্যায় ভুগছিলেন, কয়েকদিন কথাও বলতে পারেননি। ভিডিও বার্তায় তিনি জানালেন, এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছেন, গলার অবস্থারও উন্নতি হয়েছে। অসুস্থতার কারণে সিজনের কাজে বিরতি পড়েছিল কি না, তা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। তবে সুস্থ হয়ে ফিরে প্রথম বড় ঘোষণাটাই তিনি দিলেন সিজন ৫-এর সমাপ্তি নিয়ে। ভক্তদের অনেকেই মন্তব্যে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন, পাশাপাশি শেষ চ্যাপ্টার নিয়ে নিজেদের কৌতূহলের কথাও লিখেছেন।
ঘোষণার পর দর্শকের সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অমির পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টারও কম সময়ে প্রায় সাড়ে আট হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে, মন্তব্য ছাড়িয়েছে পাঁচশ। ভিডিওটির ভিউ প্রায় এক লাখ ছুঁয়েছে। মন্তব্যে দর্শকদের কেউ রোকেয়াকে দেখতে চাইছেন, কেউ শিমুলকে দেখতে চাইছেন, কেউ আবার জানতে চাইছেন পঞ্চম সিজন শেষ হওয়ার পর ষষ্ঠ সিজন আসবে কি না। এই সংখ্যাগুলোই বুঝিয়ে দেয়, ব্যাচেলর পয়েন্ট এখনো দর্শকের কাছে কতটা জীবন্ত একটি নাম। একটি সিজনের সমাপ্তির ঘোষণা এলে সাধারণত মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসে, এখানেও তাই হয়েছে। কেউ শেষ চ্যাপ্টারের অপেক্ষায় উচ্ছ্বসিত, কেউ আবার সিজন শেষ হয়ে যাচ্ছে ভেবে মন খারাপের কথা লিখেছেন।
সিজন ৫-এর যাত্রাটা মনে করিয়ে নেওয়া যাক। ঈদুল আজহা ২০২৫ উপলক্ষে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে একসঙ্গে আটটি নতুন পর্ব দিয়ে শুরু হয়েছিল পঞ্চম সিজন। এরপর ১০ জুলাই ২০২৫ থেকে নতুন পর্ব আসতে থাকে বুম ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে, প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। একই সঙ্গে ১০ জুলাই থেকে চ্যানেল আইতেও প্রচার শুরু হয়, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাত আটটা বাজার দশ মিনিট আগে, পরদিন ভোর ও দুপুরে পুনঃপ্রচারসহ। সিজন ৫-এর পর্বগুলো চ্যাপ্টার বা অধ্যায় আকারে আসে, প্রতিটি চ্যাপ্টারে সাধারণত আটটি পর্ব থাকে। এই কাঠামোতেই সিজনটি এগিয়েছে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। চ্যাপ্টার ১৬ এসেছে ২০ অক্টোবর ২০২৬, আর এখন চ্যাপ্টার ১৭ দিয়ে সিজনের পর্দা নামতে যাচ্ছে।
চ্যাপ্টার ১৬ দিয়ে ফিনালের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির সময়, নির্ধারিত বৃহস্পতিবারের দুদিন আগেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গতে উন্মুক্ত হয় চ্যাপ্টার ১৬, পর্ব ১২১ থেকে ১২৮। এই চ্যাপ্টারের কেন্দ্রীয় মঞ্চ ছিল গ্লোবাল গ্যাংস্টার ইংলিশ লেবুর প্যালেস। অভিনেতা আ খ ম হাসান ইংলিশ লেবু চরিত্রে অভিনয় করেছেন, আর তিনিই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে ব্যাচেলর গ্যাং এবার পুরো রয়্যাল মুডে ইংলিশ লেবুর প্যালেসে যাচ্ছে। আভিজাত্যপূর্ণ পরিবেশ, রাজকীয় আয়োজন আর তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নতুন অঘটনের ইঙ্গিত, এই তিনটি উপাদান দিয়েই চ্যাপ্টার ১৬-এর উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
তবে চ্যাপ্টার ১৬ শুধু রাজকীয় পরিবেশ আর হাসির গল্পে আটকে থাকেনি। এখানেই এসেছে সিজনের অন্যতম আলোচিত মোড়। পাশা ভাইয়ের আবেগঘন মুহূর্ত আর বিপদে বন্ধুদের একসঙ্গে পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য দর্শকের মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে। এতদিন যে পাশা ভাইকে দর্শক মূলত কঠোর, কিপ্টে আর ভয় দেখানো চরিত্র হিসেবে চিনত, এই চ্যাপ্টারে তার অন্য একটি দিক সামনে এসেছে। বন্ধুত্ব, মমতা আর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের গল্পটি হাসির ভেতর দিয়ে এমনভাবে বলা হয়েছে যে অনেক দর্শক নিজেদের জীবনের বন্ধুদের কথা মনে করেছেন। চ্যাপ্টারের শেষ দিকে অ্যাকশনের ঝলকও রাখা হয়েছে, যা পরের চ্যাপ্টার নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিনালের ঘোষণা আসার পর এখন বোঝা যাচ্ছে, চ্যাপ্টার ১৬-এর শেষের সেই ইঙ্গিতগুলোই ছিল শেষ চ্যাপ্টারের দিকে যাওয়ার সেতু।
চ্যাপ্টার ১৬-এর পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ স্পষ্ট। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, একদল দর্শক লিখেছেন পর্ব দেখতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। আরেকদল লিখেছেন, সিজন ১ থেকে পাশা ভাইকে মাফিয়া ধাঁচের চরিত্রে দেখে এলেও এবার তার নিষ্পাপ আর আবেগী দিকটি নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। ইফতেখার আহমেদ নামে এক দর্শক লিখেছেন, পুরো সিজনে পাশা ভাই ছিল কিপ্টে আর পাষাণ মনের, কিন্তু চ্যাপ্টার ১৬-তে এসে পাশা ভাই কেঁদেছেন, কাঁদিয়েছেন তার ভাই ব্রাদারদের। শেখ ফারদিক নামে আরেক দর্শক লিখেছেন, বন্ধুত্বকে যেভাবে ব্যাচেলর পয়েন্টে তুলে ধরেছে, এরকম আর কোনো সিরিয়ালে আগে দেখিনি। সাকিব হোসেন নামে এক দর্শকের ভাষ্য, সাত বছর আগে ব্যাচেলর বাসায় এসে সবাইকে ভয় দেখানো পাশা ভাইয়ের জন্যই সাত বছর পর সবাই একসঙ্গে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিক্রিয়াগুলোই বুঝিয়ে দেয়, পাশা ভাইয়ের পরিবর্তন কেন সিজন ৫-এর সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সিজন ৫-এর মূল চরিত্রগুলো দর্শকের অনেকদিনের চেনা। কাবিলা চরিত্রে জিয়াউল হক পলাশ, পাশা চরিত্রে মারজুক রাসেল, হাবু চরিত্রে চাষী আলম, নেহাল চরিত্রে তৌসিফ মাহবুব, আরেফিন চরিত্রে শামীম হাসান সরকার, জাকির চরিত্রে পাভেল, মতলব চরিত্রে ইশতিয়াক রোমেল আর রকি চরিত্রে জাফরুল আবেদিন অভিনয় করছেন। এর বাইরেও আছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া, মনিরা মিঠু, আবদুল্লাহ রানা, শামীমা নাজনীন, মুসাফির সৈয়দ বাচ্চু ও মালু দেওয়ান। নতুন চ্যাপ্টারে যুক্ত হয়েছেন ইন্তেখাব দিনার ও আনিসুল ববি। আর চ্যাপ্টার ১৬-এর পর্বগুলোতেই ১২৭তম পর্ব থেকে মতলবের স্ত্রী ঝিলিক চরিত্রে এসেছেন রিয়া বর্মন। এই কাস্ট তালিকা মনে রাখলে ফিনালে দেখার সময় কে কোন সম্পর্কে জড়িয়ে আছে, তা ধরতে সুবিধা হয়। ফিনালেতে কোন নতুন মুখ আসবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
এবার সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্ন, ফিনালেতে আসলে কী থাকছে। এখানে নিশ্চিত তথ্য আর ভক্তদের অনুমানকে আলাদা করে দেখা জরুরি। অমির কথায় শুধু এটুকুই নিশ্চিত, শেষ চ্যাপ্টারে দর্শকের অনেক বছর ধরে চাওয়া কিছু জিনিস থাকছে। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা কাবিলা আর রোকেয়াকে ঘিরে, অনেকেই বলছেন শেষ চ্যাপ্টারে তাদের বিয়ে দেখতে চান, আবার কেউ বলছেন রোকেয়া চরিত্রে সাফা কবিরকে ফিরতে দেখতে চান। এগুলো এখনো পর্যন্ত শুধুই ভক্তদের অনুমান ও চাওয়া। অমির ঘোষণাকে কাবিলা রোকেয়ার বিয়ে বা সাফা কবিরের ফেরার নিশ্চিতকরণ হিসেবে লেখা যাবে না। একইভাবে শিমুল চরিত্রের ফেরার দাবিও সামাজিক আলোচনার অংশ, অফিসিয়াল নিশ্চয়তা নয়। দর্শকের চাওয়া আর নির্মাতার ঘোষণা, এই দুটোকে গুলিয়ে ফেললে ভুল খবর তৈরি হয়। তাই এই গাইডে এই বিষয়গুলো সম্ভাবনা বা দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হলো, নিশ্চিত খবর হিসেবে নয়।
সিজন ৬ আসবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও এখনো অজানা। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দর্শকদের অনেকে এই প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু এ নিয়ে আপাতত কিছুই বলছেন না নির্মাতা। অর্থাৎ সিজন ৬ নিশ্চিত নয়, আবার বাতিলও নয়, বিষয়টি এখনো খোলা। এর আগে সিজন ৫-এর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, অমি ধাপে ধাপে ঘোষণা দেন, একবারে পুরো পরিকল্পনা জানান না। তাই সিজন ৬ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটাও সম্ভবত এভাবেই জানা যাবে। আপাতত দর্শকের মনোযোগ পুরোটাই চ্যাপ্টার ১৭-এর দিকে। শেষ চ্যাপ্টারটি কেমন হলো, তার ওপরই হয়তো নির্ভর করবে সিজন ৬-এর আলোচনা কোন দিকে যায়।
কোথায় দেখবেন, সেই ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার। নতুন চ্যাপ্টার সবার আগে আসে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে। চ্যাপ্টার ১৬-এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, আর চ্যাপ্টার ১৭-এর ক্ষেত্রেও একই ধারা আশা করা যায়। এর পাশাপাশি ধারাবাহিকটি প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইতে এবং বুম ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে। অর্থাৎ বৈধভাবে দেখার উপায় তিনটি। বুম ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে নতুন পর্ব বিনামূল্যে দেখা যায়, প্রতি পর্বের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মিনিট। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু প্রোমো আপলোড থেকেই বুম ফিল্মসের চ্যানেলে ছয় লাখের বেশি নতুন সাবস্ক্রাইবার এসেছিল, যা এই সিরিজের চাহিদার একটা মাপকাঠি। কোনো অনানুষ্ঠানিক ডাউনলোড লিংক বা পাইরেটেড কপি দিয়ে দেখার চেষ্টা করা উচিত নয়। শুধু যে সেটা অবৈধ, তা নয়, সেসব কপিতে প্রায়ই ভুল, অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের ভিডিও থাকে, আর নির্মাতাদেরও ক্ষতি হয়। অফিসিয়াল মাধ্যমেই দেখলে ছবি ও শব্দের মান ঠিক থাকে, আর নতুন চ্যাপ্টারের ঘোষণাও সবার আগে সেখানেই আসে।
ব্যাচেলর পয়েন্ট কেন এতদিন ধরে টিকে আছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও এই গাইডের অংশ। প্রথমত, এর হাসি খুব পরিচিত জীবন থেকে আসে। ব্যাচেলর বাসা, টাকার টানাটানি, বন্ধুদের খুনসুটি, পরিবারের চাপ, এই বিষয়গুলো দর্শকের নিজের জীবনের সঙ্গে মেলে। দ্বিতীয়ত, চরিত্রগুলো সময়ের সঙ্গে বদলেছে। পাশা ভাইয়ের মতো চরিত্র একরকম থেকে যায়নি। তৃতীয়ত, সিজন ৫-এ এসে গল্পে আবেগ আর অ্যাকশনের মিশেল এসেছে, যা শুধু হাসির ধারাবাহিকের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বঙ্গের বর্ণনায়ও এই বিষয়টিই উঠে এসেছে, ঢাকায় একসঙ্গে থাকা একদল তরুণ ব্যাচেলরের ছাত্রজীবন, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার গল্প, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে লড়াই করতে হয় প্রত্যেককে। এই তিনটি কারণ মিলেই ব্যাচেলর পয়েন্টকে শুধু কমেডি সিরিজ নয়, একটি প্রজন্মের দেখার অভ্যাসে পরিণত করেছে।
যারা সিজন ৫ এখনো শুরু করেননি, তাদের জন্য দেখার ক্রমটা সহজ করে বলা যায়। চ্যাপ্টার ১৬ দিয়ে শুরু করা যায়, কারণ এর নিজস্ব গল্পের সূত্র আছে। কিন্তু পাশা ভাইয়ের পরিবর্তনটা পুরোপুরি অনুভব করতে চাইলে তার আগের চ্যাপ্টারগুলো দেখে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে পাশা, কাবিলা আর হাবুর সম্পর্কের ধারাবাহিকতা জানা থাকলে চ্যাপ্টার ১৬-এর আবেগঘন দৃশ্যগুলো আরও বেশি অর্থবহ লাগে। আর যারা শুধু হাসির পর্ব খুঁজছেন, তারা আগের চ্যাপ্টারগুলোর হালকা মেজাজের পর্বগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন। চ্যাপ্টার ১৭-এর আগে অন্তত চ্যাপ্টার ১৬ দেখে নিলে ফিনালের রেফারেন্সগুলো ধরতে সুবিধা হবে, কারণ ফিনালে সরাসরি চ্যাপ্টার ১৬-এর শেষের ইঙ্গিতগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে বলেই মনে হয়।
সিজন ৫-এর ফেরাটাই ছিল একটা বড় ঘটনা। ২০২৫ সালের ১ জুন গুলশানের একটি ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় পঞ্চম সিজনের কথা। অমি সেখানে বলেছিলেন, ধাপে ধাপে সাত বছরে এখন পাঁচটি সিজনে পৌঁছেছি। দর্শকের চাহিদাতেই ২৬ মাস পর সিজন ৫ ফিরছে। তিনি আরও বলেছিলেন, আগের সিজনগুলো তিনি টেলিভিশন ও ইউটিউবের মান অনুযায়ী বানিয়েছিলেন, কিন্তু গত দুই বছরে বেশ কিছু ওয়েব কনটেন্ট বানিয়ে সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, আর সেই সিনেমাটিক ছোঁয়া নতুন সিজনের পরিচালনায় রাখতে চান। এই কথাগুলোই ব্যাখ্যা করে কেন সিজন ৫-এর চেহারা আগের সিজনগুলোর চেয়ে আলাদা মনে হয়েছে অনেক দর্শকের কাছে। ঈদের দিন বঙ্গ অ্যাপে প্রথম আটটি পর্ব একসঙ্গে আসে, তারপর জুলাইয়ের প্রথম বৃহস্পতিবার থেকে আরও পর্ব আসতে থাকে।
সিজন ৫-এর আরেকটি বড় অধ্যায় ছিল নেপাল পর্ব। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে নেপালে সিজন ৫-এর শুটিং চলছিল, কাবিলা, হাবু, পাশা, নেহাল আর আরেফিনসহ প্রধান চরিত্রগুলো সেখানে শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছিলেন। নেপালি অভিনেত্রী রাজশ্রী থাপাও কাস্টে যুক্ত হয়েছিলেন, আর নেপালে তোলা দৃশ্যগুলো এসেছে চ্যাপ্টার ১২-এ। অমি জানিয়েছিলেন, চরিত্রগুলো নেপালে গেলে কী করবে, সেটা কল্পনা করেই তিনি এই পর্বের পরিকল্পনা করেছিলেন, আর দশ দিনের শুটিংয়ের জন্য সবাইকে নেপালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঢাকার ব্যাচেলর বাসা থেকে বেরিয়ে পাহাড় আর লেকের দেশে গল্প নিয়ে যাওয়া সিজন ৫-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রমাণ। এই নেপাল অধ্যায়ের পর গল্প আবার ঢাকায় ফিরে আসে, আর ধীরে ধীরে এগোয় চ্যাপ্টার ১৬-এর প্যালেস আর পাশা ভাইয়ের আবেগঘন মোড়ের দিকে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে আরও কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া যাক। প্রশ্ন, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫ কবে শেষ হচ্ছে। উত্তর, চ্যাপ্টার ১৭ দিয়ে, নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই। প্রশ্ন, চ্যাপ্টার ১৭-এর নির্দিষ্ট তারিখ কবে। উত্তর, এখনো ঘোষণা হয়নি। প্রশ্ন, চ্যাপ্টার ১৬-এ কয়টি পর্ব ছিল। উত্তর, পর্ব ১২১ থেকে ১২৮, মোট আটটি পর্ব। প্রশ্ন, চ্যাপ্টার ১৬ কোথায় সবার আগে এসেছিল। উত্তর, বঙ্গতে, ২০ অক্টোবর ২০২৬। প্রশ্ন, ইংলিশ লেবু কে। উত্তর, গ্লোবাল গ্যাংস্টার চরিত্র, অভিনয় করেছেন আ খ ম হাসান, আর তার প্যালেসই চ্যাপ্টার ১৬-এর মূল মঞ্চ। প্রশ্ন, সিজন ৬ আসবে কি। উত্তর, নির্মাতা এ নিয়ে এখনো কিছু বলেননি। প্রশ্ন, শেষ চ্যাপ্টার কোথায় দেখবেন। উত্তর, সবার আগে বঙ্গতে, তারপর চ্যানেল আই আর বুম ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে।
সব মিলিয়ে সিজন ৫-এর বর্তমান অবস্থা এটাই। চ্যাপ্টার ১৬ এসে গেছে, প্যালেসের গল্প, পাশা ভাইয়ের আবেগ আর শেষের অ্যাকশনের ইঙ্গিত দিয়ে। নির্মাতা জানিয়ে দিয়েছেন, চ্যাপ্টার ১৭-ই শেষ চ্যাপ্টার, আর সেটা আসছে নভেম্বরের মধ্যেই। কাস্ট আগের মতোই শক্তিশালী, সঙ্গে নতুন মুখও আছে। দেখার বৈধ উপায় পরিষ্কার, বঙ্গ সবার আগে, তারপর চ্যানেল আই ও বুম ফিল্মসের ইউটিউব। আর চ্যাপ্টার ১৭-এর নির্দিষ্ট তারিখ আর সিজন ৬-এর প্রশ্ন এখনো খোলা। এই গাইডটি ৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ঘোষিত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। চ্যাপ্টার ১৭-এর তারিখ ঘোষণা হলে বা সিজন ৬ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে গাইডটি যাচাই করা তথ্য দিয়ে আপডেট করা হবে। আপাতত চ্যাপ্টার ১৬ দেখে থাকলে প্যালেসের গল্প আর পাশা ভাইয়ের মোড় নিয়ে আপনার মতামতই এই সিজনের সবচেয়ে জীবন্ত আলোচনা।
